ধ্বংস হয়ে যাওয়া সিনেমা হলের স্মৃতি সংগ্রহে ‘সিনেমাকার’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৩ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

ধ্বংস হয়ে যাওয়া সিনেমা হলের স্মৃতি সংগ্রহে ‘সিনেমাকার’

বাংলাদেশের সব থেকে ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জে একসময় হাউজফুল শো নিয়ে চলতো ৬টি সিনেমা হল। যার প্রতিটিই ছিল ব্যাপক ব্যবসায় সফল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় ধ্বংস হয়ে গেছে ডায়মন্ড ও হংস সিনেমা হল। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে আশা ও মাশার সিনেমা হল। কোনো রকমে টিকে আছে গুলশান ও মেট্রো এই দুইটি সিনেমা হল। ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং ধ্বংসের পথে থাকা সিনেমা হলগুলো যে একসময় দর্শকে কানায় কানায় ভর্তি থকতো তা হয়তো নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করবে না। তাই নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে অভিনব এক পদ্ধতি হাতে নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনেমাকার’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাকারের যৌথ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো নির্মিত আধুনিক সিনেমা থিয়েটার ‘সিনেস্কোপ নারায়ণগঞ্জ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব সিনেমা হলে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপন, পোস্টার, স্টিকার, ফিল্ম ইত্যাদি সংগ্রহ হরে তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাকার।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে আলী আহাম্মদ নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে নির্মিত সিনেপ্লেক্সটি উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াৎ আইভী। এসময় নিজ শহর নারায়ণগঞ্জের সিনেমা হলগুলোর বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, “আগের যে পরিবেশ ছিল ছিনেমা হলে যাওয়া। বিশেষ করে আমার মনে আছে চুপি চুপি যাওয়া। অনেক সময় আব্বাকে না বলে যাওয়া। আবার কখনো আমার বাবা আমাকে টিকিট কেটে দিয়েছে। ‘দি ফাদার’ সিনেমার কথা আমার এখনো মনে আছে। ওইখানে একটি গান ছিল ‘আয় খুকু আয়’। গানটি আমার অসম্ভব প্রিয় ছিল। আব্বা আমাকে নিজে গুলশান সিনেমা হলে নিয়ে দেখেছিলাম। সেই যে অনুভূতি, সেই যে স্মৃতি, সেই যে আনন্দ!”

এসময় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাকারের কর্ণধার নূরুজ্জামান বলেন, নারায়ণগঞ্জে এক সময় দাপটের সাথে চলা সিনেমা হলগুলো এখন ধ্বংস প্রায়। দর্শকরা হল বিমুখ হয়ে গেছে। কিন্তু সিনেম আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। দর্শকদের আবার হলে ফিরিয়ে এনে সিনেমা হলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা। এখনতো ব্যক্তিগত সিনেমা হলে ভরে গেছে। কেউ ইচ্ছে করলেই সিনেমা হলে আসে না। কিন্তু এতগুলো মানুষ একসাথে হাসবে, একসাথে কাঁদকেব, আবেগী হবে। সাবই যখন এক সাথে সব করবে এর মজাই আলাদা। এখনতো সবাই এক সাথে থাকে কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, ‘সিনেকমপ্লেক্স নির্মাণের মানে এই নয় যে শুধু সিনেমা দেখানো হবে। এখানে সবাই আসবে সিনেমা হল সম্পর্কে জানবে। আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবে এটাই আমার উদ্দেশ্য। আপনারা কেউ ছবি দেখার জন্য না হলেও এগুলো দেখার জন্য আসুন। তাহলে আমাদের হলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও