৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ

rabbhaban

৪ যুবককে হত্যা : উদ্ধারকৃত নোয়া ছিনতাই হয়েছিল ৪ মাস আগে!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার


৪ যুবককে হত্যা : উদ্ধারকৃত নোয়া ছিনতাই হয়েছিল ৪ মাস আগে!

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ৪ যুবককে মাথার পেছনের দিকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় উদ্ধারকৃত একটি সিলভার কালারের নোয়া মাইক্রোবাসটি (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০৫০১) ৪ মাস আগে ছিনতাই হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি থানায় কল করে ওই মাইক্রোবাসটি তার নিজের দাবি করে জানিয়েছিলেন। যদিও তিনি পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করেননি। তবে ওই কলের পরে উদ্ধারকৃত নোয়া মাইক্রোবাসটি নিয়ে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এর আগে নিহত মাইক্রোবাস চালক লুৎফরের স্ত্রী দাবি করেছিলেন মাইক্রোবাসটি তার স্বামী চালাতেন এবং টিভিতে তারা মাইক্রোবাসটির ফুটেজ দেখে লুৎফরের বিষয়টি নিশ্চিত হন।

আড়াইহাজার থানার এসআই রফিকউদ্দৌলা জানান, রোববার অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি থানার ডিউটি অফিসারের কাছে কল করে জানিয়েছিলেন উদ্ধারকৃত সিলভার কালারের নোয়া মাইক্রোবাসটি (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০৫০১) তার। সেটা ৪ মাস আগে ছিনতাই হয়েছিল। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় জিডিও করা হয়েছিল। তখন ডিউটি অফিসার তাকে বলেছিল কাগজপত্র থাকলে থানায় এসে যোগাযোগ করতে।

এ বিষয়ে জানতে আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোববার অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি উদ্ধারকৃত নোয়া মাইক্রোবাসটি তার নিজের বলে দাবি করেছিল। কিন্তু সোমবার রাত অবধি ওই ব্যক্তি থানায় যোগাযোগ করেনি।

উল্লেখ্য আড়াইহাজারে নিহত চারজনের মধ্যে একজন ছিলেন মাইক্রোবাস চালক লুৎফর মোল্লা। নিহত লুৎফর ফরিদপুরের ভাঙা থানার উত্তর আকনবাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার মনসুর মোল্লার পুত্র। তারা থাকেন ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেক এলাকায়।

নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা বেগম জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী লুৎফর ঢাকার রফিক মিয়ার মাইক্রোবাস চালায়। শুক্রবার রাতে ঢাকায় একটি ট্রিপ আছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেক রাতেও বাড়ি না ফিরলে তাঁর (স্বামী) মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় তারা চিন্তিত পড়েন এবং অনেক স্থানে খোঁজাখুজি করলেও লুৎফরের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরের দিন শনিবার রামপুরা থানায় একটি জিডি করা হয়। তিনি জানান, আজ (রোববার) সকালে টিভিতে দেখে আড়াইহাজার থানায় যান এবং সেখানে মাইক্রোবাস দেখে তারা নিশ্চিত হন এই গাড়িই তার স্বামী চালাতেন। পরে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে এসে দেখেন তাঁর স্বামী লাশ হয়ে মর্গে পড়ে আছে।

নিহত লুৎফর মোল্লার ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, তার ভাইয়ের এক ছেলে রিশাত ৮ম শ্রেণিতে ও মেয়ে লিজা ৫ম শ্রেণিতে ঢাকার একটি হাইস্কুলে পড়ছে। তিনি জানান, লুৎফর মোল্লা আগে ঢাকায় জসীমের গাড়ি চালাতেন। এ মাসের এক তারিখ থেকে রফিকের গাড়ি চালান। জানতে চাইলে তিনি জানান, তার ভাই কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এদিকে নিহত মাইক্রোবাস চালক লুৎফর রহমান মোল্লার স্ত্রী মাইক্রোবাসটি তার স্বামী চালাতেন এমন দাবি করলেও আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কল করে গাড়িটি ৪ মাস পূর্বে ছিনতাই হয়েছে বলে দাবি করেছেন। ফলে উদ্ধারকৃত মাইক্রোবাসটি আসলে কার সেটা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য রোববার ২১ অক্টোবর ভোরে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের দীঘির পাড় এলাকা থেকে ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে দু’টি দেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার এবং একটি নেয়া মাইক্রোবাস (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০৫০১) জব্দ করে পুলিশ। ৪ জনকেই খুব কাছ থেকে মাথার পেছন দিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। রোববার বিকেলে নিহত মাইক্রোচালক লুৎফর মোল্লার লাশ শনাক্তের পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে বাকী ৩ জনের লাশ শনাক্তের পর বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ