একজনের মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বর আতঙ্ক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার

একজনের মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বর আতঙ্ক

ডেঙ্গু জ্বরের মত রোগকে অনেকে অবহেলা করলেও এর ভয়াবহতা দিন দিন কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। আর আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয় মানুষটি। নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুপথযাত্রী হচ্ছেন। আবার অনেকে চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করলেও অঙ্গহানির মত নানা ঘটনা ঘটছে। এতে করে ডেঙ্গু আতঙ্ক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তবুও সংশ্লিষ্টরা এই রোগ নিরাময়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

এ জেলাতেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আবার অনেকে ডেঙ্গুর ভাইরাসের সাথে যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

১১ জুলাই বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেটস অ্যাসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক, এক্স রোটারেক্টর, আবৃত্তিকার শাওন কবীর সালেহীন ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স ছিল ৩৮ বছর। মরহুম শাওন কবীর সালেহীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের ইসদাইর অক্টো অফিস মোড়ে বসবাস করতেন। তিনি একটি বায়িং হাউসে চাকরি করতেন।  ৫ দিন পূর্বে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি হাসাপাতালে তিনি মারা যান।

মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, ম্যালেরিয়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু দিনে দিনে এসব রোগে আক্রন্ত হওয়া রোগী সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের বিষয়টি বিভিন্ন সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আর তাতে করে অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। তবে কেউ যদি এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে তবে শরীরের আরো অনেক ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। যেকারণে এই রোগ এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় সারা বছরই নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। তবে যখন জেলায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায় তখন এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। এর মধ্যে অনেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আরোগ্য লাভ করলেও শরীরের অনেক ধরণের ক্ষতি সাধিত হয়। আবার অনেকে এই জ্বলে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ কমাতে হলে অবশ্যই মশা নিধন ওষুধ ছিটাতে হবে। আর সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

নগরবাসী বলছেন, ডেঙ্গু জ্বর এখন এক ভয়াবহ রোগের নাম। এই রোগ প্রথম জ্বর হিসেবে আবির্ভুত হলেও পরে এর ভয়াবহতা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যতই সচেতন হোকনা কেন মশার আক্রমন থেকে সব সময় বেঁচে থাকা অসম্ভব প্রায়। কারণ কাজের তাগিদে অনেক স্থানেই যেতে হয়। তাই এর রোগ থেকে নিস্তার পেতে হলে অবশ্যই সিটি করপোরেশন কর্তৃক মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে সিটি করপোরেশন সহ সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।

মশার যন্ত্রণায় প্রায় সময় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে নগরবাসী। তবে কিছু কিছু সময় এই মশার যন্ত্রণার প্রবণতা বেড়ে গিয়ে আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু জ্বরে কেউ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন আবার অনেকে আরোগ্য লাভ করলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বেশ খানিকটা সময় লাগছে।

রহমত মিয়া বলছেন, মশার যন্ত্রণায় কোন কাজ করা যায়না। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে কয়েল জ্বালালে শরীরের প্রচন্ড ক্ষতি হয়। তাই অনেক সময় দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে ভেতরে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু এভাবে আর কতদিন থাকা যায়। তাই মশার যন্ত্রণায় জীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার উপরে ডেঙ্গুর আতঙ্ক পুরো জেলাকে গ্রাস করছে।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন বিগত দিনে মশা নিধনে নানা ওষুধ ছিটানো সহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করতো। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা দিচ্ছে। যেকারণে এ বিষয়ে তাদের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছেনা। এর ফলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দিনে দিনে এর আতঙ্ক বেড়ে চলেছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও