রূপগঞ্জে কুইচ্ছা চাষে স্বাবলম্বি ৩০পরিবার

সাইদুর রহমান, রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৫৮ পিএম, ১৮ মে ২০১৯ শনিবার

রূপগঞ্জে কুইচ্ছা চাষে স্বাবলম্বি ৩০পরিবার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে এক ধরনের চাঁই ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে কুইচ্ছা। বিশেষ কায়দায় ধরা আর এসব কুইচ্ছা যাচ্ছে চীন রাষ্ট্রে। আর কুইচ্ছা বিক্রি করে অন্তত ৩০ পরিবার স্বাবলম্বি। প্রতিমাসে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয় করেন তারা। কুইচ্ছা ধরার পদ্ধতি দেখে ও লাভ জনক পেশা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

কুইচ্ছা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, তার বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার উজানভাটিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম আবুল মিয়া। তিনি ছোট ভাই আতাউরকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে কুইচ্ছা ধরে বিক্রি করে আসছেন।

মাযাহারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফার মতো আশ্রাফুল ইসলাম, মাঝু মিয়া, আঙ্গুর মিয়াসহ ৩০ পরিবারের লোকজন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

তারা জানান, ৩০টি পরিবারের মধ্যে প্রতি পরিবারের ১০০ থেকে ১৫০টি চাঁই রয়েছে। কেঁচো গেথে এসব চাঁই খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁতা হয়। হাটু পর্যন্ত পানিতেও চাঁই পাতা হয়ে থাকে। বর্তমানে তারা হাটাব, আমলাব, কালী, বাড়ৈপাড়, কর্ণপোগ, পাঁচাইখা, ভায়েলা, মিয়াবাড়ী, শান্তিনগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে কুইচ্ছা ধরছেন।

প্রতি জন গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজী কুইচ্ছা ধরছেন। আর প্রতিদিন বেপারীরা এসব কুইচ্ছা কেজি দর হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি কুইচ্ছা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসেবে প্রতি পরিবার প্রতিদিন এক হাজার টাকা আয় করছেন। আর মাসে আয় হচ্ছে ৩০ হাজার। তাহলে ৩০ পরিবার আয় করছেন ৯ লাখ টাকা।

জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বইদ্ধার বাজার এলাকায় ও রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং কোনাবাড়ি এলাকায় কুইচ্ছার আড়ৎ রয়েছে। ওই আড়ৎ থেকে সপ্তাহে দুই দিন চীন রাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। ওই দুই দেশে কুইচ্ছার চাহিদা অনেক বেশি। স্বাদের খাবার হিসেবে গ্রহন করেন চীন রাষ্ট্রের নাগরিকরা।

কুইচ্ছা ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, আমাদের দেশে কুইচ্ছা অনেকেই পছন্দ করেনা। এ জন্য কেউ এ পেশায় ঝুঁকতে চায়না। তবে, আমাদের দেখে ও লাভ জনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেছে। সরকারী ভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলে কুইচ্ছা চাষের উপড় প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক বলেন, বর্তমানে কুইচ্ছা একটি লাভ জনক পেশা আমরাও জানি। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা চেষ্টা করবো সরকারী ভাবে সহযোগিতা করার।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও