১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারের দোকান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৪৩ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার


হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারের দোকান

১২ মাসের মধ্যে শুধু মাত্র একটি মাসের জন্য অপেক্ষায় থাকে লোহার কারিগররা। আর এ একটি মাসে দা, বটি, ছুরি, চাকু, চাপাতি, রাম দা সহ বিভিন্ন প্রকারের ধারালো জিনিসপত্র কোরবানীর ঈদের জন্য তৈরি করেন। রাত দিন কাজ করে বিশ্রাম নেওয়ার মতো সময় পাওয়া যেতো না। এ এক মাসের উপার্জনের টাকা দিয়ে পুরো বছরের লাভ ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে নিতে।

২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ঈদ। বিত্তবানরা নিজেদের সমর্থ অনুযায়ী কোরবানী দিবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে তাই কোরবানী ও কোরবানীর গোস্ত কাটার সরঞ্জাম তৈরী ও সান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারের দোকানগুলো।

প্রচীন পেশাগুলোর অন্যতম হচ্ছে কামার। একসময় এই পেশার মানুষ অনেক পাওয়া গেলেও এখন আর তেমন দেখা যায় না। গ্রামে এখনো এই পেশার মানুষ কিছুটা পাওয়া গেলেও  শহরে এর সংখ্যা খুব কম। নারায়ণগঞ্জ শহরে হাতে গোনা যে কয়টা কামারের দোকান আছে সেই দোকানগুলোর কয়েকটিতে ঘুরে দেখা যায় বেশ ব্যস্ততায় দিন পার করছেন তারা। ভোরে দোকান খুলে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করতে পারছেন না কামাররা। কোরবানী ও কোরবানীর মাংস কাটার প্রয়োজনীয় উপকরণ ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ইত্যাদি সান দিতে ব্যস্ত। ঈদের সময় কাজ নিয়ে খুশি থাকলেও অন্যান্য সময় কাজ না থাকার হতাশাও প্রকাশ করেন কামাররা।

নিজেদের ব্যস্ততা এবং জীবনযাপন নিয়ে পারিবারিক সূত্রে এই কাজ পাওয়া ৪০ বছর ধরে কর্মরত ষাটোর্ধ্ব বয়সী কামার নূর ইসলামের সাথে কথা হলে জানা যায় তার জীবনের নানা গল্প। সেই সাথে উঠে আসে এই পেশায় থাকা মানুষের করুণ অবস্থার গল্প।

তিনি জানান, বাপ দাদার কাছ থেকে এই পেশা পেয়েছি। তাদের কাজ থেকে কাজ শিখেছি। অন্য কিছু করতে ভালো লাগে না। তাই এই পেশা ছাড়তে পারি না। এক সময় ভালোই কাজের অর্ডার পেতাম। কিন্তু এখন তেমন পাওযা যায় না। দিন চালাতে কষ্ট হয়।

এসময় তিনি তাদের পাশে সরকারকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। নয়তো এই পেশা এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও যানান তিনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ