৪ আশ্বিন ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নবীগঞ্জ ঘাট : ভাঙলো না উড়ে গেল খবর নেওয়ার কেউ নেই!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৮ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ছবিগুলো ফেসবুকে নাহিদ ভূইয়া সোহাগের পোস্ট থেকে নেওয়া

ছবিগুলো ফেসবুকে নাহিদ ভূইয়া সোহাগের পোস্ট থেকে নেওয়া

বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া এতো দিন শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার না হলেও এখন নতুন করে প্রতিদিন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড়ে আসতে হয় বন্দর কদম রসূল এলাকার বাসিন্দা সিয়াম আওলাদকে। দশম শ্রেনি পর্যন্ত বন্দর এলাকার স্কুলে পড়ালেখা করলেও বড় স্বপ্ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সরকারি তোলারাম কলেজে একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি হয়েছে সে। আর সেই জন্যই প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নদী পার হতে হয়। আর এতে করে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পরতে হয় সিয়ামকে। কখনো নৌকার জন্য আবার কখনো ঘাটের বাঁশে বাধা অস্থায়ী জেটিতে। এরই মধ্যে বাঁশের জেটি থেকে পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছে সে। আঘাতের চিহ্নিগুলোও এক হাতে দেখায়। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ সিয়ামের। সিয়ামের মতো আহত হয়েছেন অনেকেই। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে নদী পারাপারে সকল যাত্রীদের মধ্যে।

৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটে পৌছানোর সময় নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন সিয়াম। পরে সিয়ামের কথার সঙ্গে অন্যরাও তাদের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন। 

সিয়াম আরো জানান, ফেরি হয়েছে ঠিকই কিন্তু ফেরি এপার থেকে ওপারে পৌছাতে অনেক সময় লেগে যায়। তাছাড়া যাত্রী সব সময়ে ট্রলার ও নৌকায় না উঠ পর্যন্ত ছাড়েও না। এসব কারণে নৌকায় যাতায়াত করে সে। তবে মাঝে মাঝে ঘাটের বেহাল দশা থেকে মুক্তিপেতে ফেরি দিয়েও যাতায়াত করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটের বাশের জেটির অবস্থা খুবই ভঙ্গুর। নৌকা থেকে বাঁশের জেটিতে পা দিলেই নড়তে শুরু করে। আবার সামনে অংশে কাঠগুলো বাঁকা হয়ে আছে। কাঠগুলো কাঁদা মাটিতে পিছিল হয়ে থাকে। সঠিক ভাবে পা না ফেললে যেকেউ নদীতে পরে যাবে। আর বাশে কাঠের সঙ্গে লেগে গুরুতর আহত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়াও বাশের দুই পাশের মধ্যে মানুষ যাওয়া আসার জন্য যথেষ্ট ব্যবধান না থাকায় চলাচলে সময় একজন মানুষ অন্যজনের শরীরে পরে যায়। এতে করে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নারীরা। একবার নদী পারাপারে জন্য ২টাকা নিলেও ঘাটে কোন ইজারাদার না থাকায় ভোগান্তির বিষয়ে কাউকে অভিযোগও দিতে পারেন না সেখানকার যাত্রীরা।

নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সোহেল তাজ বলেন, নবীগঞ্জ এলাকায় বাসা ভাড়া কম হওয়ায় পোশাক কারখানার কয়েক হাজার নারী পুরুষ শ্রমিক সেখানে বসবাস করেন। আর সকাল ৮টার আগেই সেসব শ্রমিকদের জন্য ঘাট ভীড় হয়ে থাকে। তবে যাতায়াতে জন্য তেমন কোন সু ব্যবস্থা না থাকায় মানুষকে কষ্ট করেই পারাপার হতে হয়। আর দিনের পর দিন সেই চাহিদা বেড়ে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, ফেরিতেও চলাচল করে তবে সেটা যাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে তারা। নদীর এপাড় থেকে ওপারে যেতে কম করেও ফেরিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। আর ঘাটে গাড়ি ওঠানাময় আরো ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এভাবে প্রতিবারে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লেগে যায়। কিন্তু নৌকায় মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিটে পারাপার হওয়া যায়। এসব কারণে যাত্রীরা ফেরিতে উঠে না। নৌকায় বেশি চলাচল করে। ফেরি হওয়ায় ভালো হয়েছে যে অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি গুলো যাতায়াত করতে পারে সহজে। কিন্তু মানুষকে নৌকাই বেশি ব্যবহার করতে হয়।

নদী পারাপার হওয়া হাসিনা বেগম বলেন, ঘাটে কেউ নেই যে সমস্যাগুলো বলবো। বাঁশের মধ্যে দিয়ে হেটে যেতে গেলে একজন আরেকজনের শরীরের উপরে চলে আসে। উঠতে গেলেই কাঁপে। ভয়ে ভয়ে নৌকায় উঠতে হয়। আমাদের সমস্যাগুলো শোনার মানুষও নাই।

তিনি আরো বলেন, এমপি সাহেব ফেরি দিয়েছে আমাদের জন্যই। কিন্তু নৌকা ঘাটতো আর বন্ধ হবে না। কারণ ফেরিতে সময় লাগে এজন্য মানুষ নৌকায় চলে। এমপি সাহেব যদি অন্য ঘাটের মতো এ ঘাটেও একটা স্থায়ী জেডি ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে সমস্যা সমাধান হতো।

এসময় নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটের কোথাও কোন ইজারাদার দেখা যায়নি। এমনকি ভাঙা ঘাটের মেরামতের জন্য তেমন কেউ ছিল না। এ বিষয়ে নৌকার মাঝিরা বলেন, এমপি সাহেব ঘাট ফ্রি করে দেওয়ার পর থেকে কোন ইজারাদার থাকে না। ঘাট ভেঙে গেলো না উড়ে গেলে সেটা দেখার কেউ নাই। আমরা মাঝিরা যাত্রী পারাপারে জন্য ঘাটগুলো মাঝে মাঠে ঠিক করে নেই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ