উপজেলা সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাসিকের মেগা প্রকল্প

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

উপজেলা সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাসিকের মেগা প্রকল্প

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর জলাবদ্ধতায় বন্দী থাকার পর জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের উপজেলা সড়কের পাশে বসবাসকারীরা।

এই এলাকার জলবদ্ধতা নিরসনে ৩কোটি ১৭লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়র্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু এই মেগা প্রকল্পের তথ্য নিশ্চিত করে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘নাসিকের প্রচেষ্টায় জাপানি সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ৩কোটি ১৭লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চাঁদমারি মোড় থেকে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত নতুন করে রাস্তা সংস্কার করা হবে। এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হবে।’’

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, ‘‘মেগা প্রকল্পটির সকল কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং সংস্কার কাজ শুরু হয়ে যাবে। কাজ শুরু হলে অল্প দিনের মধ্যেই এই রাস্তার জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না। আশা করছি খুব শিঘ্রই এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।’’

এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা যায়, তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে এই রাস্তায় জলাবদ্ধতা। আগে বৃষ্টির পানি সরাসরি চাঁদমারিতে অবস্থিত পুকুরে এবং ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কালীবাড়ি পুকুরে পড়তো। যে কারণে সড়কে বৃষ্টির পানি জমলেও অল্প সময়েই নেমে যেতো। কিন্তু এখন একেবারেই পানি নামছে না।

জলাবদ্ধতার মূল কারণ হিসেবে এলাকাবাসী জানান, চাঁদমারির যে জায়গায় পানি জমা হতো এখন পানি নিষ্কাশনের সকর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ সেখানে সেনাবাহিনীর প্রকল্পের কাজ চলছে। যে কারণে তারা পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়।

তবে শেষ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার খবরে আনন্দিত এলাকাবাসী। দেরিতে হলেও তাদের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, তিন বছরেও বেশি সময় হবে এই সড়ক চোখে দেখা যায় নাই। বৃষ্টি থাকুক বা না থাকুক সব সময় রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে থাকে। এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে চায় না। অনুরোধ করেও যদি কাউকে আনা হতো তাহলে ডাবল ভাড়া গুনতে হতো। রাস্তার যে অবস্থা ডাবল ভাড়া চাওয়াটাও অযৌক্তিক না।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার পাশে কোনো দোকান নেই। রাস্তার এই অবস্থার কারণে যত দোকান ছিল সব বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে এক কেজি চাল আনতেও বাজারে যেতে হয়। কি পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তা বলে বোঝানো যাবে না।

সবুজ মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা হচ্ছে এইটা। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী সহ অন্তত লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কোনভাবে যাতে যাতায়াত করতে পারি তাই রাস্তার পাশে বস্তা ফেলা হয়েছে। বস্তার উপর দিয়েই শিক্ষার্থী সহ সবাই যাতায়াত করি।

তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ যে শেষ পর্যন্ত আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। রাস্তাটির জলাবদ্ধতা দুর হলে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি দুর হবে। সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনুরোধ যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা হয়।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও