লিংক রোড : এ সড়কের ‘ক্যান্সার’ তাই ‘টিউমার’ ভালো হয় না

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

লিংক রোড : এ সড়কের ‘ক্যান্সার’ তাই ‘টিউমার’ ভালো হয় না

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘টিউমার’ এর মত ফুলে ফেপে উঠা অংশ গত ১৮জুন অপসারণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারো টিউমারের মত ফুলে ফেপে উঠেছে সড়ক। বিভিন্ন জায়গায় দেবে গিয়ে ছোট বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। ফলে নতুন করে আবারো দেবে যাওয়া অংশে পিচ ঢালাই দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে।

শনিবার ৩১ আগস্ট দুপুরে লিংক রোডের জেলা পরিষদ এলাকার অংশ থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়ি দিয়ে পাথর ও পিচ ঢেলে গর্ত ভরাট করতে দেখা যায়। তবে এবারও শুধু ছোট গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। বড় গর্ত ও নতুন করে গজে উঠা ‘টিউমার’ এর মত অংশ অপসারণ না করায় এই কাজে কোনো ফায়দা আসবে না জানিয়ে অভিযোগ করেন চালক ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও ৮ মাসেই সড়কের এ দশায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কয়েক দফা জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ৮ কিলোমিটার অংশ ওভার লের মাধ্যমে মেরামতের জন্য দরপত্র জমা ও খোলা হয়। একই বছরের ৬ মার্চ মাসুদ হাই টেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যয় হয় ১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৩ হাজার ১৭টাকা। কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দেওয়া হয় ৬ মাস। গত সেপ্টেম্বরে সড়কটির ওভার লে সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর পর বেশ কয়েকবার সড়ক ফুলে ফেপে উঠলে তা অপসারণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সর্বশেষ গত ১৮ জুন সড়কের বিভিন্ন অংশ থেকে ‘টিউমার’ অপসারণ করে নুতন করে তৈরী হওয়া গর্ত ভরাট করা হয়েছিল। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত শরীরের মত অপসারণের পর আবারো বিভিন্ন অংশে ফুলে ফেপে উঠেছে। যা দেখে মানুষ হতাশ হয়ে মশকরা করে বলছে ‘এই সড়কের ক্যান্সার হয়েছে, ক্যামো থেরাপির মত কঠিন চিকিৎসা ছাড়া এই সড়ক ভালো হবে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এই সড়কের ক্যান্সার হইছে। ক্যান্সার যেমন হাজার চিকিৎসা করলেও ভালো হয় না। চিকিৎসা করার পর কয়েকদিন সুস্থ থাকার পর আবার আগের মত হয়। তেমনি এই সড়কেরও ক্যান্সার হইছে। এই ক্যান্সার থেকে মুক্তির জন্য ক্যামো থেরাপির মত ক্যান্সার প্রতিরোধী কঠিন চিকিৎসা করাতে হবে। এছাড়া ভালো হবে না।’’

ইজিবাইক চালক সুমন মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর হইছে এই সড়কে গাড়ি চালাই। আগে টেম্পু চালাইতাম এখন অটো (ইজিবাইক) চালাই। এই ১০ বছরে একবারও ২মাসের বেশি একটাকনা এই সড়ক টিকতে দেখলাম না। ২মাস পর পর মেরামত করাই লাগে। যদি মেরামত না করা হয় তাহলে চলাচলের অবস্থা থাকে না। বড় যানবাহনগুলার বেশি সমস্যা না হইরেও ছোট গাড়িগুলো একেবারে চলাচল করা যায় না।

সিএনজি চালক মোতালেব হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ২মাস আগেই দেখছিলাম সড়ক মেরামত করলো। আজকে সকাল থেকে আবার দেখতেছি সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ভরাট করতেছে। কিন্তু যেভাবে কাজ করতেছে তাতে মনে হয় না এবারও বেশিদিন চলবে। কারণ কোনো রকমে পাথর ফেলে এর উপর দিয়ে পিচ ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা বড় গাড়ি গেলে গর্ত থেকে সব বাইরে চলে আসবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও