বসবাসে হিমশিম নারায়ণগঞ্জবাসী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

প্রতি বছরের মত এবারও জানুয়ারি থেকে বাসা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আগে ভাগে জানিয়ে বাড়িওয়ালারা এই ভাড়া বৃদ্ধি করেন। গত এক বছরে গ্যাস ও বিদুতের দাম না বড়লেও এই ভাড়া বৃদ্ধিকরেন বাড়ির মালিকেরা। অপরদিকে নিত্যপণের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। বেড়ে গেছে চালের দাম। এসব কারণে বর্তমান বাজার দরে ক্রয়ের সক্ষমতা হারাতে বসেছে সাধারণ মানুষ। উপার্জনের সঙ্গে মিল অমিলের হিসেব কষতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এই শ্রেণীর ভোক্তারা। জীবন যুদ্ধের এ প্রান্তে এসে অনেকে হারমানা না মানার প্রশ্নে বিতর্কে জড়ালেও শেষ অবধি হারমানতে বাধ্য হন দ্রব্যমূল্যের জায়গায় এসে। এমন একজন ব্যাক্তি রহিম মুন্সি।

তিনি কাঁচাবাজারের বিস্তর বিবরণ দিয়ে বলেন, কাঁচা মরিচ নিত্যদিনের পণ্য। এই কাঁচা মরিচের ঝাল এবার টের না পেলেও টের পেয়েছেন পোটল, বেগুন, কুমড়া, কড়লা, কইডা, ধন্দুল, ঝিঙ্গা, পেঁপে, কাঁচা কলা, টমেটু, কচু শাক, লাল শাকসহ সকল শাক-সবজির কিনতে গিয়ে।

আফজাল শাক সবজীর কথা শুনে ফুঁসে উঠলেন। তিনি জানালেন আয়ের হিসেব। তার অফিস থেকে কয়েকদিন আগেও ছাঁটাই করা হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এখনো তাদের মধ্যে এই আতংক বিরাজ করছে। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ব্যবসা নাই, কোম্পানী বেতন ভাতা দিবে কথা থেকে। আগে যা ছিল তার চেয়ে ডাবল হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অথচ আয়ের রাস্তা কমে গেছে অপরদিকে কোম্পানীতে খেলাপী ঋণ বাড়ছে দিন দিন। এ অবস্থায় আমাদের চাকরি বহাল থাকলেও কতদিন তা থাকবে তা আল্লাহ ভাল জানেন। আগে ওভারটাইম পেতাম, নতুন লোনের আবেদন যাচাইর জন্য মাঠে যেতে হত। সেখানে যাতায়াত ভাতা এবং ফিল্ড এলাউন্স পেতাম। বছরে বছরে ইনিক্রিমেন্ট পাওয়া যেত। শাখা বৃদ্ধি পেত সেখানে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী হত। পদোন্নতি পেয়ে নতুন কর্মক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জে কাজ শুরু হত। এক শাখার সঙ্গে অপর শাখার প্রতিযোগীতা চলতো এখন সকল কিছুই ফিকে হয়ে গেছে। কোন রকম বেতনটা তুলা যায়। বাকী সকল উপার্জনের পথ বন্ধ। অথচ চালের দাম কীভাবে হু হু করে বেড়ে গেল। তেলের দাম বেড়েছে। লবনের দাম বেড়েছে। সকল জিনিসের দাম বেড়েছে। এখন মনে হচ্ছে মরার উপর খারার ঘা। এ ভাবে চলতে থাকলে মৃত্যু ছাড়া কোন উপায় নাই।

ছোট চাকরি করার কথা স্বীকার করে আলতাফের মতে শুধু নিত্যপণ্য না এর বাইরেও ব্যায় বাড়ছে। বছর ঘুরলেই বাসা ভাড়া বাড়ছে, বিদ্যুতের দাম-গ্যাসের দাম বেড়েছে। বাচ্চারা বড় ক্লাসে উঠছে আর টিউশন ফি বাড়ছে। একের পর এক খরচের লাগাম বাড়ছে বৈকি, কমছে না। এ বিষয়গুলো সরকার দেখলে কষ্টের বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হত বলে মনে করেন তিনি।

গার্মেন্টস এর মেশিনম্যান আলামিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বড় গার্মেন্টগুলোর আকার ছোট হচ্ছে। একের পর এক ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার উপর বায়ারদের আনাগোনা কমে গেছে, অর্ডার কমছে দিনকেদিন। এ অবস্থায় আগে যেই বেতন বর্তমানে সেই বেতনেই কাজ করছি। এই সীমিত আয় দিয়ে চলা কঠিন হচ্ছে। স্ত্রীকে গার্মেন্টের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু সব জায়গায় ছাঁটাই চলছে কোথাও লোক নেয় না। তাই দু:শ্চিন্তায় রয়েছি। এ বছরে কিছু একটা না করতে পারলে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হবে। পিঠ অনেক আগেই দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে মত দেন তিনি।

কুলির কাজ করা বাসেত বলেন, ভাই যা অবস্থা দেখা দিচ্ছে, আগামীতে আর বাঁচার আশা নাই। যত দিন যাচ্ছে খারাপের দিকেই যাচ্ছে। কাজের সুযোগ কমছে। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বড় ছেলেটাকে কোন কাজে লাগাতে পারছি না। অনেক কষ্ট করে বিএ, এমএ পাশ করালাম। এখন বেকার হয়ে ঘুরে আর খায়। না পায় চাকুরী আর না পারে বোঝা টানতে। অবস্থা খুবুই ভায়াবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জে শীতের সবজি নামতে শুরু করলেও সবজির চড়া দাম কিন্তু কমছে না। তবে মাছ-মাংসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও