মেঘনা সেতুতে যানজটহীন স্বস্তির নিঃশ্বাসে যাত্রীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:০১ পিএম, ২৫ মে ২০১৯ শনিবার

মেঘনা সেতুতে যানজটহীন স্বস্তির নিঃশ্বাসে যাত্রীরা

বহুল প্রতীক্ষিত মেঘনা সেতুর উদ্বোধন হওয়ায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট একেবারেই নেই বলা চলে। সেতুটি হওয়ায় প্রতি বছরের মত এবার আর ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফেরার পথে মানুষের আর ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট পোহাতে হবেনা।

শনিবার (২৫ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় সাত মাস আগে দ্বিতীয় কাঁচপুরসহ এ নতুন দু’টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকতে হতো দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে সেখানে একেবারেই ফাঁকা এ সড়কটি। এখানে শুধুমাত্র টোল আদায়ের সময়টুকু ছাড়া আর কোন জটলাও নেই।

জানা যায়, প্রতি বছর ঈদসহ বড় কোন ছুটি আসলেই বাড়িফেরা মানুষের চাপে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এ সড়কে। এ যানজট ছাড়িয়ে যায় কাঁচপুর সেতু ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কেও। গত বছর রমজানের শেষ দিকে ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়িফেরা মানুষের চাপে এ যানজট ঢাকা নারায়ণগঞ্জের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার পর্যন্ত চলে আসে। তবে এবার আর সে ধরনের কোন সমস্যা থাকবেনা বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর ওপর ১২টি স্প্যানের ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে চলে ৪১তম মাসে এসে শেষ হয় সেতুটির নির্মাণ কাজ।

এ পথে চলাচল করা যাত্রী কলিমুল্লাহ জানান, আমি প্রতি সপ্তাহে ঢাকা আসি ব্যবসায়ীক কাজে। আগে তো এই সড়কটি পার হতেই সময় লাগতো কয়েকঘন্টা। ঈদের আগে তো এক স্থানেই কয়েক ঘন্টা পার করে দিতে হতো আমাদের। আজকে সেতু চালু হবার পর তো মুহূর্তেই পার হয়ে এলাম। এবার আর ঈদে যানজট সমস্যা আমাদের ভোগাবেনা বলেই আশা করছি।

সৌদিয়া পরিবহণের বাসচালক বিল্লাল জানান, সেতু চালু হওয়ায় এক টানে চলে আসছি ঢাকা। আগে তো যেতে আসতে আমাদের অনেক সময় লাগতো। এমনো দিন গেছে আমরা সড়কেই ইফতার ও সেহরি করেছি গত রোজায়।এবার আর গতবারের মত কোন যানজট থাকবেনা বলে আশা করা যায়।

স্থানীয় সূত্রমতে, জাতীয় এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। গোমতী-মেঘনা এ দুই সেতুর টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে গিয়ে যানজটের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। নিত্যদিনের যানজটের কারণে মহাসড়কটি মহাভোগান্তিতে রূপ নিয়েছিল। বিগত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে চলমান এ ভোগান্তির অবসানে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় গোমতী-মেঘনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসনিম হোসেন জানান, প্রতি বছর আমরা এ যানজট নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশের সহায়তা নিয়ে থাকি। এ বছর এ সেতু ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু থাকায় আর কোন যানজট সমস্যা থাকবেনা বলে প্রত্যাশা করি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও