৮ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

পুন:জরিপে শীতলক্ষ্যার ভেতরেই মিললো অসংখ্য সীমানা নির্ধারণী পিলার


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার


পুন:জরিপে শীতলক্ষ্যার ভেতরেই মিললো অসংখ্য সীমানা নির্ধারণী পিলার

বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরে আপত্তিকৃত ২১৫৮টি সীমানা নির্ধারনী পিলারের পুন:জরিপ কার্যক্রম চলছে। শীতলক্ষ্যার উভয় তীরে গড়ে ওঠা অন্তত ৭০ টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে সীমানা নির্ধারণী পিলার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সিমেন্ট কারখানা, ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার পরিদর্শনকালে শীতলক্ষ্যা নদীর মধ্যেই সীমানা নির্ধারণী পিলার স্থাপনের দৃশ্য দেখতে পেয়েছে পুন:জরিপকারী দল। 

জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৬ মে তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি টার্স্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত টার্স্কফোর্স কমিটি নদীর সীমানা পিলার স্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে নদীর তীর ও ফোরশোরের জায়গা এবং নদীসমূহের বর্ষাকালীন স্বাভাবিক প্রবাহ বিবেচনায় এনে সীমানা নির্ধারণ পূর্বক হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে পিলার পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত দেন। যাতে বিআইডব্লিউটিএ, গণপূর্ত ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শীতলক্ষ্যা নদীতে স্থাপনকৃত ৫০১১টি সীমানা পিলারের মধ্যে ২১৫৮টি সীমানা পিলারের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। ওইসকল পিলার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়নি। যার মধ্যে শীতলক্ষ্যার পূর্বতীরের ১ হাজার ৩৫৬টি পিলার রয়েছে। শীতলক্ষ্যার উভয় তীরে গড়ে ওঠা অন্তত ৭০ টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে সীমানা নির্ধারনী পিলার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়নি। ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নদী রক্ষা কমিশনের সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম পিলার ভুল জায়গায় স্থাপন করা হলে সেগুলো দ্রুত পুণরায় সঠিকস্থানে স্থাপন করার মধ্যে দিয়ে নদী রক্ষার নির্দেশ দেন। 

প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এবং নদী রক্ষা টার্স্কফোর্স কমিটির নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যৌথ উদ্যোগে ২১৫৮টি সীমানা নির্ধারনী পিলারের পুন:জরিপ কাজ ২০১৭ সালের ৯ আগষ্ট থেকে শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক। প্রতি মাসে কয়েক কর্মদিবস নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শীতলক্ষ্যার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সীমানা নির্ধারণী পিলার পুন:জরিপ কার্যক্রম চলে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে ও ৪ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় সীমানা নির্ধারণী পিলারের পুন:জরিপ কার্যক্রম চলে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পুন:জরিপকালে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের এসিল্যান্ড মোঃ আনিসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কানুনগো ও সার্ভেয়ার মোঃ আরিফ এবং রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় পুন:জরিপকালে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ সার্কেলের এসিল্যান্ড মোঃ আসাদুজ্জামান, সার্ভেয়ার মোঃ জামাল হোসেন। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পক্ষে ছিলেন উপ পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজ, সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ আলম মিয়া, কারিগরী সহকারী মো: রাশিদুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মুশফিকুর রহমান, সার্ভেয়ার ইয়াসিন দেওয়ান সহ বিআইডব্লিউটিএ`র অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারী ও আনসার সদস্য।

বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ জানান, শীতলক্ষ্যায় সীমানা নির্ধারণী পিলারের পুন:জরিপকালে দেখা গেছে অনেক পিলার বর্তমানে পানির মধ্যে অবস্থান করছে। যার মধ্যে রূপগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশী। অনেক পিলার আরো ৫০ থেকে ৬০ফুট উপরের দিকে পুন:স্থাপন করতে হবে। আমরা যেসকল পিলার পুন:স্থাপন করতে হবে সেগুলোকে শনাক্ত করছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ