অধরা নারায়ণগঞ্জের রাজাকাররা, দ্রুত মাহবুবের ফাঁসি কার্যকর দাবি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ২৯ জুন ২০১৯ শনিবার

অধরা নারায়ণগঞ্জের রাজাকাররা, দ্রুত মাহবুবের ফাঁসি কার্যকর দাবি

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর শহীদ রণদা প্রসাদ সাহা (রায়বাহাদুর) ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে হত্যা ও গণহত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার রাজাকার কমান্ডার মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদের পুত্র রাজাকার মাহবুবুর রহমান (৭০) ওরফে মইবার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা।

২৭ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যসের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। কুমুদিনী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা এই দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মাহবুবুর রহমান মইবার বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ ছিলেন ১৯৭১ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাক হানাদর বাহিনীর সহচর এবং রাজাকার কমান্ডার। পিতার সহযোগী ছিলেন পুত্র মাহবুবুর রহমান ও আব্দুল মান্নান। সে সময় মাহবুব ও মান্নান ছিল টগবগে যুবক।

রণদাপ্রসাদ সাহা টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। ‘ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ’ স্থাপন করে ওই অঞ্চলে নারীশিক্ষার সুযোগ করে দেন তিনি। এটি পরে ভারতেশ্বরী হোমসে রূপলাভ করে। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজ, মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ এবং কুমুদিনী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

আসামি মাহবুবুরের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ২৮ মার্চ এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

২০১৬ সালের নভেম্বরে মাহবুবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জামায়াতের সমর্থক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। ২৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর বিচার শুরু করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তিতর্কের পর আজ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামি মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০ থেকে ২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদাপ্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালান। অভিযানে রণদাপ্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলে ভবানীপ্রসাদ সাহা, রণদাপ্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব, রণদাপ্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ সাতজনকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে সবাইকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমসের আশপাশের এলাকা, নারায়ণগঞ্জের খানপুরের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও তার আশপাশের এলাকা এবং টাঙ্গাইল সার্কিট হাউস এলাকায় অপরাধ সংঘটন করেন। রণদাপ্রসাদ সাহার পৈতৃক নিবাস ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। একসময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় নামেন রণদাপ্রসাদ সাহা। তিনি থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরে। সে বাড়ি থেকেই তাঁদের ধরে নিয়ে যান আসামি মাহবুবুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা।

আসামি মাহবুবুর রহমানের বাবা আবদুল ওয়াদুদ মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। মাহবুবুর রহমান ও তাঁর ভাই আবদুল মান্নান সে সময় রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও