নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর পথে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৮ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার

নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর পথে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ

কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ বন্ধ হয়নি। ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে যাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রমণ করলেও ওই সকল যাত্রীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি রেল প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে প্রতিদিন ১৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেনে ঢাকায় যান। আবার ঢাকা থেকে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে মানুষ আসেন। এই রেলপথে প্রতিদিন ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু, নারীসহ শত শত যাত্রী চলাচল করছেন। রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ স্টেশন, চাষাঢ়া, ফতুল্লা ও পাগলা স্টেশন থেকে যাত্রীরা অবাধে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে উঠলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

ট্রেনের ইঞ্জিনে ভ্রমণকারী এক যাত্রী কলেজ ছাত্র তৌসিফ হাসান বলেন, ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমন করলে ৫ টাকা দিয়েই ভ্রমণ করা যায়। ট্রেনের চালক ও স্টাফরা এই ভাড়া আদায় করেন। তবে কোনো টিকিট দেয়া হয় না। আরেক যাত্রী আব্দুল করিম জানান, ভাড়া কম হওয়ার কারণে তাঁর মতো অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে চলাচল করেন। যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ইঞ্জিন অনেক গরম এবং এতে অনেক শব্দ হয়। ট্রেন যখন চলে তখন ধুলাবালি ওড়ে। তবু কম ভাড়ার কারণে এভাবে কষ্ট করে ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী বহনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জিআরপি পুলিশ জড়িত না থাকলে এভাবে যাত্রী বহন করা সম্ভব নয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ওঠার সময় আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেক যাত্রীরা আমাদের কথা শোনে না। অনেকে শেষ সময়ে এসে দৌড়ে উঠে পড়েন। যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, লিজ নেয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এসব যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করলেও করতে পারে। সেটি আমার জানা নেই।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও