শহরে পথের ধারে অস্বাস্থ্যকর আখের রস বিক্রি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৪৫ পিএম, ৯ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

শহরে পথের ধারে অস্বাস্থ্যকর আখের রস বিক্রি

দিনের অসহ্যকর তাপদাহের পর রাতেও রেশ থাকে সেই তাপের। গরমে তাই কিছুটা ঠান্ডা হতে পথের ধারে শরবত ও আখের রস খেয়ে থাকেন অনেকে। এতে দেয়া হয় বরফকল থেকে আনা বরফও। তবে শরীরকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি শরীরের অনেক ক্ষতিও হচ্ছে এই রসে। সাধারণ মানুষের অনেকেই তার এসব অস্বাস্থ্যকর আখের রস বিক্রির বিপরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের দাবি করেছেন, নয়তো মানুষ এসব শরবত খেয়ে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা সাধারণ মানুষের।

বুধবার (৮ মে) রাতে তারাবির নামাজের পর সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে, নূর মসজিদের বিপরীতেসহ বিভিন্নস্থানে এরকম ভ্রাম্যমাণ আখের রসের গাড়িতে করে আখের শরবত বিক্রি করতে দেখা যায়। দেখা মেলে লেবু ও ওরস্যালাইনের শরবত বিক্রি করতেও।

কথা হয় শহীদ মিনারের পাশের আখের শরবত বিক্রেতা কবিরের সাথে। তিনি জানান, আখগুলোতে পানি দিয়ে তাজা রাখেন তিনি। আখগুলো কেনার পর নদীর পানিতে ধুয়ে আনেন তিনি, অনেক সময় পুকুরের পানিতেও ধুয়ে থাকেন। পরে এগুলো সারাদিন এভাবে খোলাই থাকে, এতে কথের ধুলোবালি পড়লেও এতে তেমন অভিযোগ থাকেনা পানকারীদের। আর বরফকলের এসব বরফ কিনে আনেন তারা, যেগুলো সকালে মাছ বিক্রেতাদের দেয়ার পর অবশিষ্ট থাকে সেগুলোই। অনেক সময় মাছ বিক্রেতাদের বিক্রি শেষে তাদের বরফও নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি।

প্রতি গ্লাস শরবত ১০ টাকা করে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। তবে বরফ ছাড়া শরবত খেলে ২০ টাকা করে গুনতে হচ্ছে।

জানা যায়, এসব আখগুলো খোলামেলা অবস্থায় সারাদিন পথের পাশে রাখার ফলে এতে পথের ধুলাবালি এসে পড়ে এবং মশা মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ও এগুলোতে বসে। তার উপর হাত না ঘুয়েই এসব মেশিনে আখগুলো শরবত করেন বিক্রেতারা।

এর মধ্যে দেয়া বরফগুলো সবচেয়ে ক্ষতিকর। একেবারে নদীর পানি কিংবা যেকোন পানি দিয়েই বরফকলের এসব বরফ মাছ তাজা রাখতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু এগুলো এখন শরবতের সাথে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে যা একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। এ বরফগুলো ও আখের রসগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে আর তাই দ্রুত এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ মানুষ।

একই অবস্থা শরবত বিক্রেতাদেরও। যেকোন স্থান থেকেই পানি সংগ্রহ করে সেখানে এই বরফগুলো দিয়ে সাথে লেবু ও ওরস্যালাইন মিশিয়ে শবরত বানিয়ে তা পথচারীদের খাওয়াচ্ছেন বিক্রেতারা।

শরবত খেতে আসা সোলাইমান জানান, আমি নামাজ পড়ে বের হয়েছি ভাবলাম এক গ্লাস আখের শরবত খেয়ে নেই কিন্তু এখানে তার অপরিষ্কার হাতের আখের শরবত, ময়লা বরফ আর মাছির অবস্থা দেখে আর খেলাম না। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত, নয়তো এ শরবতগুলো খেয়ে মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও