প্রযুক্তির তালে হারিয়ে যাচ্ছে ‘হালখাতা’ উৎসব

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৫ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার

প্রযুক্তির তালে হারিয়ে যাচ্ছে ‘হালখাতা’ উৎসব

প্রযুক্তির কল্যাণে অনেকদূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে এই প্রযুক্তির তালে তালে হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালিয়ানার অনেক ঐতিহ্য। দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে বাঙালিয়ানার মানুষগুলো। ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাংলার চিরচেনা কিছু রূপ-সংস্কৃতি।

তেমনই আবহমান বাংলার একটি অন্যতম ঐতিহ্য হচ্ছে ‘হালখাতা’। একসময় বাঙালির প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষ করে জমজমাট করে আয়োজন করা হতো ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে এখন আর সেই ‘হালখাতা’র আয়োজন চোখে পড়েনি। দোকানিরাও আগের মতো তেমন একটা আমেজ খুঁজে পান না।

জানা যায়, পহেলা বৈশাখে বিদায়ী বাংলা বছরের সব দেনা-পাওনা চুকিয়ে নতুন বছর থেকে নতুন খাতা খুলেন ব্যবসায়ীরা। পুরনো হিসাবের খাতা বন্ধ এবং নতুন খাতা খোলার আনন্দ-আয়োজন, আপ্যায়ন ও আনুষ্ঠানিকতার নামই ‘হালখাতা’। এই ‘হালখাতা’ উৎসবের জন্য ছাপানো হতো নিমন্ত্রপত্র কার্ড। কার্ডে মুসলিম ব্যবসায়ীরা ছাপাতো মসজিদের মিনার আর হিন্দু ব্যবসায়ীদের কার্ডে ছাপানো হতো মাটির সরাতে কলাগাছের পাতা, ডাব এবং উপড়ে হিন্দু দেবতা গণেশের ছবি থাকতো।

চৈত্রের মাঝামাঝি থেকেই বকেয়া রয়েছে এমন ক্রেতাদের কাছে হালখাতার দাওয়াত কার্ড পাঠানো হতো। বছর শুরুর দিন ভোরে দোকানপাট ধুঁয়ে, সোনা-রূপার পানি ও গোলাপ জল ছিটানো হতো। এছাড়া লাল কাপড়ে মোড়ানো বা বাঁধাই করা মোটা খাতাটিই একসময় ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার ব্যবসায়িক সম্পর্কের যোগসূত্র স্থাপন করতো। তবে এ সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য কম্পিউটার দখল করে নিয়েছে এ খাতার জায়গা।

কালিরবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, এখন দিন পাল্টিয়েছে। এখন আর আগের দিন নেই। বংশানুক্রমেই আমরা বিভিন্ন ব্যবসা করে আসছি। আগে বছরের প্রথম দিন নতুন খাতা খোলার জন্য হালখাতার আয়োজন ছিলো উৎসব। এই উৎসবে মিষ্টিমুখ করানো হতো ক্রেতাদের। এখনও সেই ঐতিহ্য মেনে কোথাও কোথাও হালখাতা হয়ে থাকে। কিন্তু ক্রেতারা আগের মতো সাড়া দেন না। কেউ ব্যাংকে কিংবা বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেন। উৎসব হয় না আগের মতো।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও