পথে পথে ইফতার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১ জুন ২০১৯ শনিবার

পথে পথে ইফতার

নারায়ণগঞ্জ শহরে ঈদ মৌসুমে হকারে হকারে একাকার। এমন কোন পথ এবং ফুটপাত নাই যেখানে হকার বসে না। দুপুর থেকে এসব হকার তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। পরন্ত বেলায় বিকিকিনি হতে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি বিকিকিনি হয় সন্ধ্যার পর। এসব হকারদের মধ্যে রোজা রাখার সংখ্যার চেয়ে রোজা না রাখার সংখ্যাই বেশি। তার পরও সন্ধ্যায় ইফতারের আয়োজন থাকবে নিশ্চিত ভাবে। এসব আয়োজন শুরু হয় যখন ক্রেতার সংখ্যা কমতে থাকে ইফতারের সময় এগিয়ে আসে। তখন দোকানে দোকানে চলে এই ইফতার আয়োজন। সেখানে পরিবেশ আর পদের কোন আগ্রহ নেই। আগ্রহ শুধু ইফতার নিয়ে। উচ্ছাস আর আনন্দে কাটে এদের প্রতিদিনের ইফতার। নারায়ণগঞ্জের পথে পথে এমন ইফতারের দৃশ্য আন্তরিকতা আর মেলবন্ধনের উত্তম উদাহরণ।

চাষাঢ়া থেকে দুইনম্বর হয়ে ডিআইটি। এর বাইরে রয়েছে একনম্বর রেল গেট থেকে চারারগোপ হয়ে গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক। অপর দিকে চাষাঢ়া থেকে হকার্স মার্কেট এই সড়ক গুলোতে সবচেয়ে বেশি হকার বসে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার হকার শহরে বসে। শহরের বাইরে, পঞ্চবটি, ফতুল্লা বাজার, পাগলা, সিদ্ধিরগঞ্জ, আদমজী, শিমড়াইল, লিংক রোড, কাঁচপুর, মদনপুর, মোগড়াপাড়া, তারাবো, ভুলতা গাউসিয়া অঞ্চলেও হকার বসে সড়কের দুই ধার ঘেঁষে।

এসব হকারদের রোদ-ঝড়-বৃষ্টি কোন কিছুতেই দমে না। তারা তাদের রুটি-রুজির স্বার্থেই এই ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন। তবে দিন শেষে এই রমজানে তাদের ভ্রাতৃত্ববোধ চরম আকার ধারণ করে। তারা সবাই মিলে মিশে ইফতারীতে শামিল হন। তাদের এই শামিলে অংশ নিতে দেখা যায় পথচারী, পথ শিশু এবং ফকির-মিসকিনকেও। এই সময়টি তারা উদার হস্তে বিলিয়ে দেন ইফতার সামগ্রী।

রতন মিয়ার রেডিমেট শার্টের দোকান। তার সঙ্গে অন্য সময় একজন থাকে তবে ঈদ এবং অন্যান্য মৌসুমে থাকে দুইজন। তাদেরকে নিয়েই ইফতারির আয়োজন করেন তিনি। তবে তার এই আয়োজনে যোগ দেন আশপাশের দোকানীরাও। সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে তিনি গত রোজাগুলোতেও এই আয়োজন করে ছিলেন।

রতন মিয়া বলেন, চাঁদা তুলে ইফতার সামগ্রী কেনা হয়। একত্রে বসেই সবাই ইফতার করে থাকি। সবাই মিলে ইফতার করার আনন্দই আলাদা। ২০ টাকা করে দেয়ার নিয়ম কিন্তু কেউ কেউ বেশি দিয়ে থাকে। একেক সময় একেক জন বেশি দেয়। তবে বেশি দেয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাই প্রাধন্য। কারো উপরে কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া হয় না। অনেক সময় বেচাকেনা একরকম থাকে না। তখন একজনেরটা অন্যজন দিয়ে থাকে। এতে আমাদের কোন সমস্যা হয় না। একরকম চলেই যায়। সবাই আমরা ভরপুর খেয়ে থাকি।

তার কর্মচারী একরাম বলেন, ইফতারী বানানোতে যারা এক্সপার্ট তারাই বানিয়ে থাকে। তবে সহায়তা কওে থাকি সবাই। কেউ পানি আনি, কেউ পেয়াঁজ-মরিচ কাটি, কেউ সরবত বানাই। এভাবেই ইফতার তৈরী করা হয়। কোন দিন এ নিয়ে কোন হৈচৈ হয় না। তবে ঈদের কাছাকাছি সময়ে এতো শানদার ইফতারি হয় না। তখন অনেক ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দ্রুত ইফতার শেষ করতে হয়। তখন আমরা রেডিমেট ইফতারি খেয়ে থাকি। অবশ্য তখন ইফতারির দিকে তেমন একটা নজর থাকে না।

একরাম বলেন, তাদের সঙ্গে সেই লোকটাও ইফতার করে যিনি তাদের দোকানের পাশে ভিক্ষা করতে বসেন। তাকে একা ফেলেতো ইফতার করা যায় না। এমন ভাবে যারা পথ শিশু আছে তাদেরও ডেকে তারা ইফতারি দিয়ে থাকে। এক কথায় উপস্থিত সবাই মিলেই ইফতার করতে তাদের আনন্দ। পথেই যারা থাকে তারা পথেই ইফতারও করে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও