১০ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

অদক্ষ চালক অতিরিক্ত যাত্রী বহনে শীতলক্ষ্যায় লাশের বহর


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০০ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যায় নদী পারাপারে চলাচলরত ট্রলারগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাস ধরে শীতলক্ষ্যায় যেন লাশের বহর পড়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীতে অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জের শহর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর ও রূপগঞ্জ অংশে কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে যাত্রীরা ট্রলারের মাধ্যমে পারাপার হলেও ওইসকল ট্রলারগুলোর যেমন নেই ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স তেমনি নেই ট্রলার চালকদেরও কোন প্রশিক্ষণের সনদ।

এদিকে নিহতের স্বজন হারানোর আহাজারি আর্তনাদে শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে যাতায়াত করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ নানা দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা কবলিত মানুষের মৃত্যু দেহ রীতিমত লাশের মিছিলে পরিণত হয়েছে। যা পরিসংখ্যান করলে প্রায় হাজারে গিয়ে পৌছাবে। নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে লাশের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাড়ালে এই ঝুঁকিপূর্ন যাতায়াতের মৃত্যুকূপ থেকে রেহাই পাবে বন্দরবাসী। আর কত মায়ের বুক খালি হলে শীতলক্ষ্যা নামক মানুষ খেকো নদীটি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বন্দরবাসী কপালে জুটবে সেতু? ইতোমধ্যে নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও মানুষের সেতু নিয়ে আক্ষেপের কমতি নাই।

জানা গেছে, শুক্রবার ৩১ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট আসছিল। ওইসময় উত্তর দিক থেকে বড় একটি জাহাজ ট্রলারের কাছাকাছি চলে আসলে ভয়ে জীবন বাঁচাতে তিনজন নদীতে লাফ দেয়। এসময় ট্রলারের অন্য যাত্রীরা দুইজনকে উদ্ধার করলেও হোসিয়ারী শ্রমিক কামাল নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ কামাল হোসেন কাঁশিপুর খিলমার্কেট এলাকার মৃত রহমান মিয়ার ছেলে। তাঁকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫ সদস্যের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি শুরু করে। তবে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত ওই শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর শনিবার বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত তল্লাশী চালায় ফায়ার সার্ভিস। তবে নিখোঁজ কামালকে পাওয়া না গেলেও ৫ থেকে ৬ বছর বয়সী পরিচয়হীন এক বাচ্চার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

নিখোঁজের ২দিন পর রোববার ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হোসিয়ারী কারখানা শ্রমিক কামাল হোসেনের (১৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ কামাল হোসেন কাঁশিপুর খিলমার্কেট এলাকার মৃত রহমান মিয়ার ছেলে। সে নয়ামাটি এলাকার হোসিয়ারী শ্রমিক।

গত ৮ জুলাই রাত সোয়া ৯টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী নিয়ে মদনগঞ্জ খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ট্রলারটি মোড় ঘুরাতে গিয়ে ঘাটের পাশে আগে থেকে থামিয়ে রাখা লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এসময় ট্রলারের উপরের ছাউনী ভেঙ্গে কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে ৪ জন নিখোঁজ থাকে। পরে ১০ জুলাই দ্বীন ইসলাম, রায়াত আহমেদ ইমন, আনোয়ার হোসেন ফালান ও জনি নামের চারজন হোসিয়ারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল মতলবের বেলতলীতে সোলায়মান শাহ ওরফে লেংটার মেলা শেষে ট্রলারযোগে ফেরার সময়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ খেয়াঘাট সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় নারী শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়। এরপর ওই বছরের ৫ এপ্রিল একটি সভায় নৌ দুর্ঘটনার ৭টি কারণ চিহ্নিত হয়। এগুলো হচ্ছে বিপুল পরিমাণ নৌযানের চলাচল, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অসংখ্য জাহাজ নোঙ্গর করে নৌপথ সরু করে ফেলা, নৌযানের চালকদের প্রশিক্ষণ না থাকা, খেয়া পারাপারের ট্রলারে অদক্ষ চালক, ট্রলার ও নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বালুমহাল ইজারার নামে চাঁদাবাজি, রাতের বেলায় নৌযান চলাচল করা। এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ৭টি বিষয়ে প্রতিকারের কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। প্রতি মাসেই প্রশাসনের উদ্যোগে সভা হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা খুব একটা দেখা যায়না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার পণ্যবাহী নৌযান। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদী এবং সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী দিয়েও প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার নৌযান। এছাড়া এই নদীগুলোতেও খেয়া পারাপারে রয়েছে অসংখ্য ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। বিশেষ করে বালুবাহী বাল্কহেডগুলোর দক্ষ চালকের সঙ্কট রয়েছে। অদক্ষ চালকের কারণে নদীপথে বেড়েই চলেছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। তবে কারো কারো মতে শুধু অদক্ষ চালকই নয় নৌযানগুলোর নির্মাণ ত্রুটি এবং রাত্রীকালীন সময়ে নৌযান চালানোর কারণেও ঘটছে দুর্ঘটনা।

নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, ৫নং খেয়াঘাট, নবীগঞ্জ খেয়াঘাট, টানবাজার খেয়াঘাট, মাছুয়াবাজার খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ সাধারণ মানুষ ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হয়ে থাকেন। এছাড়াও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল খেয়াঘাট, চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাট, কাঁচপুর খেয়াঘাট, সোনাকান্দা খেয়াঘাট, কয়লাঘাট ফেরীঘাট দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নদী পারাপার হয়ে থাকে। এই ঘাটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম খেয়াঘাট হচ্ছে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, ৫নং খেয়াঘাট, নবীগঞ্জ খেয়াঘাট। এই ৩টি খেয়াঘাটে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রলার চলাচল করে। তবে ট্রলারের চালকদের বেশীরভাগেরই নেই কোন প্রশিক্ষণ। নৌকার মাঝি থেকেই ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের চালক বনেছেন বেশীরভাগই। এছাড়া খেয়াঘাটগুলোতে নদী পারাপারে নিয়োজিত ট্রলারগুলোর বেশীরভাগেরই নেই ফিটনেস ও লাইসেন্স। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই ওই সকল ট্রলারগুলোতে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। বেশীরভাগ ট্রলারেই ধারনক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। চালকদের দক্ষতার অভাবে তারা অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার জানান, শীতলক্ষ্যার চলাচলরত ছোট ট্রলারগুলোর কোনটিতেই দক্ষ চালক নেই। একদম অদক্ষ চালক দিয়েই এসকল ট্রলার চলছে। এছাড়াও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ না থাকায় নদী যখন উত্তাল থাকে তখন কোন দিকে যেতে হবে কিংবা কোন বড় জাহাজ পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে কি করতে হবে তাও অনেকে জানেনা। শীতলক্ষ্যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত ট্রলারযোগে নদী পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, সারাদেশে হাজার হাজার বালুবাহী নৌযান রয়েছে। যার মধ্যে অনেকগুলোরই সনদধারী সুকানী নেই। এছাড়া ১৬ হর্স পাওয়ারের উপরে যেসকল নৌযান রয়েছে সেগুলোরও বেশীরভাগেরই দক্ষ কোন চালক নেই। অদক্ষ চালকদের কারণেই ঘটছে বেশীরভাগ দুর্ঘটনা। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের পাশাপাশি পুলিশ ও কোস্টগার্ডেরও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ কিংবা কোস্টগার্ডের পদক্ষেপ খুবই সীমিত।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জ অফিসের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, ১৬ হর্স পাওয়ারের উপরে যেসকল নৌযান রয়েছে সেগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার পাশাপাশি ৩-৪ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চালকদের ডিসপেনসন সার্টিফিকেট দেয়া হয়ে থাকে। যদিও সারাদেশে অসংখ্য লাইসেন্স বিহীন নৌযান ও সার্টিফিকেট বিহীন চালক রয়েছে। এগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, ট্রলারগুলো সাধারণত ৪-৫ হর্স পাওয়ারের। এগুলোকে লাইসেন্স দেয়া কিংবা চালকদের সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়টি আইনে নেই। যে কারণে আমরা এদেরকে কোন লাইসেন্স কিংবা সার্টিফিকেট দিতে পারছিনা।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নৌ নিট্রা বিভাগের কর্মকর্তা সমর কৃষ্ণ জানান, আমরা মাঝেমধ্যেই নদীতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করায় চালকদের অর্থদন্ড দিয়ে থাকি। কিন্তু আইনে না থাকায় ফিটনেস কিংবা সার্টিফিকেট ইস্যুতে কোন মামলা দায়ের করতে পারিনা।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেওয়াজউদ্দিন আহাম্মদ জানান, ওইসকল ট্রলারগুলোর কোনটিরই সরকারী অনুমোদন নেই। ঘাটগুলো যারা ইজারা নেয় তাদের দ্বারাই ট্রলার চালকরা নিয়ন্ত্রিত। তবে তাদেরকে অবশ্যই প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ। গত জুলাই মাসে বন্দরে যে দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ওই ট্রলারটির চালক ছিলেন একজন বোবা ব্যক্তি। নদীর মাঝখানে যদি দুর্ঘটনাটি ঘটতো তাহলে প্রাণহানি আরো বেশী হতো। তাই নৌ দুর্ঘটনা রোধে যাত্রীদেরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরতলীর সৈয়দপুর ও বন্দরের মদনগঞ্জ পয়েন্টে ১২শ ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর জন্য ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী বছরের জুলাই থেকে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। যার দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২৯০ মিটার। চারটি লেনে ১৫ মিটার চড়া হবে। তবে ২০১৮ সাল পেরিয়ে যেতে থাকলেও অদ্যাবধি শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ২০১৩ সালের ২০ জুলাই শহরের ৫ নং খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করে জাইকার ১০ সদস্যের একটি টিম। জাইকার সাউথ এশিয়ার ডিরেক্টর মিষ্টার বিটোর নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কান্ট্রি অফিসার মিষ্টার ইয়ানো, জাইকার প্রোজেক্টর ডিরেক্টর প্রকৌশলী মোঃ নুরুল্লাহ। এছাড়া নাসিকের বাজেটের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদী ২২টি উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যেও রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ৫নং ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু নির্মাণ। পরে ২০১৪ সালে বাজেট অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, শীতলক্ষ্যা সেতুতে একটি ব্রীজ নির্মাণের বিষয়ে জাইকা কমিটমেন্ট করেছে। তারা আগামী দু’তিন বছরের মধ্যেই শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের বিষয়ে কাজ শুরু করবে।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বন্দরে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মিত, শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় নামের ৩টি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ছিলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে সেটির ছিল তাঁর প্রথম আগমন। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শীতলক্ষ্যা নদীতে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে চতুর্থ শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের জন্য জোরালো দাবী তুলে বন্দরবাসী। জনগণের দাবীকে আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন ওবায়দুল কাদের। নবীগঞ্জ দিয়ে সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ফেরী চলাচল অব্যাহত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পরে ওই দু’টি ফেরী চালু হলেও ব্রীজ না থাকায় শহর ও শহরতলীর খেয়াঘাটগুলো দিয়ে প্রতিদিন শহর ও বন্দরবাসীকে নদী পারাপার হতে হচ্ছে ঝুঁকির মধ্য দিয়েই। যে কারণে দুর্ঘটনায় শীতলক্ষ্যায় লাশের বহর পড়েছে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। নদী পারাপারের যাত্রীদের দাবি সংসদ সদস্য কিংবা মেয়র যেই শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ করুন না কেন সে বিষয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নয়তো শীতলক্ষ্যায় লাশের বহর কোনভাবেই থামানো যাবেনা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ