ধানের ফলন ভালো : রূপগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি

সাইদুর রহমান || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৩৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

ধানের ফলন ভালো : রূপগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি

ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। রাজধানী ঘেষা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা প্রায় ৭ হাজার ৮ শত ১০ হেক্টর জমির উপর বিভিন্ন প্রকার ধানের আবাধ করেছেন।

অনান্যা বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলনে এ এলাকার কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। ধানের এ বাম্পার ফলনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ উপজেলার কৃষকরা। বরদের সাথে পাল্লা দিয়ে ছোটরা ও পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ মৌসুমে কৃষকরা বিগত বছরগুলোর সব লোকসান কাটিয়ে লাভের আশা করছেন।

প্রতি বছরের মত এ বছর ও কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ উপজেলায় দিনমজুর এসে ধানের এ মৌসুমে দিন-রাত কাজ করে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে আয় করছে।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা আওলাদ হোসেন (দিনমজুর) বলেন, তিনি প্রতিবছর এ এলাকায় ধানের মৌসুমে এসে ধান কাটার কাজ করে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করে নিয়ে যায়। বিগত বছর গুলোর তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভাল হওয়ায় দিন-রাত কাজ করে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়ে পরিবারের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা করিয়ে ভাল ভাবে চলতে পারবে আওলাদ হোসেন।

ভোলাব ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, অনান্যা বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন অনেক ভাল হয়েছে। তিনি ১০ বিঘা জমিতে বি-২৮ ধানের আবাধ করেছেন। ধানের এ বাম্পার ফলনে আগের সব লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন কৃষক সিরাজ।

কুতুবপুর এলাকার কৃষক জাহিরুল মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমির উপর ইরি ধানের চাষ করেছেন ফসলও বেশ ভাল হয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ধানের আবাধ করে অনেক লোকসান হয়েছিল। অনান্যা বছরের তুলনায় ফলন ভালো আবহাওয়াও অনুকুলে বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আসবে ঘরে এটাই আশা করছেন কৃষক জাহিরুল মিয়া।

পূবেরগাঁও এলাকার কৃষানি মাজেদা বেগম বলেন, আবহাওয়া ভালো ঝর-বৃষ্টির আসার আগেই তারা ক্ষেত থেকে ধান কেটে নিয়ে আসবে। ক্ষেত থেকে ধান আনার পর ধান মারার কাজ শুরু। ধান মারার পর রৌদ্রে ধান শুকিয়ে সিদ্ধ করার কাজ। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় পরিবারের অভাব অনটন দুর করে কিছু সঞ্চয় করার আশা করছেন মাজেদা বেগম।

উপজেলা কৃষি অফিসার তাজুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮ শত ১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকারের ধানের আবাধ করেছেন কৃষকরা। এ উপজেলায় চালে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ২৫১৯৫ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি বিভাগেরে পক্ষ থেকে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও নতুন নতুন জাতের ধান আবাধে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও