শীতলক্ষ্যায় ডুবলো ফেরির পল্টুন

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯ শুক্রবার

শীতলক্ষ্যায় ডুবলো ফেরির পল্টুন

শীতলক্ষ্যা নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল নদী পথে ফেরী চালু করা। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাজীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে এবং ৫নং খেয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি দিয়ে ফেরী চালু করা হয়। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেরী এখন পর্যন্ত চালু থাকলেও ৫নং খেয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি দিয়ে চালুকৃত ফেরী দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে এবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানির নিচে ডুবে গেছে ফেরীর জন্য তৈরী করা পল্টুনটি।

জানা যায়, গত বছরের ২১ আগস্ট আনুষ্ঠানকিভাবে বন্দর উপজেলার ময়মনসিংহ পট্টি খেয়াঘাট থেকে শহরের ৫নং খেয়াঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এই খেয়াঘাট দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ প্রতদিনি নৌকা ও ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়। তাই এই ফেরির জন্য মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং ব্যবসা বানিজ্যের সুবিধার্থে এই ফেরি চলাচল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

তবে ফেরী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ফেরীর চালুর পর থেকেই যাত্রীর অভাবে একদিন চললে পরবর্তী দুই তিনদিন বন্ধ থাকতো। অল্প কয়েকজনের জন্য তো আর ফেরী চালানো যায় না। ফেরী চালাতে গেলে খরচের প্রয়োজন হয়। যদি সেই খরচ উঠানো সম্ভব না হয় তাহলে ফেরী কিভাবে চলবে। সবসময় তো ভুর্তকি দেয়া সম্ভব হয় না। আর সেই কারণেই সর্বশেষ একেবারেই ফেরী চলাচল বন্ধ ছিল। ঘুমিয়ে সময় কাটতো ফেরী চালকের। তারই ধারাবাহিকতায় এবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফেরীর জন্য তৈরী করা পল্টুনটিও ডুবে গেছে।

১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে এমন চিত্র। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে ফেরী চলাচল বন্ধ ছিল। পল্টুনেরও রাখা হয়নি কোনো খোঁজ খবর। ফলে অযত্ম আর অবহেলায় পল্টুনের পুরোটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে ভেঙ্গে গেছে পল্টুনে উঠা ও নামার জন্য তৈরী করা রাস্তা। ফেরী চলাচলে ব্যবহার না হওয়ায় এখন পল্টুনটি ব্যবহার হচ্ছে মানুষের গোসলের স্থান হিসেবে। তপ্ত রোদ থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকে এই জায়গায় এসে শীতলক্ষ্যায় ডুব দিচ্ছেন। পাশাপাশি শিশুরা পল্টুনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে তাদের দুস্টুমিতে মত্ত রয়েছেন।

এদিকে এখনো এক বছরও পূর্ণ হয়নি এই রুটে ফেরী চালু করা হয়েছিল। এক বছর না পেরুতেই ফেরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতবাক বন্দরবাসী। ফেরী বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পুনরায় এই রুটে ফেরী চালু করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সবাই। বন্দরের আলমাস আলী বলেন, ‘যখন ফেরী চালু করা হইছিলো তখনি আঁচ করেছিলাম এইটা বেশি দিন চলবে না। কারণ পরিকবল্পনাই করা হয়েছিল উল্টা করে। ফলে স্বপ্নের ফেরী এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হইছে।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ রোড ডিভিশস-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমবার ফোন ধরলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর মিটিংয়ের কথা বলে ফোন কেটে দেয়। এরপর বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও