এবার চমক নেই বলদেব জিউর পূজা মণ্ডপে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার



ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

বরাবরই কোনা না কোন নিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য হাজির হন শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় এবারও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক ও এর আলোকসজ্জা। এর সঙ্গে থাকবে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে প্রতিমার সাজসজ্জা সহ মণ্ডপের কারুকাজ। এর ধারাবাহিকতায় চলছে কাজ। কিন্তু এতো কিছুর পরও আয়োজক কমিটি বলছে এবার কোন চমক নেই!।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলেন বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন এবার কোন চমক নেই! তবে যা আছে সেগুলোই ভক্ত দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। এর প্রস্তুুতিই চলছে জোরেসোরে।

বাপ্পী বলেন, গত বছর মন্দির সামনে স্থায়ীভাবে যে ফটক তৈরি করা হয়েছিল জগবন্ধু বলরামকে মধ্যে রেখে ডানে বামে লক্ষ্মীনারায়ণ ও মহাদেব। তারই নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। আর এবার জগবন্ধুর মাথার উপর একটা ছাতা করা হবে। দৃষ্টিনন্দন র্ঝণা ও আলোকসজ্জায় আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ী মন্দির হওয়ায় মণ্ডপের ভিতরে তেমন কোন কাজ না করতে পারলেও সেখানেও নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে।’

তিনি বলেন, এবার শাড়ির প্রতিমা হবে। আর তাতেই থাকবে দেশী সংস্কৃতিতে শাড়ি পড়ানোর নতুনত্ব। এছাড়াও যেহেতু এক বছর মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা থাকে সেইজন মণ্ডপের ভিতরের কারুকাজেও দৃষ্টিনন্দন ও টেকশই করা হচ্ছে। আশা করি পূজার আগেই সব কাজ সুন্দর ভাবে শেষে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরের বাইরে প্রধান ফটকে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। এছাড়াও মন্দিরের ভিতরে চলছে প্রতিমা ও ককসিটের কারুকাজ। এর পাশেই রুমে ছলছে ধোয়া মুছার কাজও। আর এক পাশের রুমে বসে পূজার বিষয়ে কথা বলছেন আয়োজকেরা।

জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রধান ফটক তৈরি করে আসছেন বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দির পূজা কমিটি। যে জেলা জুড়ে আকর্ষণের কেন্দবিন্দু হয়ে উঠে। একই সঙ্গে সঙ্গে ফটকের দিক থেকে প্রথম স্থানেই থাকেন তারা। জেলার পাশাপাশি ঢাকা ও আশেপাশের জেলা থেকেও এ মন্দিরের পূজা ও ফটক দেখার জন্য। তবে সেই তুলনায় এবারের আয়োজন অনেক কম।

পূজার বাজেট সম্পর্কে বাপ্পী বলেন, এবছর পূজার ব্যায় ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। তবে তার মধ্যে থেকে মণ্ডপের প্রবেশ দ্বার, প্রসাদ বিতরণ, মায়ের প্রতিমাতে সব থেকে বেশি টাকা ব্যয় করা হয়ছে। পূজার ৩দিন মন্দিরের পুষ্পাঞ্জলী, প্রসাদ বিতরণ ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ দ্বারের আলোকসজ্জা করা হবে। বলদেব জিউর আখড়া মন্দির হওয়ার কারণে এবং দেবী দূর্গার আলাদা স্থান থাকায় প্রতিমা বির্সজন করা হয় না। দেবী বিসর্জনের পরিবর্তে সিধুর খেলা হয়। মায়ের আশীর্বাদ স্বরূপ একজন নারী আরেক জন নারীর মাথায় সিধুর দিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা থাকলেও মন্দিরের দেবী মায়ের প্রতিমায় কোন কারুকাজ করা সম্ভব হয় না। ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা ধর্মীয় নিয়ম নীতি অনুযায়ী করতে হয়। মূলত্য এটা একটি মন্দিরের পূজা। তাই প্রতিমা বিসর্জন করা হয় না। ১২ মাস মায়ের প্রতিমা রাখা হয় এবং পূজা করা হয় এজন্যই আমরা তেমন কিছু করতে পারি না। শুধু প্রতিমার পোষাক পড়ানোর কলা কৌশল পরিবর্তন করা হয়।’

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে পরিস্থিতি নিয়ে কোন শংকা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাপ্পী জানান, বিগত ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি আগামীতেও কোন কিছুই হবে না। তারপরও দুষ্কৃতিকারীরা এসব কিছু মানে না। আমরা সর্তক থাকবো। এর আগে নিতাইগঞ্জ মোড়ে অনেকগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। প্রয়োজনে এবার আরো কিছু বাড়ানো হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক সহ পুলিশ সকলই থাকবে মন্দিরে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ ভাবেই পূজা শেষ হবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও