নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসবের ২৪২ বছরের ইতিহাস, দেওভোগে বসেছে মেলা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৬ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার

নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসবের ২৪২ বছরের ইতিহাস, দেওভোগে বসেছে মেলা

প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত বাণিজ্য নগরীতে হালখাতা উৎসবের ইতিহাস সুদীর্ঘ ২৪২ বছরের। নারায়ণগঞ্জ জেলার গোড়াপত্তনের শুরু থেকে হিন্দু ব্যবসায়ীরা বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ঠাকুরের চরণ ছুঁয়ে হালখাতা খুলত। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসছে হালখাতা উৎসব। একটা সময় ছিল যখন নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসবে শামিল হতে দূর দূরান্ত থেকে আসতো ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা ও পাইকাররা যেমন আসতো তেমনি বিক্রেতারাও পণ্যের পসরা সাজিয়ে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে পুরনো খাতার বদলে নতুন খাতা খুলতো। তবে গেল কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করতে থাকায় মিয়¤্রান হয়ে পড়ছে হালখাতা উৎসব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলা বর্ষবরণের হালখাতা উৎসবের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের রয়েছে ২৪২ বছরের প্রামাণ্য ইতিহাস। ১৭৭৭ সালে শহরের দেওভোগে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া প্রতিষ্ঠার পর ওই আখড়ার নামেই নামকরণ হয় নারায়ণগঞ্জের। ওই আখড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হিন্দু ব্যবসায়ীরা তাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে আখড়ার ঠাকুরের চরণ ছুঁয়ে হালখাতা খুলত। ক্রেতারা দোকানে এসে বাকীর টাকা পরিশোধ করে মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে যেত। ব্যবসায়ীরা পুরনো খাতার হিসেব নতুন খাতায় ওঠাতো। এই হালখাতা খোলার উৎসবের পাশাপাশি শুরু হয় বৈশাখী মেলা। যা আজও চলে আসছে। তবে আগে হালখাতা উৎসব একদিনেই পালিত হলেও বর্তমানে দু’দিনব্যাপী পালিত হচ্ছে। মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা ১৪ এপ্রিল পালন করলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করছে ১৫ এপ্রিল। এদিকে দেওভোগ আখড়ায় বসেছে মেলা।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও