মানবসেবায় কৃষকের ছেলের ঈদ আনন্দ বলিদান

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩২ পিএম, ২৯ মে ২০১৯ বুধবার

মানবসেবায় কৃষকের ছেলের ঈদ আনন্দ বলিদান

‘মানুষ মানুষের জন্য’ বিখ্যাত এই গানটিকে উপলব্ধি করে এবারের ঈদ আনন্দকে গরীব দুঃখিদের সাথে ভাগাভাগি করে উদারতার নজির সৃষ্টি করেছেন এক কৃষকের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন। মানুষের সংকটে, বিপদে-আপদে মানুষই ছুটে এসে একে অপরকে সাহায্য করবে-এই প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তবে নিজের আনন্দকে ম্লান করে রীতিমত দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে এতিম সন্তানের জন্য দান করে দিলেন এবারের ঈদের জন্য পুরো পরিবারের কেনাকাটা সহ ব্যক্তিগত উপার্জিত নগদ দুই লক্ষ টাকা।

২৯ মে  দুপুরে বিল্লাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ রেজিস্ট্রার অফিসের নীচে এতিম শিশুর স্বজনের কাছে এই টাকা তুলে দেন। 

জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. বিল্লাল জানান, আমি চাইলে এই টাকা দিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারতাম। অনেক কিছুই করা যেত তবে মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যে আনন্দ ও তৃপ্তি আছে যা সবকিছুর চেয়ে আলাদা। আমি চাইনা, এ কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা নিতে। তবে এটা চাই, একটি মেসেজ পৌছে দিতে তা হলো, আমরা অল্প করে শত মানুষকে না দিতে চাইলে পারি পাশে থাকা একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তার মুখে হাঁসি ফুটাতে।

বিল্লাল হোসেন এতিম শিশু সম্পর্কে জানান, আমি বিভিন্ন সময়ই রেজিস্টার অফিসে আসতাম সে সুবাধে এখানকার কর্মচারী মো. শাহিনুর ইসলামের সাথে আমার পরিচয় হয়। সে খুবই বিনয়ী ছিল। তার ব্যবহার আমার মন ছুয়ে যেত। বেশ কয়েকমাস পর এখানে এসে জানতে পারি শাহিনুর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এতে আমি খুব ব্যাথিত হই। যার একটি ফুটফুটে ৫ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে। যাকে একদিন আমি এসে দেখতে পাই। এরপর থেকে পিতা হারা সন্তানের জন্য আমি খুব কষ্ট বোধ করি। কথা হয় শাহিনুরের স্ত্রী ও শাশুড়ির সাথে। আজ আমার বাবা আছে তাকে নিয়ে ঈদ করবো। কিন্তু এই সন্তানটি তো বুঝেও না তার বাবা নেই। তাই আমি তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আমার পরিবারের সাথে কথা বলে তার জন্য এই টাকা দিয়েছি।

নিহত শাহিনুর ইসলামের স্ত্রী জানায়, যে যায় তাকে তো আর পাওয়া যাবেনা। আমি শুধু আমার ছেলেকে নিয়ে বাঁচতে চাই। তবে আমার বর্তমানে উপার্জনের কোন ব্যবস্থা নেই। ছেলের ভবিষ্যতের কথা মনে হলে আমি ঠিক থাকতে পারিনা। আমার স্বামী নেই, সন্তানই শেষ সম্বল। উনার এই টাকাগুলো পেয়ে আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ। তবে আমার অনুরোধ থাকবে কেউ যেন আমাকে কোন একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন। তাহলে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিতে পারব। 

নিহত শাহিনুরের শাশুড়ি বলেন, জামাই শাহিনুর অনেক ভালো ছিল। তার প্রমাণ আমি বাস্তবে দেখলাম। এর প্রতিদান আমার নাতি পেয়েছে। তবে আমি বিল্লালের জন্য দোয়া করি।  যিনি এই এতিম শিশুটার জন্য এত বড় উপকার করেছে। 

উল্লেখ্য, নিহত শাহিনুর ইসলাম নারায়ণগঞ্জ রেজিষ্টার অফিসে মাত্র কয়েকমাস ধরেই নিম্ন সহকারী হিসেবে চাকুরী করতেন। সে ঝিনাইদহ এলাকার বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জের জামতলা এলাকায় বোনের বাসায় থেকে চাকুরী করত। মূলত তার স্ত্রীকে নিয়ে শাহিন সেখানেই বসবাস করত। ছুটিতে বাড়ি গেলে গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও