‘নারায়ণগঞ্জে নদীর তীরে নির্মিত হবে আরো ১৭ কিলোমিটার হাটার পথ’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৯ বুধবার

‘নারায়ণগঞ্জে নদীর তীরে নির্মিত হবে আরো ১৭ কিলোমিটার হাটার পথ’

বেশ তোড়জোড় করে নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গত ৫ মাসে তিনটি নদীর ৮ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) নির্মাণসহ নানান পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। গৃহীত প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে অন্তত ৫ হাজার নতুন খুটি বসানো হবে। এছাড়া নতুন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা নদী বন্দরের আওতায় ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের আওতায় আরো ১২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।

জানা গেছে, নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর তীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত এপিল মাস ধরে চলমান অভিযানে তিনটি নদীর যে পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে তা বিগত দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত এপিল মাস থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ৫ মাসে তিনটি নদীর ৮ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ একর জমি উদ্ধার করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ছিল সবচেয়ে জটিল কাজ। পদে পদে বাধা এসেছে। তারপরও এই কাজ বেশ দ্রুতগতিতে গুছিয়ে আনা হয়েছে। অধিকাংশ অবৈধ স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উচ্ছেদ ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের দায়িত্বে আছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম হওয়ার কারণে নদীতে পানির প্রবাহ বেশি। তাই সীমানাখুঁটি বসানোর কাজে দেরি হচ্ছে। আর বিদেশ থেকে উন্নত মানের যন্ত্র আনতেও সময় লাগছে। এ ছাড়া যে স্থানে সীমানাখুঁটি বসানো হবে, তা চিহ্নিত করতেও কিছুটা সময় যাচ্ছে। তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদ-নদীর তীরে প্রায় ৫২ কিলোমিটার এলাকায় সীমানাখুঁটি স্থাপন, হাঁটার পথ, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) পরিচালক বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) মো. নুরুল আমিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যৌথ জরিপের মাধ্যমে নদীর যে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে, তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্প অনুমোদনের পর নকশা, ডিপিপি তৈরি, দরপত্র আহ্বানসহ আনুষঙ্গিক কাজে তাঁদের প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সীমানাখুঁটি বসানোর কাজ শুরু হবে। নভেম্বর থেকে বাকি কাজগুলোও শুরু হবে।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল  জানান, অনেকেই গুলশান বনানীতে থাকেন অথচ নদীর তীরে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করে নাম দেন নদীবিলাশ। শীতলক্ষ্যা মেঘনা ধলেশ্বরীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি শীত মৌসুমের পূর্বে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে নদীর তীর রক্ষায় সীমানা পিলার, ওয়াকওয়ে বনায়নের মাধ্যমে নদীর তীরে বসন্তের আবহাওয়া ফিরিয়ে আনা হবে।

নারায়ণগঞ্জে হবে ১৭ কিলোমিটার হাটার পথ
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে ৮৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরও কয়েকটি নতুন কাজ যুক্ত হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মোট ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এই প্রকল্পের মধ্যে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীতীরে ১০ হাজার ৮২০টি সীমানাখুঁটি বসানো হবে। এর মধ্যে ঢাকা নদীবন্দর এলাকায় বসানো হবে ৩ হাজার ৮০৩টি খুঁটি। বাকি সীমানাখুঁটি টঙ্গী বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সীমানায় বসানো হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি পার্কও করার পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে সদরঘাট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এক কিলোমিটারজুড়ে পর্যটন পার্ক, আশুলিয়া ল্যান্ডিং স্টেশন, মিরপুর বড় বাজার ও টঙ্গী বন্দর এলাকায় ইকোপার্ক করা হবে।

এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর রায়েরবাজার খাল থেকে বছিলা পর্যন্ত আট কিলোমিটার বুড়িগঙ্গা নদীর উভয় তীরে হাঁটাপথ নির্মাণ ও নদীর পাড় বাঁধ দেওয়া হবে। মিরপুর বড় বাজার এলাকায় তুরাগ নদের উভয় তীরে আট কিলোমিটার, টঙ্গী এলাকাতে পাঁচ কিলোমিটার, ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে পাঁচ কিলোমিটার, নারায়ণগঞ্জের ডিপিডিসি এলাকায় ছয় কিলোমিটার, নারায়ণগঞ্জের টানবাজার এলাকায় ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণ করা হবে। হাঁটার পথ নির্মাণের পাশাপাশি এসব এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, বনায়ন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে।

উচ্ছেদকৃত তীরভূমিতে ১৯টি আরসিসি জেটিও নির্মাণ করবে সংস্থাটি। এর মধ্যে ঢাকা নদীবন্দরের সীমানার মধ্যে ১০টি এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সীমানা নয়টি জেটি নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের মধ্যে সদরঘাট থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় ৪ মিটার করে নদী খননও করা হবে। ১০০ মিটার করে প্রশস্ততা বাড়ানো হবে।

২০১১ সালে ২০ এপ্রিল প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার ৬০ কিলোমিটার এলাকায় জেলা প্রশাসক ও গণপূর্তের সমন্বয়ে ৫ হাজার ৪১টি পিলার স্থাপন করা হয়। তবে এসকল পিলার নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর। পরে কাঁচপুর সেতুর দুই পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে পাঁচ কিলোমিটার ও নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত পৌনে তিন কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও