আহত ও প্রাণ নিয়েও থামছে না নিষেধাজ্ঞার বাল্কহেড

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০১ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার

ছবি প্রতিকী
ছবি প্রতিকী

নদী পথে সন্ধ্যার পর থেকে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রশাসনের। তারপরও চলছে সেইসব বাল্কহেড। ফলে একের পর ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। কখনো আহত আবার কখনো প্রাণ হারাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। এতো কিছুর পরও প্রশাসনের নেই কোন শক্ত পদক্ষেপ। হতেগুনা কয়েকটি অভিযান পরিচালনা ছবি পাওয়া গেলেও তাও কয়েকদিন পর আর দেখা যায় না।

১০ মার্চ রোববার রাতে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিকবাহী একটি ট্রলারকে ধাক্কা দেয় বালুবাহী বাল্কহেড। ফলে ট্রলারটি ভেঙে পানিতে ডুবে যায়। সেখানে আহত ২০ জনেরও বেশি। আর একদিন পর সোমবার দুপুরে নিখোঁজ এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ট্রলারে থাকা আহত শ্রমিক সঞ্জিত দাস বলেন, নদীতে অন্ধকার থাকায় তীর ঘেঁষে ট্রলারটি মুন্সিগঞ্জের কুইচ্চামারা থেকে পাগলা এলাকায় যাচ্ছিল। কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে কোন শব্দ নেই একটি বালুবাহী বাল্কহেড ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ফেলে। ওই কয়েকজন শ্রমিক লাফিয়ে বাল্কহেডে উঠে পরে। তখন ওই বাল্কহেডের চালক ও হেলপারকে শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য বললেও তারা তা না করে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। পরে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠে আর অন্যদের তীর থেকে অন্য ট্রলার গিয়ে উদ্ধার করে।

এলাকবাসী জানান, রাতের বেলায় বালুবাহী বাল্কহেডগুলো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে এসব বাল্কহেড ঠিক চলছে। কারণ রাতে নদীতে নৌপুলিশ টহল দেয়, কোস্ট গার্ড টহল দেয় এছাড়াও থানা পুলিশ তো আছেই। এতো কিছুর পরও দিনের বেলার চেয়ে রাতে আরো বেশি বাল্কহেড চলে। এগুলো চলার কারণে ফতুল্লার কয়েকটি ঘাটে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক আহত হয়েছে আবার অনেকে মারাও গেছে।

পাগলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চ কিংবা জাহাজের বাতি আছে। এগুলো নদীতে চলাচল করলে দেখা যায় কিংবা হর্ণ দেয়। এ বাল্কহেডগুলোর সেরকম কোন কিছু নেই। বালু বোঝাই থাকলে এগুলো তিন ভাগের ২ ভাগ পানির নিচে চলে যায়। ফলে আরো বুঝার উপায় নেই যে সামনে বাল্কহেড আসছে। কিন্তু এরা যদি সামনে দেখে যাত্রীবাহী ট্রলার কিংবা অন্য নৌযান চলছে তাতেও কোন সংকেত দিবে না। বরং যানমালের ক্ষতি করে চলে যাবে। তাদের কোন মায়াদয়া নেই।

রহিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ টাকায় পায় তাই এগুলো বন্ধের জন্য কোন উদ্যোগ নেয় না। থানা পুলিশকে বললে বলে নৌ পুলিশের কাজ আর নৌ পুলিশকে বললে তাদের কোন লোকবল নেই। জেলা প্রশাসন থেকে অভিযান পরিচালনা করলে তারা সহযোগিতা করবে। একে অন্যের উপর দোষ চাপানোর জন্য থাকে। এগুলো বন্ধ করে যদি কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে এরা কোন দিন সাহস পাবে না রাতের বেলায় বাল্কহেড চালানোর।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ফাহয়াত উদ্দিন রক্তিম বলেন, নদী পথে টহল দেওয়ার দায়িত্ব নৌ পুলিশের। তারা নদীপথের নিরাপত্তা, অবৈধ যান সহ সকল কিছু দেখাশোনা করেন। কিন্তু এরপরও কিভাবে চলে সেটা জানা নেই। এ বিষয়ে নৌ পুলিশ কিংবা ঊর্ধ্বতনরাই ভালো বলতে পারবেন।

তবে এ বিষয়ে নৌ পুলিশ থানার ওসি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেননি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও