২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

UMo

সাক্ষরতা শতভাগ করতে কাজ করছে স্বপ্নডানা


সোহেল রানা, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার


সাক্ষরতা শতভাগ করতে কাজ করছে স্বপ্নডানা

স্বপছোঁয়ার বাসনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ফতুল্লার চাঁদমারীতে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্নডানা স্কুল। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সকলের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক সময় স্কুলটির আশেপাশের এলাকাটি ছিল মাদকের আখড়া। চাঁদমারি বস্তির এম কেউ বাকি ছিল না যে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। অধিকাংশ শিশুরাই ছিল স্কুল বিমুখি। অভিভাবকদের মাঝেও কোনো আগ্রহ ছিল না। এতে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল বস্তির শিশুরাও। পরবর্তিতে ২০১৪ সালে ১ সেপ্টেম্বর তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাউছুল আজম স্কুলটি প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে মাদক নির্মূলের সূচনা ও বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরী করেন। প্রায় ৪ বছর পরে এখন সেই স্বপ্ন অনেকটাই সফল। বস্তিটিতে মাদকের বিস্তার অনেকটাই কমেছে। স্কুল মুখি হতে শুরু করেছে সুবিধা বঞ্চিত বস্তির শিশুরা। তারাও এখন স্বপ্ন দেখছে বড় হবার। স্বপ্ন দেখছে মানুষের মত মানুষ হবার।

শিশুদের পাশাপাশি এখানে ব্যবস্থা আছে বয়স্কদের শিক্ষার ব্যবস্থা। বয়স্কদের জন্য বাংলা ও আরবি পড়ার সুবিধা করা হয়েছে। সন্ধা ৭টা থেকে প্রদিনি বয়স্কদের পড়ানো হয়।

পড়ার সুযোগ পেয়ে খুশি এখাকার সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও অভিভাবকরা। শিশুদের মুখে এখন চাঁদের হাসি। তারাও এখন স্কুলে আসতে পারছে, পড়তে পারছে।

স্কুলটির শিক্ষার্থী মনির মা আসমা বেগম বলেন, ‘আগে মাইয়া স্কুলে যাইতো না। সারা দিন বাসায় বইসা থাকতো আর টিভি দেখতো। এখন প্রতিদিন স্কুলে যায়। অনেক কিছু শিখছে।’

বিদ্যালয়টির সূচনা লগ্ন থেকে এর সাথে থাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা আতিকের সঙ্গে কথা হলে তার মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে স্কুলটি নিয়ে নানান স্বপ্নের কথা। তার নিজেরও স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করা। যে কারণে স্কুলটির সাথে যুক্ত হয়েছেন। শুরুর দিকে নানান সমস্যা থাকলেও থেমে যাননি তিনি।

তিনি বলেন, শুরুতে আমি এখানে একজন সাধারণ শিক্ষিকা হিসেবেই যুক্ত হই। আমাদের কোনো বেতন ছিল না পরবর্তিতে ডিসি মহোদয়ের পক্ষ থেকে আমাদের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলটি মূলত বিভিন্ন সংগঠনের অনুদানের মাধ্যমে চলে। ডিসি মহোদয় প্রতিনিয়ত স্কুলটির খোঁজ খবর রাখছেন। কমিটি না থাকা অবস্থায় তিনি সরাসরি আমাদের অনেক সহায়তা করেছেন। স্কুলের ফানডে টাকা না থাকলে তিনি শিক্ষকদের বেতন সহ অন্যান্য খরচ বহন করতেন। এখন কমিটি আছে তাই কমিটির মাধ্যমেই অধিকাশ কাজ করা হয়। এক বছর অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন অনেকটাই ভালো চলছে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বস্তির শিশুদের জন্য হলেও এখন বিদ্যালয়টিতে অনেক জায়গা থেকে বাচ্চারা পড়তে আসে। দুই শিফটে ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে। আমাদের ৭ জন শিক্ষক রয়েছে। যাদের কেউ কেউ বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের আগের থেকে ভালো সেবা আমরা দিতে পারছি। পড়াশোনার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু ফ্রি। বই, খাতা, কলম, ড্রেস সব কিছুই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। অভিভাবকরা যাতে সচেতন থাকেন সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে। টাকার লোভে যাতে বাচ্চাদের স্কুলে আসা বন্ধ করে না দেন এ জন্য মাঝেমাঝে অভিভাবকদের জন্যও বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়। ঈদের আগে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু দেওয়া হয়। যাতে বাচ্চাদের পাশাপাশি অভিভাবকদের বিদ্যালয়মুখি করা যায়।

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়টিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। শ্রেনি কক্ষ চারটা থাকলেও দুইটির মেঝেতে সমস্যা রয়েছে। যে কারণে সেখানে ক্লাস করানো যায় না। এখন দুইটি শ্রেনি কক্ষে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তেব শ্রেনি কক্ষ দুইটির মেরামতের কাজ দ্রুত ধরা হবে। এখন দুই শিফটে শ্রেনি কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে নার্সারি ও ১ম শ্রেনির ক্লাস হয়। আবার ১০টা থেকে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনির ক্লাস হয়।

প্রধান শিক্ষিকা আরো বলেন, এখানে যেহেতু সবাই সুবিধা বঞ্চিত পরিবার থেকে আসা শিশু। তাই, এখান থেকে পঞ্চম শ্রেনি পাশ করে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ঝড়ে না পরে তাই পরবর্তিতে পড়াশুনার খরচ বহনের জন্য আমরা অনুদানের ব্যবস্থা করব। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা তাদের দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে একটি সুশিক্ষিত স্বনির্ভর দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব।

 

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ