চুরি হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমির মাটি

রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৩৮ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার



চুরি হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমির মাটি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরি হয়ে যাচ্ছে কৃষকের ফসলী জমির মাটি। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেকু নামের যন্ত্র দানব দিয়ে তুলে নিচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের বছর জুড়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন। কেউ বা নিজের শেষ সম্বল, কেউবা বর্গায় চাষ করতেন এসব জমি। অনেক জমি আবার আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়কৃত। চতুর মাটি ব্যবসায়ীরা কৌশলে, প্রভাব খাটিয়ে আবার কখনো রাতের আধারে চুরি করে মাটি কেটে চালান দিচ্ছেন স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। এতে করে তারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠলেও কৃষি পরিবারগুলোতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা আর হাহাকার। প্রকাশ্যে এই মাটি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক আর কুতুবপুর এলাকায় কাটা হচ্ছে এ মাটি।

জানা যায়, ভোলাব এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা শতাধীন ইটভাটায় মাটির যোগান দিতে ভেকু যন্ত্র দিয়ে গভীরভাবে তুলে নেয়া হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। জমির মালিকদের অল্প কিছু টাকা দিয়ে জোর জবরদস্তি করে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছে কৃষক। কেউ জমির মাটি বিক্রি করতে না চাইলে হুমকি দেয়া হচ্ছে প্রাননাশের। আবার রাতের বেলায় চুরি করেও কেটে ফেলা হয় কৃষিজমি।

স্থানীয় কৃষক জানান, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ভোলাব এলাকার মাটি ব্যবসায়ী টিটু, রাজু প্রধান আর শামীম মূলত এই মাটি লুটপাটের অগ্রনায়ক। তাদের নিয়ন্ত্রনে প্রকাশ্যে লোকজন দাড়িয়ে থেকে দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে পাচার করছেন। এতে করে একদিনে যেমন জমির শ্রেনী পরিবর্তনের কারনে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে অন্যদিকে অনিশ্চয়তা আর হতাশা দেখা দিচ্ছে কৃষী পরিবারগুলোতে।

উপজেলা কৃষী সম্প্রসারন অধিদপ্তরের হিসেব মতে, মাত্র কয়েক বছর আগেও রূপগঞ্জে ১৭ হাজার হেক্টর কৃষি জমি ছিল, যা বর্তমানে ১২ হাজার হেক্টর। আড়াই হাজার সেক্টর জমিতে সবজি চাষ, সাড়ে আট হাজার সেক্টর জমিতে বোরো ধান আর আড়াই‘শো হেক্টর জমিতে সরিয়ার চাষাবাদ হয়। উপজেলার ৪২ হাজার কৃষি পরিবার থাকলেও আবাদী জমির সংখ্যা কমতে থাকায় কমছে কৃষী পরিবারের সংখ্যাও। বিকল্প কর্মমুখী হচ্ছেন কৃষকরা। মাটি তস্করদের দাবি তারা টাকা দিয়ে জমি কিনে তবেই মাটি কাটেন। কিন্ত সরজমিন ঘুরে পাওয়া গেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট। মাটি কাটতে তারা ভিন্ন কৌশল আর চতুরতার আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তারা কেনা জমির মাটিটি এভাবে কাটেন যাতে আপনিতেই পাশের জমি ভেঙ্গে পরে। নিরুপায় হয়ে কৃষকরা বাধ্য হোন জমির মাটি বিক্রি করতে। আবার কখনো হুমকি দিয়ে জমির মালিকদের অল্প কিছু টাকা দিয়ে জোর জবরদস্তি করে মাটি কাটা হচ্ছে। আবাসন কোম্পনীর কেনা জমিগুলো থেকেও রাতের আধারে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে এসব চোরের দল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের বৈধ অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেনী পরিবর্তন সম্পূর্ন অবৈধ আর বেআইনী। যেহেতু ব্যাপারটা আমার কানে এসেছে। আমি দু-একদিনের মাঝে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও