ঈদে ঘুরতে পারেন বাংলার তাজমহল, পানাম নগরী ও সোনারগাঁও যাদুঘরে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫৮ পিএম, ৪ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

ঈদে ঘুরতে পারেন বাংলার তাজমহল, পানাম নগরী ও সোনারগাঁও যাদুঘরে

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার দুটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এগুলো হলো ‘বাংলার তাজমল’ ও ‘সোনারগাঁও যাদুঘর’ (বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন)।

এক সময়ের প্রাচীন বাংলার স্বাধীন রাজধানী সোনারগাঁও উপজেলার দুটি স্থান-ই স্থানীয় ও আশেপাশের জেলার মানুষের আকর্ষণ করে। অন্যবারের মত এবারের ঈদেও এ দুটি স্থানে দেশী বিদেশী রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর জন্য এসব দর্শনীয় স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া মোছা ও পরিচর্যার কাজ।

বাংলার তাজমহল ও সোনারগাঁও যাদুঘর ছাড়াও যাদুঘর লগোয়া প্রাচীন নগরী ‘পানাম’ আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী উপজেলার মেঘনা নদীর পার, রূপগঞ্জে বেসরকারিভাবে নির্মিত জিন্দা পার্ক সহ আরো কয়েকটি পার্কেও মানুষের ভীড় থাকতে পারে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে শহরে প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্র একেবারেই প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিটি পার্কেই রাইডগুলো পরিষ্কার করা, পার্ক আলোকসজ্জিত করা, অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেয়ার কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।

শহরের বরফকল এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ`র ইকো পার্ক (চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক), পঞ্চবটীর অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নম পার্কগুলো ইতোমধ্যেই প্রস্তুত হয়েছে ঈদে বিনোদন প্রেমী মানুষকে আনন্দ দিতে।

প্রতি ঈদেই এই পার্কগুলতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। ঈদের দিন থেকে পার্কগুলো দর্শনার্থী ও পার্কে আগতদের সামাল দিতে হিমশিম খান। পার্কগুলোতে মানুষের বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত লোকবলের প্রয়োজন হয়। মানুষের ভীড়ে ইকো পার্কের সামনে গত বছর সড়কে ঈদের পর থেকে প্রতিদিনই টানা যানজট লেগে থাকতো। ঈদে পরে বাড়তি লোকের ব্যবস্থা করেও এই চাপ সামাল দিতে পারেনি পার্ক কর্তৃপক্ষ। এবার আর সেই ভূল না করে আগে থেকেই পার্কগুলো অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দিয়েছে।

শহরের এই চার দেয়ালে বন্দি জীবনের পাশাপাশি কর্মব্যস্ত মানুষগুলো ঈদ ও বিভিন্ন পার্বনে ছুটি পেয়ে থাকেন। এই ছুটিতে তাই তারা পরিবার পরিজন ও আপনজনদের নিয়ে ছুটে যান অবসরের সময়গুলো কাটাতে এসব পার্কে। বিশেষ করে শিশু ও সন্তানদের নিয়ে মা বাবারা পার্কগুলোতে ঘুরতে যান ঈদের পর পরই। এবারো প্রতি বছরের মতই ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে পার্কগুলোর কর্তৃপক্ষরা প্রত্যাশা করছেন।

সোনারগাঁও যাদুঘর

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও যাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর ফাউন্ডেশনকে সাজানো হবে ভিন্ন সাজে। করা হবে বর্ণিল আলোকসজ্জা।

ঈদের ছুটিতে যাদুঘরে হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদুঘরে আসার প্রবেশ পথে যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যাদুঘরের বিভিন্ন অংশে চলছে ধোয়া মোছার কাজ।

প্রসঙ্গত সোনারগাঁও এক সময় মসলিনের জন্যও জগত বিখ্যাত ছিল। মসলিনের বিকল্প জামদানী শাড়ী আপনি তাতীদের সরাসরি তৈরী করতে দেখা যাবে কারুপল্লীর ভিতরে। এখানে দেখারমতো রয়েছে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘর এবং ফাউন্ডেশন চত্বর। লেকঘেরা ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে কারুপল্লী, নৌকা ভ্রমণ ও টিকিট কেটে মাছ ধরার ব্যবস্থা।

বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁ দীর্ঘদিন সোনারগাঁও শাসন করেছেন। সোনারগাঁও এর চারদিকে নদী দিয়ে ঘেরা ছিল বলে সহজে সোনারগাঁওকে কোন শত্রু আক্রমন করতে পারতো না। ১৯৭৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশমূল্য ১০ টাকা আর বিদেশী পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা।

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গোয়ালদী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগর। প্রাচীন এ নগরীর ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান এখানে। পানামনগরের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক পনাম পুল। যারা যাদুঘর দেখতে আসে তারা সাধারণত একটি বারের জন্য ঘুরে যায় পানাম নগরীতে।

বাংলার তাজমহল

২০০৮ সালের ঈদুল আজহার সময়ে সোনারগাঁওয়ের মত অজপাড়া গায়ে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত “বাংলার তাজমহল” এর ফটক সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো টাইলস, বিদেশী ডায়মন্ড ও পাথর, গম্বুজের ওপরে ব্রোঞ্জের তৈরী চাঁদ-তারায় আরো দৃষ্টিনন্দন হয় ওঠেছে বাংলার তাজমহল। সেই সঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া মোছার কাজ। ফলে এবার ঈদের ছুটিতে তাজমহল দেখতে দেশী বিদেশী রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চলচ্ছিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লা মনি নিজস্ব অর্থে পেরাব গ্রামে নিজ বাড়িতে ১২ বিঘা জমির ওপর তাজমহলটি নির্মাণ করেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের বরাবো কিংবা ঢাকা-চট্রগ্রাম মহসড়কের বন্দর থানার মদনপুর বাস স্ট্যান্ড নেমে সহজেই যাওয়া যাবে সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামের তাজমহলে। ঢাকা থেকে এর দুরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলের স্থান সহজে চেনার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে নির্দেশনার সাইনবোর্ড।

পানাম নগরী

বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী বীর ঈশাখাঁর সময়কালে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। সোনারগাঁয়ের রাজদন্ড ও রাজকার্য পরিচালিত হতো পানাম নগরী থেকে। পানাম নগরীই যে প্রাচীন বাংলার রাজা ও আমির-ওমরাহদের বাসস্থান ছিল তার প্রমাণ এ অঞ্চলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। শত শত বছরের অনাদর আর অবহেলার চিহ্ন গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষগুলো। এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অট্টালিকা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, নাচ ঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপ, প্রশস্ত দেয়াল, ভোজনালয়, বিচারালয়, প্রমোদ কুঞ্জ ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় চারশ’ বছরের পুরনো মঠ-বাড়ি। এর পশ্চিমে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য কুঠি ‘নীলকুঠি’ রয়েছে। পোদ্দার বাড়ি, কাশিনাথের বাড়ি, সোনারগাঁয়ের একমাত্র আর্টগ্যালারিসহ নানা প্রাচীন ভবন। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। শেরশাহ আমলে নির্মিত সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু পর্যন্ত প্রায় ৩০০মাইলের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড-ট্রাংক রোডের কিছু অস্তিত্ব পানামে আজো দৃষ্ট হয় বলে হাল আমলে তা পাকা করা হয়।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও