ঈদের আনন্দের গান বাজনার শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫২ পিএম, ৫ জুন ২০১৯ বুধবার

ঈদের আনন্দের গান বাজনার শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ

পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর পাড়া মহল্লাতে বাদ্য বাজনা ও উচ্চস্বরের সাউন্ড সিস্টেমের কারণে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন। তাঁরা বলছেন, চাঁদ রাত থেকেই শুরু হয়েছে অত্যাধিক সাউন্ডে গান বাজানো। অনেক স্থানে ডিজে সাউন্ড ব্যবহার করার কারণে এ ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়েছে।

৫ জুন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, খানপুর সহ আরো কয়েকটি এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা মুঠোফোনে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এ তথ্য জানান। তাদের মতে শুধু এসব এলাকা না বরং নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার পাশাপাশি শহরতলীতে এর ভোগান্তি আরো বেশী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এমনিতে লাইটিংয়ের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। তার পরে ঈদের দিন সকাল থেকেই চলছে উচ্চস্বরে বাদ্য বাজনা। এতে অনেক বাড়িতে বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া অনেক স্থানেই আপত্তিকর অনেক গান বাজানো হচ্ছে। এতে শিশুরা এ থেকে ভিন্ন শিক্ষা নিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ রাজধানী ঢাকায় ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে।

শব্দ দূষণের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শহরকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে: নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, শিল্প এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা। এসব এলাকায় দিন ও রাত ভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবেল, নীরব এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক এলাকায় ৬০ ডেসিবেল, রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। আইনানুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ন বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এর আগে নাগরিক কমিটি বন্দর শাখার নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য করেন, ইদানীং বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি যেমন, গায়ে হলুদ, বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ ও বিভিন্ন সামাজিক উৎসব ও পার্বণকে উপেক্ষা করে রাস্তার মোড়ে কিংবা বাড়ির ছাদে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এমপিলফায়ার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে শব্দ দূষন করে কোমলমতি ছাত্রছাত্রী এমনকি বয়স্ক লোকদের ক্ষতিসাধন করে আসচ্ছে। এমপিলফায়ার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহারের কারনে ছাত্রছাত্রীগন লেখাপড়া মনোনিবেশ করতে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়াও ঘরে বিশ্রামরত বয়োঃবৃদ্ধ অসুস্থ মানুষ বিকট শব্দ দুষনের কারনে আরো অসুস্থ্য হয়ে পরছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পর্ন সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করে সারাদিনের কর্মক্লান্ত মানুষগুলো যখন একটু শান্তিতে ঘুমাবার জন্য বিছনায় গা লাগিয়ে দেন তারাও শব্দ দূষনের কারনে অস্থির নির্ঘুম রাত কাটান। এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নাগরিক কমিটি বন্দর থানা শাখা এর প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রেরণ করেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও