বঙ্গবন্ধুর ফোন মাছ আর গাড়ি চালক নিয়ে শামীম ওসমানের স্মৃতিচারণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

বঙ্গবন্ধুর ফোন মাছ আর গাড়ি চালক নিয়ে শামীম ওসমানের স্মৃতিচারণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শততম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিশুদেরকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটকালে আমি ভূত ভয় পেতাম। সে কারণে ছোটকালে আমি বাবা ও মায়ের মাঝে শুয়ে থাকতাম। ওই সময়ে একদিন রাতে বাসায় ফোন আসলো। আমি ধরলাম। বিপরীত থেকে বললো, ‘আই তোর আব্বাকে দে।’ তখন আমি কথা শুনে কিছুটা থতমত খেয়ে গেলাম। বাবাকে (স্বাধীনতার পদক প্রাপ্ত একেএম সামসুজ্জোহা) বললাম কে যেন ফোন করে বলছেন ‘তোর বাবাকে দে’। আমার বাবা কথা শুনেই বুঝতে পারলেন। বাবা বললো, বঙ্গবন্ধু ফোন করেছে। ফোনটা দাও। পরে আমার বাবার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললেন বঙ্গবন্ধু।

‘‘পরে জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ওই সময়ের মিশরের প্র্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত আসবেন। আর নারায়ণগঞ্জ তখন মাছের জন্য বিখ্যাত। তাই বঙ্গবন্ধু আমার বাবাকে মাছ দিতে বলেছেন। পরে বাবা আমাকে বললো যাবে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। আমি শুনে তো রক্ত গরম হওয়ার মত অবস্থা। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আমি একা মাছ নিয়ে যাবো সেটা শুনে তো সারা রাত আর ঘুমুতে পারি নাই। পরদিন ভোর ৪টার দিকে সাদা শার্ট আর সাদা প্যান্ট পড়ে আমি আর গাড়িচালক আজগর ভাই দুজন গেলাম ধানমন্ডিতে। ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়ির গেটের সামনে গিয়ে দেখলাম মাত্র দুজন প্রহরী। আমাদের গাড়ি চালক আজগর ভাইয়ের গলার কণ্ঠস্বর ছিল অনেক ভারী। তিনি বাড়ির সামনের গেটে দাঁড়িয়ে গেট খুলতে বললে পুলিশ খুলতে রাজী হচ্ছিল না। আজগর ভাই তখন বলেন, আমারে চিন না গেট খুল’।’’

পুলিশ তখন জানায়, ‘‘আপনাদের চিনে কাজ নাই সাহেব এখনও ঘুমে। আমাদের কথা শুনে দেখলাম ভবনের তৃতীয় তলায় বঙ্গবন্ধু সাদা চেকের একটি লুঙ্গি আর গেঞ্জি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে পাইপ। তৃতীয় তলা থেকে তিনি বললেন, কেডারে। তখন আজগর চাচা উপরে তাকায়। বঙ্গবন্ধু বললো কে আজগর..রে। উত্তরে আজগর বললো, হু আপনি কী অহন আর আমাদের চিনবেন। এখন তো আপনি রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবন্ধু ওপর থেকে বললেন আসছিস, দাঁড়া আমি নামতেছি। কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু নিচে নেমে এলেন। নিচে এসে মাছ দেখলেন। আমাকে বললো কেমন আছিস। তখনই আজগর চাচাকে নাস্তার কথা জিজ্ঞেস করলো।’’

‘‘আমাকে বঙ্গবন্ধু বললেন যা তোর চাচি রান্নাঘরে আছে মাছটি নিয়ে যা। তখন আমার এত রাগ উঠলো। আর মাছটির ওজন ছিল আমার চেয়েও বেশী। পরে পুলিশের সহায়তায় মাছ নিয়ে গেলাম রান্নাঘরে। আর ড্রাইভার আজগর ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু তার রুমে নিয়ে গেলেন। পরে আমি বঙ্গবন্ধুর কথায় মাছ নিয়ে গেলাম রান্নাঘরে। কিন্তু আমি অবাক হয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখি বঙ্গমাতা রান্নাঘরে রান্না করছে। আমার মাছ নিয়ে তিনি নিজেই কাটতে শুরু করলেন। আমি আরো অবাক হলাম। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী নিজে রান্না করছে। আমাকে বসতে দিলেন একটি পিড়িতে। আমি তখন বাধ্য হয়েই সেখানে বসলাম। পরে আমাকে নাস্তা হিসেবে খেতে দিল মুড়ি ও খেজুরের গুড়। এটা দেখে আমার কান্না হওয়ার মত উপক্রম হলো। অনেকক্ষন বসে থাকার পর সেগুলো খেলাম। তখন আমাকে আমার মায়ের খোঁজ খবর নিল। কারণ তিনি ও বঙ্গবন্ধু আমার মাকে ভালোবাসতেন। যাওয়ার সময়ে আমাকে বঙ্গমাতা বললেন, ঠিক মত লেখাপড়া করিস। আমি চিন্তা করছিলাম বাড়িতে গিয়ে আব্বাকে বলবো আমাকে আর কখনও এ বাড়িতে পাঠাবেন না।’

‘‘আমরা বের হওয়ার সময়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম করলাম। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বললো ঠিকমত পড়ালেখা করিস কিন্তু। ওই সময়েও আজগর ভাইয়ের কাধে বঙ্গবন্ধুর হাত ছিল। পরে গাড়িতে উঠার পর আজগর চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম নাস্তা করেছেন কী দিয়ে বললো পাউরুটি দিয়ে। বললাম আপনাকে এত বঙ্গবন্ধু ভালোবাসেন কেন। জানালেন, ৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকার কয়েকটি স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। তখন সঙ্গে ছিলেন আজগর। ৬৬ এর পর ৭৪ সালে প্রথম আজগরকে ভাইকে দেখেই চিনে ফেললেন। এটাই আসলে বঙ্গবন্ধু। তিনি কী জিনিস সেটা এখন বুঝেছি।’’

২৭ এপ্রিল শনিবার বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গনে ওই পুরস্কার বিতরণীতে রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারী খালেদ হায়দার খান কাজল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও