নারায়ণগঞ্জের দুইদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসব

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৭ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

নারায়ণগঞ্জের দুইদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসব

রোববার ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। আর এই বাংলা নববর্ষের শুরুতেই হয় ‘হালখাতা’। পুরান হিসাব চুকিয়ে ফেলে ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার উৎসব। প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসবের ইতিহাস সুদীর্ঘ ২৪২ বছরের। আগে হালখাতা উৎসবের কার্ড ছাপা হতো।

কার্ডে হিন্দু ব্যবসায়ীদের জন্য মাটির সরাতে কলাগাছের পাতা, ডাব এবং উপরে হিন্দু দেবতা গণেশের ছবি থাকতো। অনুরূপভাবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের কার্ডে থাকতো মসজিদের মিনার। এ উভয় রীতির মধ্যেও ছিল হালখাতার আমন্ত্রণ। কেউ কেউ ছাপাতো বাংলা সনের ক্যালেন্ডারও। তবে কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহ্য আর জৌলুষ। তবে কোন কোন ব্যবসায়ী এখনো সেই পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে হালখাতা উৎসবের প্রস্তুতি। চলছে ধোয়ামোছার কাজ। তবে এবারে বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসব হবে দু’দিন ব্যাপী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলা বর্ষবরণের হালখাতা উৎসবের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের রয়েছে ২৪২ বছরের প্রামাণ্য ইতিহাস। ১৭৭৭ সালে শহরের দেওভোগে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া প্রতিষ্ঠার পর ওই আখড়ার নামেই নামকরণ হয় নারায়ণগঞ্জের। ওই আখড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হিন্দু ব্যবসায়ীরা তাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে আখড়ার ঠাকুরের চরণ ছুঁয়ে হালখাতা খুলত। ক্রেতারা দোকানে এসে বাকীর টাকা পরিশোধ করে মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে যেত। ব্যবসায়ীরা পুরনো খাতার হিসেব নতুন খাতায় ওঠাতো। এই হালখাতা খোলার উৎসবের পাশাপাশি শুরু হয় বৈশাখী মেলা। যা আজও চলে আসছে। তবে আগে হালখাতা উৎসব একদিনেই পালিত হলেও সনাতন পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ী হিন্দু ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসব পালন করে থাকেন। যেকারণে কোন কোন বছর নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসব পালিত হয় দু’দিন ব্যাপী। তবে এবছর সরকার নির্ধারিত তারিখ ও পঞ্জিকার তারিখ ভিন্ন হওয়ায় ১৪ এপ্রিল ও ১৫ এপ্রিল দু’দিন ব্যাপী পালিত হবে হালখাতা উৎসব।

জানা গেছে, প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে দেশের অন্যতম বৃহৎ সুতার বাজারে রয়েছে সহস্রাধিক সুতা ব্যবসায়ী ও দু’শতাধিক রঙ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী। নয়ামাটি ও উকিলপাড়াতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ হোসিয়ারী পল্লীতেও রয়েছ অন্তত দুই হাজার হোসিয়ারী পণ্য বিক্রি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। নিতাইগঞ্জ ও ডালপট্টির পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্রে অন্তত রয়েছে হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে অসংখ্য আটা-য়দা ও লবন কারখানাও। ওইসকল প্রতিষ্ঠান চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা ময়দা, লবনসহ খাদ্যদ্রব্য পাইকারী বিক্রি করে থাকে। এছাড়া শহরের কালিরবাজার ও মিনাবাজার স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত কয়েকশত স্বর্ণালংকার বিক্রির দোকানেও হালখাতা উৎসব পালিত হয়ে থাকে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানাও হালখাতা উৎসব পালন করে থাকে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও