নারায়ণগঞ্জে নানা আয়োজন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে নানা আয়োজন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’

মাঘ শেষ হলেও শীতের আমেজ পুরোপুরি কাটেনি এখনো। সন্ধ্যা ভর করা রাতে ঝির ঝির হাওয়ায় ভোর রাত পর্যন্ত থাকে শীতল। সকালে বৃষ্টিতে পাতা ঝড়া দুপুরে ডালে বসা কোকিল কুহু কুহু ডাকতে শুরু করেছে।  রস ফল আমের পাতা ঢেকে দিয়েছে নয়া মুকুল। চারপাশে মৌ মৌ আভাস দেয় নানা নামের - নানা রঙের ফুল। বাংলার এ রুপ দেখে কবি গুরু বলেছিলেন ‘ আহা আজি এ বসন্তে / এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে/ এত পাখি গায়’।

এদিকে ঋতুরাজ বসন্ত উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। ষড়ঋতুর মধ্যে বসন্তকে রাজা উপাধি দেয়া হয়েছে। বৈচিত্রে ঘেরা এ ঋতুর সাথে আপনা আপনি জড়িয়ে যায় অনেকে। কবির কলমে তাড়িত হয় আবেগ। চিত্রকর রঙ মেশায় মনের মাধুরী দিয়ে। গীতিকার মধুর ভালবাসার অক্ষর দিয়ে সাজায় গীতিকাব্য। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম গায় ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে , বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ , আমার বাড়ি আসে। বন্ধুর বাড়ির ফুল বাগান, নানান রঙের ফুল, ফুলের গন্ধে মন আনন্দে ভ্রমর হয় আকুল’।

বসন্তে সূর্য বেরিয়ে আসে আপন মহিমায়। গাছ গাছালি ভরে যায় কচি পাতা আর ফুলে। পুষ্প কাননে সৌন্দর্য ছড়ায় শিমুল পলাশ। জুঁই চামেলী, হাসনাহেনার গন্ধে চারদিক মৌ মৌ করে। রজনীগন্ধাকে সাথে গোলাপ ছড়ায় স্নিগ্ধ সুবাস।  গাঁদা -  ডালিয়াও ফুটে নিজ আঙ্গিকে। ডাল ভরা কৃষ্ণচূড়া আকাশের নীলকে যেন ম্লান করে দেয় আপণ মহীমায়। কত রঙ, কত ফুল যেন রাঙা ফুলের বসন্ত। বিদ্রোহী কবি লিখেছেন ‘এল এ বনান্তে পাগল বসন্ত, বনে বনে মনে মনে রঙ সে ছড়ায়রে।’

ফাল্গুন চৈত্রের এ  ঋতু বর্ণিল আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে মানুষের মনে। এ সময়ে এক প্রাণ আকুতি করে আরেক প্রাণে মেশার। যুবা সমাজে বসন্তের প্রভাব  প্রবল। বসন্ত নাচে বেশী দোল খায় প্রেমিক মন। ফুল হাতে প্রতীক্ষার প্রহর গুণে সঙ্গীর।

শহুরে জীবনে বসন্তের ছায়া কমই পড়ে। প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের তাই। ইট প্রাচীরের অভ্যন্তরে যায় না কোকিল কণ্ঠ, গাছ গাছালির সবুজ রূপ। নিবাস ছেড়ে পিচঢালা সড়কেও বসন্ত যেন অনেকটা মলিন। তবে এরই মাঝে বসন্ত খুঁজে পাওয়া যায় শহরের প্রধান সড়কের দু’পাশে থাকা কিছু ফুলের দোকানে। ঋতুরাজকে সামনে রেখে নতুনভাবে ফুলের ঢালি সাজে। ফাগুনের প্রথম দিনে কিশোর - যুবা, পরিণত বয়সের মানুষের হাতেও দেখা যায় ফুল। চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে হলুদ রাঙায়ে কপোতি আসে বেনী দুলিয়ে। তাই বোধহয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক - আজ বসন্ত’।

ফাগুনের প্রথম দিনে বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়ে পথে নামে তন্বী-তরুণীরা। নতুন ফুলে খোঁপা সাজায়। অসংখ্য রমণীর বাসন্তী রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চাষাঢ়া, খানপুরসহ পুরো নারায়ণগঞ্জ। তরুণরাও আজ পড়বে বাসন্তী রঙের পোশাক। প্রকৃতির ছোঁয়া নিতে তারাও বেরিয়ে পড়বে। একে অন্যের হাতে তুলে দেবে প্রিয় কোনো কবির কবিতার বই কিংবা ভালোবাসার গল্প। অসাম্প্রদায়িক উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়বে সারা শহরে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে চলছে বসন্ত বরনের নানা আয়োজন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আড্ডায় মেতে উঠবে তাদের সহপাঠি ও বন্ধুদের নিয়ে। সব মিলিয়ে অনন্য ঋতু বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রতিবছরই বিশেষ প্রস্তুত হয় দেশ।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও