‘পোলা মাইয়ারে ঈদের জামা কাপড় কিনা দিমু কেমনে কিছুই বুঝতাছি না’

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ৩০ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

‘পোলা মাইয়ারে ঈদের জামা কাপড় কিনা দিমু কেমনে কিছুই বুঝতাছি না’

‘এই গার্মেন্টে আমি গত ১২ বছর ধইরা চাকরি করি। নিজের ঘরের কাজ যেইভাবে করতাম। এইখানেও সেই ভাবেই কাজ করতাম। একটা সুতাও কখনো নষ্ট হইতে দেই নাই। সেই গার্মেন্টের মালিক আমাদের পেটে লাথি মারলো। ঈদের আগে আমাগো বেতন আটকাইলো। এখন পোলা-মাইয়ারে ঈদের জামা-কাপড় কিনা দিমু কেমনে কিছুই বুঝতাছি না।’

৩০ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিত মানববন্ধনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদেতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আর ওড়না দিয়ে চোখ মুছছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের প্যাপিলন নীট এপারেল্স এর শ্রমিক নাহার বেগম।

প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী ওয়াহিদুল ও তিন সন্তান নিয়ে অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিলেন তনি। এই গার্মেন্টে ১২ বছর ধরে কাজ করছেন। স্বামী দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে শ্রমীক হিসেবে কাজ করেন। হঠাৎ বেতন পরিশোধ না করে কোনো নোটিশ ছাড়াই গার্মেন্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় পথে বসতে বসেছে তাঁর মত আরো অন্তত চারশ শ্রমিক ও তাদের পরিবার। ঈদ যত কাছে এগিয়ে আসছে সবার মুখে ঈদের আমেজ থাকার কথা। তবে এসব শ্রমিকদের ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পরছেন তাঁরা। কিভাবে বাড়ি ভাড়া দিবেন, ছেলে মেয়েদের ঈদের জামা-কাপড় কিভাবে কিনে দিবেন সেই চিন্তাতেই নির্ঘুম রাত্রী যাপন করছেন প্যাপিলন গার্মেন্টের শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মার্চ মাসে শেষের দিকে বৃহস্পতিবার কাজ করার পর সবাই বাসায় চলে যান। শনিবার কাজে যোগ দিতে গার্মেন্টের সামনে আসলে সবাইকে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই দিন পর কাজে যোদ দিতে আসলে গেইটের সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গার্মেন্ট বন্ধ নোটিশ দেখতে পান এবং গেইটা তালা লাগানো দেখেন।

কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, অভাবে পইরা নারায়ণগঞ্জে আইছিলাম। স্বামীর একার ইনকাম দিয়া সংসার চলে না। তাই আমিও গার্মেন্টে কাজে লাগছি। মানুষ করার জন্য পোলা-মাইয়ারে স্কুলে ভর্তি করছি। দুই জনের ইনকাম দিয়া বড় মেয়েরে বিয়া দিছি। মোজো ছেলে এইবার এসএসসি পরীক্ষা দিছে। আর ছোট মেয়েটা ক্লাস ফাইভে পড়ে। দুই জনের টাকা দিয়া টানাটানি কইরা সংসার চলতো। কিন্তু বেতন না দিয়া গার্মেন্ট বন্ধ কইরা দিছে। এখন তাদের পড়ালেখার খরচ চালাইতে পারি না। ঈদের কেনাকতাটা আর কেমনে কইরা দিমু।

টাকা পয়সার টানাটানির কারণে গত দুই বছর ধইরা গ্রামে যাই না। ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষা দিছে তাই এইবার খুব শখ করছিলাম পোলা-মাইয়া নিয়া গ্রামে যামু। কিন্তু এইবারও আশা পূরণ হইলো না।’

এসব শ্রমিকদের সাথে আন্দোলনকারী গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, গার্মেন্টটিতে প্রায় ৪০০ জন শ্রমিক কাজ করতো। এদের কারো তিন মাস কারো দুই মাসের বেতন বকেয়া আছে।

আমরা প্রাপ্য বেতনের জন্য বিকেএমইএ, এবং কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে কোনো ফল আমরা পাই নাই। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও