শহরের দুই সড়কে যাত্রী ভোগান্তি বাড়ছেই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৬ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

শহরের দুই সড়কে যাত্রী ভোগান্তি বাড়ছেই

নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোর তালিকায় সব থেকে পুরাতন সড়ক হচ্ছে ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক ও খানপুর-আদমজী-শিমরাইল সড়। পুরাতন এই সড়ক দুইটিই এক সময় ছিল নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ ও শহর থেকে বাইরে যাওয়ার একমাত্র পথ। কিন্তু সড়ক দুইটির একটিতেও নেই পর্যাপ্ত সেবা দানকারী যাত্রীবাহী বাস। ফলে বছরের পর বছর ধরে এই দুই সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ বা বাইরে যাওয়া যাত্রীদের চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে।

জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন (পঞ্চবটি) সড়কে চলাচলকারী একমাত্র যাত্রীবাহী বাস হচ্ছে আনন্দ পরিবহন। শহরের ১নং গেইট সংলগ্ন বাস স্টেশন থেকে পঞ্চবটি রোড হয়ে গুলিস্তানগামী বাসটি একসময় সিটিং সার্ভিস হিসেবে কাউন্টারের মাধ্যমে চলতো। কিন্তু পরবর্তিতে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কাউন্টার উঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে লোকাল বাসের মত জায়গায় জায়গায় থেমে যাত্রী উঠায় আনন্দ পরিবহন। কোনো টিকিট না থাকায় অনেকে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন আনন্দ বাসের বিরুদ্ধে।

ভোগান্তি এখানেই শেষ নয়। চলাচলরত একমাত্র বাসটির সংখ্যা মাত্র ৫০টি। সকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বাসটি চলাচল করে। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় কখন বাস আসবে তা কেউ জানেন না। মাঝে মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষারত করতে হয় যাত্রীদের। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন একটি বাস আসে তখন তৈরী হয় উপচেপড়া ভীড়। ভাড়া সিটিং বাসের নামে আদায় করা হলেও ঠেসে ঠেসে যাত্রী তোলা হয়। এই সড়কে বিকল্প কোনো বাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতিতেই যাতায়াত করতে হয় যাত্রীদের।

নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কে চলাচল করা যাত্রীবাহি বাসের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সড়কটিতে চাষাঢ়া থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল করে দূরন্ত পরিবহন। এবং চারারগোপ মোড় থেকে চলাচল করে শীতলক্ষ্যা পরিবহন। শীতলক্ষ্যা পরিবহনের বাসগুলোর কিছু বাসে ফ্যান থাকলেও অধিকাংশেই ফ্যান নেই। বাইরে থেকে রং করা থাকলেও ভেতরে লক্কর ঝক্কর অবস্থা। যে কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণের।

তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে এই সড়কের যাত্রীদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন হচ্ছে দূরন্ত পরিবহন। বাসগুরো দেখতে অনেকটা লেগুনার আকারের। দেখে সন্দেহ হতে পারে যে কোনো গাড়ির বডি পরিবর্তন করে হয়তো এই বাস বানানো হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে যতটা লক্কর ঝক্কর মনে হয় ভেতর থেকেও ঠিক একই অবস্থা।

এই সড়কে দূরন্ত পরিবহনের ৫৬টি বাস চলাচল করে। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কিছু সময় পর পর একটি করে বাস আসতে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ বাসের ইন্ডিকেটার লাইট নেই। বাসরেস ফিটনেসের কোনো তোয়াক্কা নেই। ভেতরে এমন ভাবে সীট বসানো হয়েছে যে একজন পূর্ণ বয়ষ্ক স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষ সিটে বসলে সামনের সিটের সাথে হাটু আটকে যায়। দূরন্তহ পরিবহনের একটি বাসেও ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। এই বাসটিও সিটিং সার্ভিসের নাম করে চললেও হরহামেশাই ইচ্ছেমত যাত্রী তুলে। এইভাবে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে ফেলছে যাত্রী সাধারণকে।

দূরন্ত পরিবহনে কর্মরত এক কর্মচারীর সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ৫৬টার মত বাস চলাচল করে তবে সবগুলার রুট পারমিট নাই। অনেকগুলা পারমিট ছাড়াই চলাচল করে।

তিনি আরো বলেন, এগুলা সব বাস ছিল না। অন্য গাড়ি থেকে ইঞ্জিন নিয়ে নিজেরাই বডি তৈরী করে বাস বানানো হয়েছে। যে কারণে সীট এত চাপানো। আর ছোট বাস তাই ফ্যান লাগানো হয় না। বাসেতো সোজা হয়ে দাঁড়ানো যায় না ফ্যান লাগালে মাথায় লাগবে। তাই ফ্যান লাগানো হয় না। যাত্রীদের ভোগান্তি হয় কিন্তু কিছু করার নাই।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও