না.গঞ্জে চালকদের স্পীড নিয়ন্ত্রণে নেই ডিজিটাল পদ্ধতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫০ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

না.গঞ্জে চালকদের স্পীড নিয়ন্ত্রণে নেই ডিজিটাল পদ্ধতি

একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে শুধুমাত্র জানমালের ক্ষতি হয় তাই নয় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অনেক সময় গোটা পরিবারই তছনছ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের স্লোগান ডিজিটাল বাংলাদেশ হলেও সড়কপথে ডিজিটাল পদ্ধতির ছোঁয়া এখনো লাগেনি। কয়েক মাস আগেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জও উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তবে ওই ঘটনার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সড়ক পথে দেখা যায়নি আধুনিকতার কোন ছোঁয়া। বরং গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পেলেও দেখার যেন কেউ নেই। এর আগে মহাসড়কে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রনে স্পীডগান ব্যবহার করতে দেখা গেলেও সেটা ছিল শুধু ঈদের পূর্বে। কিন্তু বাকী সময়ে এর তেমন একটা ব্যবহার দেখা যায়নি।

জানা গেছে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির ছোয়া লাগলেও বাংলাদেশের কোথাও নেই ডিজিটালের ছোঁয়া। বিশেষ করে সড়কপথে দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে চালকদের অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ি চালানো। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে নেই কোন পদক্ষেপ। মাঝেমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা হলেও সেগুলোর প্রভাব চালকদের মধ্যে খুবই কম দেখা যায়।

গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে যে সকল সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে তার বেশীরভাগের কারণই ছিল চালকদের অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালানো। অথচ সড়কপথে যদি ডিজিটাল পদ্ধতি অর্থাৎ সিসি টিভি ক্যামেরাসহ স্পীডগান থাকতো তাহলে চালকরা অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালাতে পারতো না। কিংবা চালালেও তাদেরকে জরিমানা গুনতে হতো সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্পীডে চালানোর প্রবনতা কমে আসতো।

উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায় পুলিশ স্পীডগান নিয়ে সড়ক মহাসড়কে অবস্থান করে। পুলিশের গাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকে। যদি কেউ অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালায় তাহলে স্পীডগানে সঙ্কেত দেয়। আর নিয়ম ভঙ্গ করলে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই তার মোবাইলে জরিমানার এসএমএস চলে আসে। ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে চালকরা সহজেই অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালায় না।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা বন্ধন পরিবহন বাসের ধাক্কায় নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের নিজামের পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। মূলত চালকের বেপরোয়া চালানোই এজন্য দায়ী। জানা গেছে, ৩১ মার্চ বিকালে শহরের সলিমুল্লাহ সড়কে বনশ্রী ফার্নিচার দোকানের সামনে দিয়ে সাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন এসএসসি পরিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিন ইমন। ওই সময় খালি রাস্তায় কোন হর্ণ ছাড়াই বন্ধন পরিবহনের বেপরোয়া একটি বাস ইমনকে রাস্তার আইল্যান্ড সাথে ঘেষিয়ে ডনচেম্বার মোড় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। উপস্থিত জনতা আহত ইমনকে উদ্ধার ও বন্ধন বাস (ঢাকা-ব-০১৭) চালক আমির হোসেনকে আটক করে। ওই সময়ে বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ও বাসের মালিক সালাউদ্দিন ঘটনাস্থল লোক পাঠিয়ে চিকিৎসা ব্যয় বহনের আশ্বাস দিলে বাস ছেড়ে দেয় জনতা। এরপর দুই সপ্তাহ পরেও কোন সহায়তা করেনি।

নিজামের ছোট শাহিন জানান, পরিবহন চেয়ারম্যান ও মালিকের ফাঁকিবাজীর কারণে ইমনের বাবা নিজাম উদ্দিন নিজ খরচে একটি ক্লিনিকে ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে অপারেশন করা হয়। এতে সাফল্য হলেও আবারো একটি অপারেশন করতে হবে বলে ডাক্তার জানায়। কিন্তু এত টাকা খরচ করে প্রথম অপারেশন করে আবার দ্বিতীয় অপারেশনের খবরেও পরিবহন নেতাদের কোন সাড়া পাননি নিজাম। ১৬ এপ্রিল রাতে মুক্তি হাসপাতালে ভর্তি ছেলেকে সেবা শেষে বাসা ফেরা পথে স্ট্রোক করে। হার্ট সেন্টারে নেয়া হলে সেখানেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

এদিকে ১২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মালবাহী কাভার্ডভ্যানের চাপায় ফরিদ আহমেদ (৩৮) নামে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার মালিবাগ এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

গত ৩ এপ্রিল বুধবার উপজেলার মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি বিদ্যায়তনের নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জয়া স্কুলে আসার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিশা পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ এপ্রিল শনিবার মারা যায়। পরে ৯ এপ্রিল জয়ার সহপাঠীরা তিশা পরিবহনের সেই ঘাতক বাসের চালক ও হেলপারের ফাঁসির দাবিতে সকাল ১০টায় ছোট সাদিপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ করেছে।

১ এপ্রিল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় ঢাকা থেকে মনোহরদীগামী একটি মিনিবাস (ঢাকা মেট্টো-ব-১২-৩৭৩) একটি অটোরিক্সাকে ধাক্কা দিলে আবুল হাছান (৩০) নামে অটোরিক্সা চালক নিহত হয়েছে।

১৪ মার্চ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাগলা এলাকায় নৌবাহিনীর অফিসের সামনে আনন্দ পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৪০৪২) চাপায় কামাল নামের (৩৫) এক রিকশাচালক নিহত হয়েছে। ঘাতক বাস ও এর চালককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত কামাল ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার তিন রাস্তার মোড়ের আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া শাহজাহানের পুত্র। সে দুই সন্তানের জনক।

১১ মার্চ সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ট্রাক চাপায় রুহুল আমিন (৪০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি ও ট্রাকের হেলপারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। নিহত রুহুল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার জালালপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। সে ফতুল্লার ঢালীপাড়া এলাকার আবেদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থেকে ধর্মগঞ্জে ইসলামীয়া এন্টারপ্রাইজে কয়লা লোড আনলোডের কাজ করতো।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও