জেব্রা ক্রসিংয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত নগরবাসী

সোহেল রানা, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ১৯ মে ২০১৯ রবিবার

জেব্রা ক্রসিংয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত নগরবাসী

ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ তপ্ত রোদ আর রোজার ক্লান্তি নিয়ে জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। উদ্দেশ্য যানবাহন থামালে সড়ক পার হবেন তিনি। কয়েক মিনিট পর পুলিশের কনস্টেবল গাড়ি থামার জন্য সিগন্যাল দিলেন। কিন্তু সব গাড়ি গিয়ে থামলো জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর। কয়েকটা রিকশা জেব্রা ক্রসিং পার করে এসে দাঁড়ালেন। এতে করে সড়ক পার হবার জন্য বিন্দু পরিমাণ জায়গা বাঁচলো না। এদিক সেদিক কয়েকবার তাকিয়ে বাধ্য হয়ে সামান্য ফাঁক ফোকর দিয়েই সড়ক পার হলেন তিনি।

ঘটনাটি চাষাঢ়া বাইতুল আমানের সামনে ১৯ মে রোববার দুপুরের। নিয়ম না মানায় চাষাঢ়া মোড়ে এমন ভোগান্তির চিত্র হরহামেশাই চোখে পরে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ফতুল্লায় থাকেন। কিছু কেনাকাটা করার জন্য শান্তনা মার্কেটে যাওয়ার জন্য সড়ক পার হচ্ছিলেন। চালকেরা নিয়ম কানুন না মানায় এমন ঝুঁকি নিয়েই সব সময় সড়ক পার হন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক দিন পরে আমরা সড়কে জেব্রা ক্রসিং পেলাম। যদিও আমাদের দাবি ছিল এখানে ফুট ওভার ব্রিজ হবে। কিন্তু এই জেব্রা ক্রসিংয়ের কোনো সুফল আমরা পাই না। গাড়ি থামার সিগন্যাল দিলে সবাই জেব্রা ক্রসিংয়র উপরে এসে গাড়ি থামায়। মানুষের পারাপারের জন্য কোনো জায়গা থাকে না।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম জায়গা হচ্ছে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর মোড়। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহনের চলাচল এই সড়ক দিয়ে। সেই সাথে অসংখ্য মানুষের চলাচল। সামনে ঈদ থাকায় এখন ব্যস্ততা আরো কয়েকগুণে বেড়ে গেছে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে মাস খানেক আগে চাষাঢ়া মোড়ের তিনটি জায়গায় জেব্রা ক্রসিং দেয়া হয়। যদিও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল এখানে যাতে ফুটওভার ব্রিজ তৈরী করা হয়। কিন্তু বহু আন্দোলনের পর জেব্রা ক্রসিং পেলেও এর সুবিধা পাচ্ছে না সাধারণ পথচারীরা। চালকদের অসচেতনতা আর আইন না মানার কারণে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ নগরবাসী।

গাড়ি চালক আলী হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শুধু আমাদের দোষ দিলে হবে না। পথচারীরা যেখানে খুঁশি সেখান দিয়ে রাস্তা পার হয়। তাঁরা সিগন্যাল দেওয়ার আগেই দৌড় দেয়। আচমকা গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন প্রচুর বিরক্তিকর লাগে। তাই সবাই সামনের দিকে থাকতে চায় যাতে কেই সামনে আসতে না পারে। যদি পথচারীরা নিয়মমত তাদের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতো তাহলে আমাদের কোনো প্রয়োজন হতো না জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি থামানোর। নিজেরা নিয়ম মানে না অথচ কিছু হলেই আমাদের দোষ দেওয়া হয়।

নারাযণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) শরফুদ্দিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এখানে যার যেদিক দিয়ে খুশি দৌড়ায়। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে কেউ পার হয় না। সবাই গড়ি সিগন্যাল দিয়ে দৌড়ায়। পথচারীরা যদি জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর দিয়ে পারাপার হয় তাহলে ড্রাইভাররা গাড়ি থামাতে বাধ্য। পথচারীরা নিজেদের মত পার হচ্ছে ড্রাইভাররা নিজেদের মত গাড়ি থামাচ্ছে। যদি আমরা নিজেরাই সচেতন না হই। এখানে পুলিশেরি কি করার আছে।

এসময় তিনি আরো বলেন, চাষাড়া এই মোড়ে দুই জন কনস্টেবল আছে আর একজন সার্জেন্ট আছে। কনস্টেবল সিগন্যাল দেয় ড্রাইভাররা তাকে পার করে এসে গাড়ি থামায়। এখানে পুলিশের দোষ দিয়ে লাভ নেই। প্রেশার ক্রিয়েট করে কতক্ষন আইন মানানো যাবে। বেশি প্রেশার দিলে আবার দেখা যায় পুলিশের সাথেই মারামারি লেগে যায়। নিজেদের থেকে সচেতন হওয়া খুবি জরুরি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও