দখলে দাপা গোসল ঘাট বিলীনের পথে

রনজিৎ মোদক || লেখক - শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব ০৭:২০ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

দখলে দাপা গোসল ঘাট বিলীনের পথে

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গার দাপার গোসলঘাট অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। ২০০১ সালের ৯ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা থানা মানবধিকার কমিশনের উদ্যেগে বুড়িগঙ্গার দাপা গোসলঘাট অবৈধ দখল ধারমুক্ত স্থায়ী ঘাট নির্মাণের দাবিতে ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল। স্থায়ী ঘাট নির্মাণের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ রুহুল আমিন প্রধান সহ এলাকাবাসী। গোসলঘাট অবৈধ দখল ধারমুক্ত ও স্থায়ী ঘাট নির্মানের দাবীতে প্রতিবাদ মিছিল এবং অনেক গণমাধ্যমে এব্যাপারে সংবাদ প্রকাশের পরও আজও বাস্তবায়ন হয়নি জনগণের অধিকার!

ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদীর গোসলের ঘাট বেদখল হয়ে গেছে অনেক আগেই। কয়েকটি গ্রামের জন সাধারন মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার। মানবাধিকার কর্মীরা গোসলের ঘাট পুনরায় উদ্ধারে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামার কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলো ২০০১ সালে। কিন্তু আজও জনগণের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি।

পানীয় জলের প্রকট সংকট বিধায় এলাকাবাসী নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের পুরনো দাপা গোসলের ঘাটটি সম্প্রতি কতিপয় বালু ব্যবসায়ী দখল করে। স্থানীয় শ্রমজীবী সাধারণ গোসলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লংঘন করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অনেক আগেই স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ২শত ৪৬জনের একটি স্বাক্ষরিত আবেদন পত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়ছিলো। কিন্তু আজও সে বিষয়ে কোন সারা শব্দ পাওয়া যায়নি।

জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে স্থানীয় প্রাশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশন ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ জানান। তিনি এলাকার পানীয় জলের ভয়াবহ সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, দাপা, লালপুর, ফতুল্লা, সেহাচর এলাকা ডাইং মিল ও রোলিং মিল থেকে অনবরত পানি উত্তোলন করায় বাসা-বাড়ির নলকূপ গুলো পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পুকুরগুলো মিলের পানিতে সয়লাব। যার ফলে, পুকুর ডোবাগুলো পানি ব্যবহারের যোগ্যতা আর নেই। এ অবস্থায় বৃহত্তর ফতুল্লা বাসীর প্রানের দাবী নলখালী খালের মুখ সংলগ্ন দাপা ঘাটটি মুক্ত করে এখানে ১টি পাকা স্থায়ী ঘাট নির্মাণ জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক রনজিত মন্ডল যৌথভাবে এ দাবি করে বলেন, দাপা ঘাটটি অত্যন্ত পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী একটি ঘাট। এখানে প্রতিবছর আশ্বিন মাসে বিজয় দশমীর মেলা বসে এবং এলাকার দূর্গা প্রতিমা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন পূজা পার্বন ধর্মীয় উৎসবাদিতে নদী থেকে জল সংগ্রহ ও গোসল করা হয়। পার্শ্ববর্তী বাজার এবং মিল কারখানার শ্রমিকরাও প্রতিনিয়ত গোসল করে। এলাকায় কোনো জলাধার না থাকায়, বুড়িগঙ্গার এই ঘাটটি হচ্ছে একমাত্র অবলম্বন সাধারণ মানুষের। কিন্তু বর্তমানে ঘাটের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্তের পথে।

উল্লেখ্য, বালু ব্যবসায়ীদের ট্রাক চলাচলের জন্য ৩টি রাস্তা রয়েছে। একটি রাস্তা ব্যতিত তারা অপর ২টি রাস্তা ব্যবহার করলেও তাদের কোনো অসুবিধা হবে না। তার পরও তারা দাপা ইদ্রাকপুর মৌজার ৬৮৩ দাগের ৫ শতাংশ রাস্তা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করে আসছে। এতে ট্রাকের বহর ঠেলে নদীতে যাওয়া এক বিপদ জনক অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন সময় প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতি বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিজয় দশমীর দিন অস্থায়ী একটি মঞ্চ করে দেন। এব্যাপারে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, এলাকার জনগণের স্বার্থে দাপা স্থায়ী একটি গোসলের ঘাটের প্রয়োজন।

এঘাটের স্থায়ী নিমার্ণের জন্য আবারও জোরালো ভাবে দাবি জানান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন প্রধান, লালপুর গীতা সৎ সঙ্গের সভাপতি অরুণ চন্দ্র দাস, লালপুর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি নীল রতন দাস, সাধারণ সম্পাদক অর্জুন দাস, দাপা ঋষি বাড়ির পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষে প্রদীপ দাস ও ফতুল্লা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ জাহান ভূইয়াসহ এলাকাবাসীরা।

জনগণের স্বার্থে দাপা গোসলের ঘাট মুক্ত এবং পাকাঘাট নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও