এক রাতেই ঈদের আনন্দ ছাই হলো বস্তিবাসীদের

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৭ পিএম, ২ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার

এক রাতেই ঈদের আনন্দ ছাই হলো বস্তিবাসীদের

প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরেছিলেন ময়মনসিংহ থেকে জমি বাড়ি বিক্রি করে আসা মোঃ ইজ্জত আলী। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে আসছেন তিনি। আশা করেছিলেন এবারের ঈদ স্ত্রী, ২ ছেলে ও কলেজে অধ্যয়নরত মেয়েকে নিয়ে ভালোভাবেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করবেন।

আর সেই লক্ষ্যে দোকানে নতুন মাল তুলেছিলেন ময়মনসিংহ থেকে জমি বাড়ি বিক্রি করে আসা মোঃ ইজ্জত আলী। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না মোঃ ইজ্জত আলীর। এক রাতেই তার ঈদের আনন্দ পুড়ে ছাই হয়ে গেল। লোকমুখে আগুন লাগার খবর শুনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বিপরীত পাশে অবস্থিত বস্তিতে গিয়ে দেখেন তার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট আর কিছুই রইলো না।

মো: ইজ্জত আলী বলেন, আমার সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন আমি কি করবো, কোথায় যাব কিছুই জানি না। এই ব্যবসার মাধ্যমে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে মোটামুটিভাবে সংসার চলে যাচ্ছিল। মেয়েটি কলেজে পড়ে। এই ব্যবসা করেই তার পড়ালেখা ও সংসারের খরচ যোগাতাম। কিন্তু এখন কিভাবে খরচ যোগাবো জানি না।

মোঃ ইজ্জত আলীর মতোই আরও প্রায় ৭০ জনের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারাও ঈদ উপলক্ষে দোকানে নতুন মাল তুলেছিলেন। আশা করেছিলেন নতুন মাল পত্র বিক্রি করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঈদের আনন্দ ভালভাবেই উপভোগ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুনে পোড়ে সকল বস্তিবাসীদের ঈদ আনন্দ ছাই হয়ে গেল।

জানা যায়, শুক্রবার ভোরে রাত ৩টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার জেলা পরিষদ কার্যালয়ের বিপরীত পাশে অবস্থিত বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বস্তির প্রায় ৭০ টি ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদমারী বস্তি এলাকাতে একটি জলাধারের উপর মুলি বাশ ও টিন দিয়ে তৈরি ভাসমান অবস্থায় গড়ে উঠা এই বস্তিতে অন্তত ৭০টি ঘর ছিল। এসব ঘরে গার্মেন্টের ঝুট সহ বিভিন্ন ধরনের গোডাউন সহ অপর ঘরগুলোতে লোকজন বসবাস করে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টায় হঠাৎ একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

বস্তিতে ভাঙ্গারীর ব্যাবসা করতেন মো: অভি। তিনি বলেন, এখানকার বেশিরভাগ দোকান হচ্ছে ঝুটের। প্রায় সকল দোকানেই ব্যবসায়ীরা ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন মাল তুলেছিলেন। আমার নিজের দোকানে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মালামাল ছিল। কিন্তু সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।

একইভাবে বস্তিতে প্রায় ৬ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন ময়মনসিংহ জেলার জালাল উদ্দিন। এখানে ব্যবসা করে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে মোটামুটিভাবে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। তার দোকানে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল ছিল। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে তার সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সে দিশা পাচ্ছেন না তিনি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও