২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

UMo

হেলে পড়া আইনজীবী সমিতির ভবন ঝুঁকিতে


সাবিত আল হাসান (স্টাফ করেসপনডেন্ট) || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার


হেলে পড়া আইনজীবী সমিতির ভবন ঝুঁকিতে

অপরিকল্পিত নির্মাণ নকশা আর অবহেলা অযত্মে রুগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন। পুরো ভবনে আইনজীবীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকটা গাদাগাদি করে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তাঁরা। দিনের পর দিন কষ্ট শিকার করে ভবনে অবস্থান করলে এর উত্তরণে কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি কাউকে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা থাকলেও আইনি জটিলতা ও আইনজীবীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তা আলোর মুখ দেখছেন না।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর ওই সময়কার ও বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আইনজীবীদের জন্য এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর পর ধীরে ধীরে ভবনটি ১ তলা হতে ৪ তলায় রূপ দেয়া হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলের মতে পুরো ভবনে কোন ফাউন্ডেশন নেই। তাই অনেকটা ঝুকির মধ্যদিয়েই ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন আইনজীবীরা। ইতিমধ্যে ভবনটি পশ্চিম দিকে খানিকটা হেলে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে সমিতি ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে থেকে ভবনের অবস্থা বেশ চাকচিক্যময় হলেও ভেতরে অনেক কষ্ট সহ্য করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন আইনজীবীরা। সিড়িতে উঠতেই চোখে পড়ে দেয়ালে বিশাল ফাটল। লোডশেডিংয়ের গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েন আইনজীবীরা। নিজ আসন ছেড়ে নেমে আসেন আদালত পাড়ার ফাঁকা স্থানে। নিচ তলায় বেশ কয়েকটি এসি বসানো হলেও তা চালানো হয় না। যেন নামে মাত্রই এসি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে আর দেয়ালে এসিগুলো সাজানো বস্তু হিসেবে শোভা পাচ্ছে। মাত্র ১৮শ স্কয়ার ফিট ফ্লোরে প্রায় ১১০ জন আইনজীবী একত্রে বসেন এবং তাদের মক্কেলরা অবস্থান করেন। পুরো ৪ তালা ভবনের ৩টি ফ্লোরেই গণটেবিল বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। ৩য় তলায় হাতে গোনা কয়েকটি চেম্বার আর মহিলা আইনজীবীদের নামাজ ঘর।

১২০০ আইনজীবীদের জন্য পুরো ভবনে টয়লেট রয়েছে মাত্র ৯টি। এর ভেতর বেশ কয়েকটি তালাবন্ধ ও পাওয়া যায়। জায়গা সংকট এতটাই প্রবল যে টয়লেটের পাশেই দেখতে পাওয়া যায় আদালতে ব্যবহার্য ফাইলপত্র। টয়লেট থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ সহ্য করেই কাছাকাছি চেম্বার বা টেবিলে বসতে হচ্ছে কয়েকজন আইনজীবীদের।

নারী আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত কমনরুমের অবস্থা আরো শোচনীয় বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা। মাত্র ৩০০স্কয়ার ফিট জায়গায় প্রায় ২৫০ জন আইনজীবী তাদের ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেখানে কর্মরত ও জুনিয়র সহ প্রায় ৩৫০ জন আইনজীবীদের জন্য ১টি মাত্র বাথরুম। একই সাথ সেখানে খাওয়াদাওয়া, পোশাক পরির্তন করতে হয়।

এ ব্যাপারে জেলা ভিপি সৈয়দা ওয়াহিসা আহাম্মদ রিতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, নারীদের কমনরুমের অবস্থা শোচনীয়। সিনিয়র জুনিয়র সকলেই এই কমন রুম ব্যবহার করে। এতজন মহিলা আইনজীবীদের জন্য এটি অবর্ননীয় দুর্ভোগ ও বটে। বর্তমানে নতুন ১২০ জন নারী আইনজীবী কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। একটু রিল্যাক্স হয়ে বসার সুযোগ ও নেই তাদের। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে কমন রুমে পর্যাপ্ত সুবিধা পায় না। এছাড়া বাচ্চা নিয়ে আসা ও গর্ভবতী আইনজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তিনি জানান এ থেকে উত্তরণ পেতে একটি ফ্লোরের অন্তত অর্ধেক নারীদের জন্য প্রয়োজন।

নারী আইনজীবীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কষ্ট শুধু নারীদের একার নয়। কষ্ট পুরো ১২০০ আইনজীবীদের। আমি আজ চেম্বারে বসে বাতাস নিচ্ছি, কয়েকমাস পরে আমাকেই সাধারণ আইনজীবীদের টেবিলে গিয়েই বসতে হবে। গুটিকয়েক আইনজীবীরা এই ভবন থেকে সুবিধা পেলেও পুরো আইনজীবী সমিতি ভবনের অধিকাংশই সদস্যই এর সুফল পায় না। কয়েক বছরের ভেতরেই আরো ৫০০ জন আইনজীবী এই কোর্টে যোগদান করবে। সুতরাং এর উত্তরনের জন্য নতুন ভবনের বিকল্প নেই। এর আগেও বেশ কয়েকবার দাবি উত্থাপন করা হলেও তৎকালীন কমিটি কোন কার্যকরী ভূমিকা নেয় নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে এক সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নারায়ণগঞ্জের চারজন এমপি শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু ও হোসনে আরা বাবলী সহ আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হকের উপস্থিতিতে আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী দুই কোর্ট একসাথে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওইদিন সাংসদ সেলিম ওসমান আইনজীবীদের সুবিধার্থে বহুতল ভবন বিশিষ্ট আইনজীবী সমিতি ভবন তৈরী করে দেয়ার ঘোষণা দেন এবং আইনমন্ত্রীও এর পক্ষে সহমত প্রকাশ করে সেলিম ওসমানকে সাধুবাদ জানান।

এরপর গত ১৮ আগস্ট বহুতল ভবন নির্মানের জন্য সয়েল টেস্টের (মাটি পরীক্ষা) মাধ্যমে এর কার্যক্রমের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এরপরেই বহুতল ভবনের পক্ষে-বিপক্ষে কথা উঠতে থাকে। বাড়তে থাকে নানা গুঞ্জন। তবে সকল তথ্য উপাত্ত নিয়ে এ সংক্রান্ত দ্বিধাদ্বন্ধ দূর করতে ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিশেষ সভার আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি।

বিশেষ সাধারণ সভায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ৭ তলা প্রস্তাবিত ভবনটির নিচতলায় প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা হবে। বর্তমানে পুরো ভবনটি রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিকে প্রায় ১২শ এর অধিক আইনজীবী রয়েছেন। কোর্টে প্র্যাকটিসরত জুনিয়র আছে প্রায় ৭শ। আগামী ৩ বছরে পাশ করে আসা আইনজীবীরা কোর্টে প্রবেশ করলে অন্তত ১৭শ আইনজীবী কোর্টে বিচরণ করবে। পুরাতন এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল মাত্র ৩ থেকে ৪শ জন আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থার জন্য। দ্রুত এর বিকল্প চিন্তা না করা হলে আইনজীবীদের অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

অধিকাংশ তরুন আইনজীবীদের দাবি, খুব দ্রুতই নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু হোক। এতে করে বাইরে রোদ বৃষ্টি থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে তাদের। দীর্ঘদিনের আইনজীবীদের প্রত্যাশা আলোর মুখ খুলছে জেনে ভবন নির্মানে পুরোপুরি সম্মতি জানাচ্ছেন তারা।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ