চাষাঢ়ায় জিয়া হল ‘বিপদজনক হলে প্রবেশ নিষেধ’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৬ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

চাষাঢ়ায় জিয়া হল ‘বিপদজনক হলে প্রবেশ নিষেধ’

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম পরিচিত স্থান হচ্ছে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল। এক সময় বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত স্থানটি এখন অনেকটা ভূতের বাড়ির মত। সংস্কার আর সংরক্ষনের অভাবে এখন ভবনটি এখন এতটাই ভয়াবহ অবস্থায় চলে এসেছে যে প্রধান ফটকের সামনে লাল রং দিয়ে লেখা হয়েছে “বিপদজনক, হলে প্রবেশ নিষেধ।”

সরেজমিনে দেখা যায় জিয়া হলের ভয়াবহ অবস্থা। এক সময়কার জাকজমকপূর্ণ পরিচিত জায়গাটি এখন পরিত্যক্ত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ভেতরের দিকে তাকাতেই গা শিউরে উঠে। দরজা জানালাগুলো ভেঙ্গে গেছে। ভেতরে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে আস্তর খসে পরে ভেতরের রড বেরিয়ে আছে। এতটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে যে এখন ভেতরে ঢুকার কেউ সাহস পায় না।

জিয়া হল প্রাঙ্গণে প্রবেশের দুটি গেইট এখন সব সময় বন্ধ থাকে। তবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হলের সামনে ফল নিয়ে দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে হকাররা। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের নাকের ডগায় হল প্রাঙ্গণের পশ্চিম দিকে অবৈধ বিকশার গ্যারেজ তৈরী করে সেখানে রিকশা রাখা হচ্ছে। একটু একটু করে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে পেছনের দিকে ময়লার স্তূপ তৈরী হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে নামটা স্পষ্ট থাকলে গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

জিয়া হল প্রসঙ্গে ইসদাইরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৩০ বছর যাবৎ আছি। জিয়া হল কতটা জাকজমকপূর্ণ হচ্ছে তা এখনো আমার চোখে ভাসে। বিকেলের দিকে চাষাঢ়া আসলেই ভেতরে অনুষ্ঠানের আওয়াজ আসতো। প্রতিদিন কোনো না কোনো প্রোগ্রাম লেগেই থাকতো। অথচ অবহেলার কারণে জায়গাটা ধ্বংস হয়ে গেল।

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গরা সেই ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকেই আন্দোলন করে আসছেন এই স্থানটির জন্য। তবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির রেষারেষিতে শেষ পর্যন্ত তাদের আন্দোলনও আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৮১ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই দফায় দফায় এর নাম বদল হয়েছে। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে এর নাম করণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন। ২০০১ সালে আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নাম দেওয়া হয় জিয়া হল। সবশেষ ২০১৫ সালে তৎকালিন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ঘোষণা দেন জিয়া হলের নাম পরিবর্তন করে টাউন হল রাখা হবে এবং এখানে একটি বর্তমান ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মান করা হবে। যেখানে অডিটোরিয়াম সহ অন্যান্য সুবিধা থাকবে। অজানা কারণে সেই সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জিয়া হল প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, জিয়া হল জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে যাচ্ছে তাই কাজকর্ম হচ্ছে। এরশাদের সময় এটা ছিল সেনাবাহিনীর অবস্থানের জায়গা। ওই সময় আমরা বিরোধীতা করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠনের কোনো কাজে কখনই লাগেনি। বছরের পর বছর জেলা প্রশাসক এখানে বাণিজ্য মেলা দেয়, জেলা প্রশাসকের যা ইচ্ছা সেটাই করে।

জিয়া হল সংস্কার ও প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই ব্যপারে তিনিও কিছু বলতে পারেনি। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, এই ব্যপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। জেলা প্রশাসক মহোদয় বলতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও