চঞ্চলের মায়ের অশ্রুতে বিচারের দাবি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪২ পিএম, ১৪ মে ২০১৯ মঙ্গলবার

চঞ্চলের মায়ের অশ্রুতে বিচারের দাবি

সন্তানের মা আর মায়ের সন্তান। একে অপরের ভালোবাসায় বন্দি। পৃথিবীর সব সুখও তুচ্ছ মায়ের ভালোবাসার কাছে। তেমনি পৃথিবীর সব ধনদৌলতের চেয়েও মায়ের কাছে সন্তান হলো অমূল্যরতন। কিন্তু সেই রতন কেড়ে নিয়ে অশ্রু জলে ভাসিয়ে দিল।

১২ মে রোববার ছিল আন্তর্জাতিক ‘মা’ দিবস। এমন দিনটি কেটেছে সন্তান হারানোর বেদনার মধ্যে দিয়ে। আর সেইসব মায়েদের মধ্যে আলোচিত নারায়ণগঞ্জের তরুন নাট্যকার দিদারুল ইসলাম চঞ্চলের মা খালেদা আক্তার রুবিনা।

দিদারুল ইসলাম চঞ্চলের মা

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার মো. আওলাদ হোসেনের ছেলে দিদারুল ইসলাম চঞ্চল। ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে চঞ্চল দ্বিতীয়। চঞ্চল নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সেই চঞ্চল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। সে নারায়ণগঞ্জ ঐকিক থিয়েটারের একজন সক্রিয় সদস্যও ছিল। ক্ষণজন্মা এই নাট্যকার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘শত মানুষের হাজার স্বপ্ন’, ‘হাড় তরঙ্গ’ এবং ‘বক্তাবলী’ নামে তিনটি নাটক রচনা করে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয় তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকের জন্য শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় তাকে। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চঞ্চল। ওই রাত ৩টায় চঞ্চল, তার বন্ধু মীম প্রধান, রাকিব ও শফিক একত্রে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকার একটি দোকানে চা-নাশতা খেয়েছিল। নিহত চঞ্চলের মোবাইলে রাত ৩টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ কল করেছিল মীম প্রধানের আত্মীয় মেহেদী হাসান রোহিত। সে মীমের সঙ্গে তাকে দেখা করতে বলে। এরপর থেকে চঞ্চল নিখোঁজ হয়। পরে ১৮ জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলে পুলিশ। খবর পেয়ে ১৯ জুলাই লাশের ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল। পরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে চঞ্চলের মা খালেদা আক্তার রুবিনা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

দিদারুল ইসলাম চঞ্চলের মা খালেদা আক্তার রুবিনা বলেন, সেই দিন রাতে রান্না প্রায় শেষ না হতেই অল্প কিছু খেয়ে বের হয়ে যায়। আমি বলেছি, ‘রান্না হয়ে গেছে খেয়ে যা’ কিন্তু আমাকে বলে গেছে মা কিছুক্ষণ পরে এসে আবার ভাত খাবো আর এসে বাপ আমার ভাত খাই নাই। কেন আমার ছেলেকে মারলো? কোন অপরাধে তাকে মারলো? কি দোষ ছিলো তার, যে তাকে মারতে হবে? কোন পাষন্ড আমার ছেলেকে মারলো? আমার ছেলে ভাত খাবে বলে গেলে কিন্তু পাষন্ডরা না জানি কত কষ্ট দিয়ে আমার ছেলে মেরেছে। কত বার জানি বাপ আমার মা, মা, বলে ডাকছে?

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে চঞ্চল লেখাপড়ায় অনেক ভালো ছিলো। কখন লেখাপড়া নিয়ে তেমন কিছু বলতে হয়নি। তার স্বপ্ন ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হওয়ার। কিন্তু সেটা আর হলো না।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও