নিষেধাজ্ঞার ব্যানার ফেস্টুনের সামনে শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পায়ে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নিষেধাজ্ঞার ব্যানার ফেস্টুনের সামনে শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পায়ে

‘শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে কোটি বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলা করার দাবিতে জীবন দেয়া ভাষা শহীদদের স্মরণেই শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। তবে সেই শহীদ মিনার এখন সব থেকে অবহেলার পাত্র। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে তৈরী করা হলেও এখন অবাধে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে আড্ডা দিচ্ছে তরুণ তরুণীরা। ফলে শহীদ মিনারের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হওয়ার সাথে ভাষা শহীদদের চরম অপমান করা হচ্ছে।’

পবিত্রতা রক্ষার্থে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের বেদীতে যাতে কেউ জুতা পায়ে না উঠে সে উদ্যোগে বিভিন্ন সময় অনেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালত থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সহ সবাই ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়েছে। সব শেষ গত ১৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ফেস্টুন লাগান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যেখানে লেখা ছিল, ‘শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করুন। জুতা পায়ে বেদীতে উঠবেন না। বেদীতে বসে আড্ডা দেয়া নিষেধ। স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের আড্ডা দেয়া যাবে না। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের সচেতনতাই যথেষ্ট।’

কিন্তু পরের দিন থেকেই দেখা গেছে একেবারে একই চিত্র। অবাধে সবাই জুতা পায়ে শহীদ মিনারেরে বেদীতে উঠছে। চোখের সামনে ফেস্টুন লাগানো থাকলেও তা তাদের চোখে পরছে না। এতে করে শহীদ মিনারের পবিত্রতা কতটুকু রক্ষা করা যাচ্ছে তা নিয়ে সংশয় তৈরী হচ্ছে। সচেতন করার জন্য নানা পদক্ষেপ থাকলেও তা কোনো ভাবেই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের অসচেতনতার জন্য প্রতিনিয়ত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতিনিয়ত অসম্মান করা হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।

১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেখা যায় এই চিত্র। যাদেরকে দেশের ভভিষ্যৎ বলা হয় স্কুল কলেজের তরুণ-তরুণীরা অবাধে শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পায়ে উঠছে। মিনারের বেদীতে বসেই সবাই বাদাম, ঝালমুড়ি, চিপ্স খাচ্ছে। আর সেই ময়লা-আবর্জনা সেখানেই ফেলে শহীদ মিনারের পরিবেশ নষ্ট করছে। অথচ চোখের মানইে লিখে রাকা হয়েছে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে যাতে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে না উঠা হয়।

এ প্রসঙ্গে রবিউল আলম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শহীদ মিনার আমাদের আবেগের একটি জায়গা। বাংলাদেশে বিভিন্ন দল মত থাকলেও এই জায়গায় এসে আমরা সবাই এক হই। এখানে আমাদের কোনো মতবিরোধ থাকে না। সবাই এক সারিতে দাঁড়িয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু বাঙালীর সেই আবেগের জায়গাটি আজ সব থেকে অবহেলিত।

আলম হোসেন বলেন, যে বাঙালি শ্রেষ্ট সন্তানরা আমাদেরকে মাতৃভাষা আমাদেরকে ফিরিয়ে দিল সেই বীর সন্তানদের শ্রদ্ধার জায়গায় আমরা জুতা পায়ে উঠি, তাদেরকে অপমান করি। এটা আমাদের জন্য সব থেকে লজ্জার বিষয়। আমরা কতটা অসচেতন আর কতটা অকৃতজ্ঞ তা এ থেকেই বুঝা যায়।

আনোয়ার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শহীদ মিনার শুধু একদিন খালি পায়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়। বছরের প্রতিটি দিন শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে। এ জন্য আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও