বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে লজ্জা পান ইসদাইর সুগন্ধাবাসী

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৫ পিএম, ২ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার

বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে লজ্জা পান ইসদাইর সুগন্ধাবাসী

এখনো শুরু হয়নি ফতুল্লা ইউনিয়নের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার সড়কের সংস্কার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির মানুষ জলাবদ্ধতায় ভুগছে। বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসক, এমপির কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা দিয়েছেন আশ্বাস। কিন্তু এখনো ধরা হয়নি রাস্তাটির সংস্কার কাজ।

এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটিতে জমে কোমর সমান পানি। ফলে কোথাও যাওয়ার উপক্রম থাকেনা এলাকাবাসীর। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। প্রায় ৪বছর ধরে চলছে এলাকাবাসীর এমন দুর্দশা। রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থা যে ভরা শুস্ক মৌসুমেও রাস্তাটিতে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে ও রাস্তাটির সংস্কারের জন্য কয়েকবার করা হয়েছে মানববন্ধন ও ডিসির কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান। কিন্তু তাতেও কোনো ফায়দা পায়নি এলাকাবাসী। বাধ্য হয়ে কয়েকবার নিজেদের অর্থায়নে ড্রেন পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু আশপাশের এলাকা থেকে এই এলাকা নিচু হওয়ায় রাস্তায় আবার পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

২ অক্টোবর মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় শুস্ক মৌসুমেও রাস্তাটিতে পানি জমে আছে। জলাবদ্ধতার জন্য রাস্তার দুই ধারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। সুগন্ধা মসজিদ থেকে লিংক রোড পর্যন্ত সামান্য রাস্তাটি এখন পাঁচ থেকে দশ টাকা দিয়ে পার হতে হেচ্ছে। এতে এলাকাবাসীকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। আর যাদের অতিরিক্ত টাকা নেই তাদের ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে রাস্তাটি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান রাস্তাটি সংস্কারের কথা কয়েকবার বললেও এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গত জুলাইতে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠাগার উদ্বোধন করতে এসে তিনি ইসদাইর বাজার রাস্তা এবং সুগন্ধা সড়ক একসাথে কাজ ধরা হবে বলে জানিয়ে ছিলেন। ইসদাইর বাজার রাস্তাটির কাজ শুরু হলেও এখনো সুগন্ধা এলাকার রাস্তাটির কাজ না ধরায় হতাশা প্রকাশ করেন সুগন্ধা এলাকাবাসী। তারা জানায় যদি বর্ষা মৌসুমের আগে রাস্তা সংস্কার করা না হয়, এখন ইসদাইর বাজার উচু করায় আগামি বর্ষাতে তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ অবস্থা হবে। কারণ ইসদাইরের পানিগুলো এখানে এসে জমা হবে।

এ প্রসঙ্গে সুগন্ধা মসজিদের মুয়াজ্জেম নুরুজ্জামান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এবার পানি অনেকটাই কমেছিল। এখন কাজ ধরলে দ্রুত কাজ শেষ করা যেত। ভেবেছিলাম এবার রাস্তাটি উচু করা হবে। আমাদের আর ভোগান্তিতে থাকতে হবে না। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে আরো বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কারণ ইসদাইর বাজার এখন অনেক উচু করা হয়েছে। এখন সেই পানিও এই এলাকায় জমা হবে। এইভাবে চলতে থাকলে আর এলাকায় থাকা যাবে না। এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এমপি বলেছিলেন রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। মেম্বারের সাথে কথা বলছিলাম তিনিও বলেছিলেন যে রাস্তাটির খুব দ্রুতই কাজ ধরা হবে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছিনা। এলাকার এমন অবস্থার জন্য কোনো ভাড়াটিয়া থাকতে চায় না। কোনো আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করতে পারি না। তারা আসলে লজ্জার মুখে পড়তে হয়। তারা প্রশ্ন করে এলাকর এই অবস্থা কেন। কিন্তু কিছু বলতে পারি না।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য এলাকার ইউপি সদস্য আলী আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে টেন্ডারের ব্যপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

তিনি জানান, টেন্ডার হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। যদি টেন্ডার হয়ে থাকে তবে তো আমরা জানতেই পারবো। তবে এলাকার সব কাজ ডিসেম্বরের আগেই শেষ হয়ে যাবে। কারণ টেন্ডার হয়ে গেলে কাজ করতে বেশি দিন লাগবে না।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও