ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবার মরণ ফাঁদ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ৫ মে ২০১৯ রবিবার

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবার মরণ ফাঁদ

মাত্র ১০ মাস আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ৮ কিলোমিটার সড়ক। বছর না ঘুরতেই সেই সড়ক মাঝারি যানবাহনের জন্য মরন ফাঁদ আর বড় যানবাহনের জন্য কলকব্জা মেরামতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের নির্মাণ কাজে কতবড় অনিয়ম হয়েছে তা জনসাধারনের চোখের সামনেই ফুলে ফেপে উঠেছে। আর এসকল অনিয়মের ফলে লিংক রোডে তৈরী হয়েছে অসংখ্য মরণ ফাঁদ।

গত বছরের জুনে শুরু হয় ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার। সড়ক ও জনপথের অধীনে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে নিজেদের অনিয়মের কার্যক্রম তুলে ধরে। সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সংস্কার কাজের টেন্ডার পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি। তারপরেও দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করে মন্থর গতিতে সম্পন্ন করে ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ।

কাজ শেষ হতে না হতেই সেপ্টেম্বরে পিচ ফুলে ফেপে উঠে সাইনবোর্ডগামী সড়কের আর্মি মার্কেটের সামনের অংশ। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে নতুন করে সেখানে ঢালাই মেরামত করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সড়কের শেষ রক্ষা হয়নি। সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকস্থানে ফুলে উঠে সড়কের পিচ। দিনের বেলা সেই পিচ পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূইগড়ে সড়কের উভয় পাশে পিচ ফুলে টিউমারের আকার ধারণ করেছে। রাতের অন্ধকারে ফাঁকা সড়কের এসকল টিউমার দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে অহরহ যার অধিকাংশই থেকে যায় আড়ালে।

সড়কে চলাচল করা সিএনজি চালিত অটো রিকশা, অটোরিক্সা, টেম্পু, লেগুনা সড়কের এসকল অংশ মুখস্থ রাখায় পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। কিন্ত গণপরিবহন ব্যতিত অন্যান্য যানবাহন এখানে এসে বাধার মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রাইভেটকার কিংবা রোগী বাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে পরে। মাঝে মাঝে গাড়ির তলার অংশেও ঘষা লাগে এসকল টিউমার। মোটরসাইকেল আরোহীরা সাধারণ গতিতেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন সড়কে চলার সময়। ফলে যেকোন মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি রাত ১০ টায় সস্তাপুরে পিচের টিউমার এড়াতে গিয়ে হিমাচল বাসের পেছনে ধাক্কা দেয় আলুবোঝাই একটি ট্রাক। ঘটনাস্থলেই আহত হয় ট্রাকের চালক, সহকারী এবং যাত্রী। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় সড়কের যান চলাচল। এরূপ অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও সড়ক ও জনপথের কোন নজর নেই। হয়তো চলাচলকারীদের প্রাণহানি অপেক্ষাতেই দিন পার করছেন তারা।

সড়কে চলাচলাকারী গাড়ি চালক জুয়েল আহমেদ বলেন, রাস্তায় মাঝে মাঝেই এসকল পিচ ফুলে থাকায় প্রবল ঝাঁকুনির মুখে পড়তে হয়। ঘাড়, পিঠ এবং কোমরে দীর্ঘসময় যন্ত্রনায় ভুগতে হয়। এছাড়া গাড়ির বিভিন্ন পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনের বেলা এসকল পিচ দেখে গাড়ী ধীরে চালাতে পারলেও রাতে তা সম্ভব হয়না। যেকোন মুহুর্তে এসকল স্থানে বড় দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

সড়ক ও জনপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্ষুদেবার্তা পেরন এবং পুনরায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেন নি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও