৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

UMo

বয়লার বিষ্ফোরণ : অনিরাপদ শ্রমিকদের জীবন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০৬ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


বয়লার বিষ্ফোরণ : অনিরাপদ শ্রমিকদের জীবন

আবারো কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটেছে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা। অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রের ফলে দীর্ঘদিন দুর্নাম কুড়িয়েছিল দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর বিদেশ থেকে সৃষ্ট চাপের ফলে মালিকেরা শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করতে বাধ্য হয়। তবে এখনো নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ কারখানায় অনিরাপদ বয়লার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে চলছে অনিরাপদ বয়লার ব্যবহার। তারই সর্বশেষ বলির শিকার ফতুল্লার দক্ষিণ শেহাচর এলাকায় অবস্থিত নাসির ডাইং এ বয়লার বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিক সেলিম। আহত আরো একজন শ্রমিক ঢামেক বার্ন ইউনিটের বেডে কাতরাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর ৫টায় বিকট শব্দে কারখানার ভেতরে থাকা বয়লারটির বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় চিৎকারের শব্দ শুনে দৌড়ে এসে আশেপাশের লোকজন দেখে সেলিম ও আব্দুল্লার নামে দুই শ্রমিককে মূমুর্ষ অবস্থায় কারখানা থেকে নিয়ে যাচ্ছে মালিক পক্ষের লোকজন। এরপর কারখানার গেটে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় মালিক পক্ষের লোকজন।

ইতোমধ্যে ওই কারখানার জমির মালিক ও ভাড়াটিয়া মালিক দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিহত শ্রমিকের বাবা। কারখানাটির গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধ কিনা তা তদন্ত চলছে। এছাড়া যে বয়লারটি বিস্ফোরণ হয়েছে তার কি ধরনের বৈধতা রয়েছে তাও যাচাই বাছাই করা হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জমির মালিক শাহ আলম ও কারখানার মালিক ইসরাফিল এ দুজনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আমিনুল ইসলাম।

বর্তমানে কারখানাগুলোতে বয়লারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের একটি বিশেষ বিভাগ রয়েছে। তাদের কাজ ঠিকভাবে বয়লার  বসানো হয়েছে কিনা এবং এটি কি অবস্থায় আছে তা পরীক্ষা করে দেখা। এই বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ধরণের দুর্ঘটনার কারন পুরাতন বয়লার মেরামত করে ব্যবহার এবং বয়লারটি যেভাবে যার মাধ্যমে চালানো হয়, সেখানে ত্রুটির কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দুই ধরনের বয়লারের ব্যবহার রয়েছে দেশে। একটি গ্যাস চালিত অপরটি কয়লা বা লাকড়ি চালিত।

ফতুল্লার নাসির ডাইং এর কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা যায় সেখানে চালিত বয়লারটি লাকড়ির সাহায্যে চলত। বিষ্ফোরিত বয়লারটি ছিল অন্য একটি রপ্তানীমুখী কারখানার পুরাতন বয়লার যা মেরামত করে এখানে ব্যবহার করা হত। এছাড়া সেখানে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যেম প্রদত্ত গ্যাস অনুমোদন কিনা তা নিয়ে পরিষ্কার তথ্য দিতে চাননি কেউ।

জানা যায়, বাসাবাড়ির গ্যাস লাইনের অনুমোদন নিয়ে সেটা শিল্প কারখানায় ব্যবহার করা হত। আর এর সাথে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানির অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার হান্নানুর রশিদ রঞ্জু বলেন, এই কারখানা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশে পাশের আবাসিক ভবনের লোকজনও অভিযোগ করেছিল এর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রশ্ন নিয়ে। কিন্তু জমির মালিক শাহ আলম গায়ের জোড় দেখিয়ে কারখানাটি পরিচালনা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল ইসরাফিলের জন্য। যার ফলশ্রুতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই বিষ্ফোরনের ব্যাপারে অবগত আছি। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে তদন্তের দায়ভার আসেনি। তদন্তের দায়িত্ব আসলে সুষ্ঠ ভাবেই তা পালন করা হবে।

বয়লার বিস্ফোরিত হবার কারন অনুসন্ধান করে জানা যায়, বয়লারে একটি সেফটি ভাল্ব থাকে, যা একটি নির্দিষ্ট চাপে বা প্রেসারে সেট করা থাকে। বয়লারের অবস্থা অনুযায়ী ওই চাপ নির্ধারণ করা হয়। প্রেসার এর চেয়ে বেশি হলে সেফটি ভাল্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার কথা। প্রেসার বেশি হওয়ার পরেও সেফটি ভাল্ব ওপেন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ