মিনা বাজারে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ

সোহেল রানা, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৯ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

মিনা বাজারে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ

রাত দুইটার দিকে খবর পান মার্কেটে আগুন লেগেছে। বন্দরে নিজ বাসা থেকে দৌড়ে এসে দেখেন তার দোকান সহ পুরো মার্কেটে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দোকান থেকে একটি সুতাও বের করেতে পারেননি। নিজের চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের আগুনে ২২ বছরের সম্বল হারিয়ে এখন নিশ্ব সমীর দত্ত।

গত ২১ জুন শুক্রবার মধ্যরাতে আগুন লাগে শহরের মিনা বাজার এলাকার একটি মার্কেটের ৬টি দোকানে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট এসে দেড় ঘন্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তবে যতক্ষনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে ততক্ষনে সর্বগ্রাসী সেই আগুনে দোকানের সাথে সমীর দত্তের স্বপ্ন ও তার চার বছরের ছেলের ভবিষ্যৎ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

জীবিকার তাগিদে ২২বছর আগে কুমিল্লা থেকে নারয়ণগঞ্জে পাড়ি জমান সমীর দত্ত। মীনা বাজারের শান্তি টেইলার্সে কাজ শিখেন। এরপর টানা ১৬ বছর সেই দোকানেই কারিগর হিসেবে কাজ করেন তিনি। অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এবং কিছু টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় ৬বছর আগে ৭০হাজার টাকা দিয়ে দুইটি সুইং মেশিন কিনে নিজেই দোকান দেন। তার দোকানে চাকরি নেয় আরো দুই কারিগর। দোকান থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে এক সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই দিন কাটতে থাকে তার। তবে তা আর বেশি দিন টিকলো না। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই তার সবকিছু পুড়িয়ে নিঃস্ব করে দিল।

সমীর দত্ত নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আমার এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলে মার্কেটে আগুন লেগেছে। বাসা থেকে যতক্ষণে আসি ততক্ষণে আমার দোকান পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পরেছে। দোকান থেকে কিচ্ছু বের করতে পারিনি। নিজের চোখেই সব পুড়ে ছাই হতে দেখলাম।

তিনি জানান, ২২বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এই দোকানটা দিয়েছিলাম। এই দোকানেই আমার সব সম্বল খাটিয়েছিলাম। যে টাকা ঋণ করেছিলাম তা এখনো শোধ করতে পানি নাই। অনেক দোকানদারের কাছ তেকে বাকিতে কাপড় নিয়েছিলাম তারাও টাকা পাবে। এত টাকা পরিশোধ করাতো দুর আমার প্রতিদিন বাজার করার টাকা জোগাড় করতেই এখন হিমশিম খাচ্ছি।

চার বছরের একটা ছেলে আছে এখনো স্কুলে ভর্তি করি নাই। আগামী বছরেই ভর্তি করব। দোকানের সাথে আমার সব সম্বল তো গেলোই সাথে আমার ছেলেটার ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তায় পরলো। একমাত্র ছেলেকে ভালো একটা স্কুলেল ভর্তি করার খুব শখ ছিল। কিন্তু এখন আর্থিক যে অবস্থা তাতে মনে হয় না আশা পূরণ হবে।

আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে অনেক দেরি করেছে কারণ এক পাশে বাবুরাইল খালের উপর ব্রীজ ভাঙ্গা। অপর পাশ দিয়ে আসতে অনেক রাস্তা ঘুরতে হয়। তাই আগুন আরো বেশি ছড়িয়ে পরে। ব্রীজ ভালো থাকলে গাড়ি আরো দ্রুত আসতো এবং আগুনে ক্ষয়ক্ষতি কম হতো।

সমীর দত্তের মত সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন জাহিদ হাসান। সমীর দত্তের দোকানের সাথেই ছিল তার দোকান। তার দোকানের নাম বিসমিল্লাহ বস্ত্রবিতান। দেশি বিদ্যেশ বিভিন্ন জায়গা থেকে কাপড় কিনে এনে এখানে বিক্রি করতেন তিনি। তার দোকানে প্রায় ৯লাখ টাকার পন্য ছিল। মুহুর্তের আগুনে তিনিও নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

জাহিদ হাসান বন্দরের ফরাজিকান্দায় স্ত্রী তিন সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে থাকনে। তিন সন্তানের সবাই মাদ্রাসায় পড়ে। দোকানের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ সহ ৭সদস্যের সংসার চলতো। এখন কিভাবে নিজের সংসার চালাবেন কিভাবে ছেলে মেয়ের পড়ারেখার খরচ চালাবেন তা ভাবতে ভাবতেই ক্লান্ত।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জাহিদ হাসান জানান, এনজিও থেকে লোন নিয়ে দোকানের মালামল এনেছিলাম। প্রায় ৯লাখ টাকার মত পন্য দোকানে ছিল। আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি আগুনে সব পুড়ে আগুন নেভানোও শেষ হয়ে গেছে। এক মুহুর্তেই নিঃস্ব গয়ে গেলাম।

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারের মধ্যে একটি হচ্ছে রুণা বেগমের পরিবার। বড় দুই সন্তান বিবয়ে করে আলাদা থাকেন। এখানে একটি সুতদার দোকান দিয়েছিলেন তিনি। এখান থেকে যা আংয় হতো তা দিয়েই বাকি দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার চলতো। সহায় সম্বল হারিয়ে তিনিও এখন পথে বসেছেন।

কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রত্যামা যাতে নিজেদের ক্ষতি পুসিয়ে আবার নতুন করে ব্যবসায় শুরু করতেক পারেন সে জন্য তাদেরকে আর্থিক ভাবে একটু সহযোগিতা করা। নয়তেদা পরিবারগুলো একেবারে ডুবে যাবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও