এখনো শহরে প্রকাশ্য ইংরেজী বিলবোর্ড সাইনবোর্ড

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার

এখনো শহরে প্রকাশ্য ইংরেজী বিলবোর্ড সাইনবোর্ড

‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’, মায়ের ভাষার অধিকার বিকিয়ে না দেয়ার প্রত্যয়ে ঐতিহাসিক এই স্লোগান ধরেছিল বাঙালি। অর্জন করেছিল মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে পৃথিবীতে বাঙালিই প্রথম। তবে এই বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দিলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার আজও নিশ্চিত হয়নি। রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সর্বত্র ভিনদেশী ভাষার একচেটিয়া দাপট। প্রতিবছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলে নড়েচড়ে বসলেও সারা বছর চোখেই লাগেনা এসকল অনিয়ম।

নারায়ণগঞ্জ শহরের অবস্থা এর ব্যতিক্রম নয়। শহরের একপ্রান্ত হতে ওপরপ্রান্ত জুড়ে হাজার হাজার ইংরেজী সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ইংরেজী সাইনবোর্ড। এসকল ইংরেজী সাইনবোর্ড পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে থাকে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিভিন্ন ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট। ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলা রাখার কথা থাকলেও মানা হচ্ছেনা কিছুই। অনেকটা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে গিয়ে বাংলাকে বিদায় করার মহোৎসব।

অথচ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বস্তরে বাংলা নিশ্চিতের তাগিদে বাংলায় সাইনবোর্ড লেখা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা প্রদান করে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশনার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সাইনবোর্ড বিলবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রশাসনের তরফ থেকে আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রদানের পরেই দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার অভ্যাসের কারণেই বন্ধ করা যায়নি ভিনদেশী ভাষা এমনটাই মনে করেন সচেতন নাগরিকেরা।

সরজমিনে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া হতে বঙ্গবন্ধু সড়কের কালীরবাজার মোড় পর্যন্ত অনুসন্ধান করে দেখা যায়, শুধু মাত্র ইংরেজীতে প্রতিষ্ঠানের নাম সংবলিত নামফলক রয়েছে ৪৬টি। এর বাইরেও ইংরেজী বাংলা একত্রে সাইনবোর্ড রয়েছে অসংখ্য।

কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ব্যাতিত অন্য কোন নজরদারি করা হয়না এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ইংরেজী নামফলক দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও পাননি কোন সতর্ক বার্তা কিংবা চিঠি। ফলে এনিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তারা।

জানা যায়, ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত একটি সিল দিয়ে ট্রেড লাইসেন্সে লেখা থাকে, ‘সাইনবোর্ড/ব্যানার বাংলায় লিখতে হবে’। কিন্তু লাইসেন্স নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলায় সাইনবোর্ড লিখছে কি না কিংবা সেসকল শর্ত মানছে কিনা সে বিষয়ে খুব বেশি তদারকি করা হয় না। যদিও এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভাষার ব্যাবহারের ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান রুমন রেজা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘বাংলায় সাইনবোর্ড ব্যাবহারের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের সকলের উচিৎ এই নির্দেশনা মেনে চলা। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি এলে নড়েচড়ে বসাটা ঠিক না। সারাবছরই এই বিষয়টি নজরদাড়িতে আনা প্রয়োজন।’’

তবে এই ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালানো উচিত কিনা জানতে চাইলে রুমন রেজা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, প্রয়োজনে তা অবশ্যই জরুরী। কিন্তু তার আগে জরুরী মানুষের মাঝে সচেতনতা আনায়ন। যেটি মানুষের তুলনামূলক কম রয়েছে। নাগরিক সচেতনতার জন্য সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণাও তেমন চালানো হয়নি। সুতরাং প্রচার প্রচারণা ও সচেতনতা জরুরী।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও