বিতর্কে ইউনাইটেড ক্লাব, সাবেকদের অর্জন ম্লান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪২ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার

বিতর্কে ইউনাইটেড ক্লাব, সাবেকদের অর্জন ম্লান

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটি শীষমহল এলাকাতে ‘দ্য ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত)’ এ অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়ারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে ক্লাবটি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠান করেন স্থানীয় স্বনামধন্য ও সমাজসেবক মো. মকবুল হোসেন। ক্লাবটি তিনি সমাজ সেবা ও সামজ উন্নয়নের মানুষের পাশে কাজ করার জন্য গঠন করেন। এর ধারাবাহিকতায় একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সঙ্গবদ্ধ ভাবে শীষমহল এলাকা সহ ফতুল্লার আশে পাশের বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষের সেবায় কাজ শুরু করেন। এর ধারবাহিকতায় এলাকার রাস্তা, সমস্যা সমাধান, চাহিদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে ধারাবাহিকতায় আসেন অনেকে।

এর মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৫৩-৫৫, ৫৮-১৯৬০) মো. মকবুল হোসেন , প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৫৫) জহীর উদ্দিন আহ্মদ,  সভাপতি (১৯৬১-১৯৬২) এটিএম লেহাজ আলী তালুকদার, সভাপতি (১৯৬৪-১৯৬৬) মো. সিরাজ উদ্দিন আহাম্মদ, সভাপতি (১৯৮৭-১৯৮৯) আব্দুল মজিদ মিয়া, সভাপতি (১৯৭২-৭৪, ৯০-৯৪, ৯৯-২০০০) মো. সামছুল হক।

শীষমহল এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ২০০০ সাল পর্যন্ত জনসেবায় ছিল। কিন্তু যখন থেকে নতুন সদস্য ও সভাপতিরা আসতে শুরু করছেন তখন থেকে এটা জনসেবা মূলক ক্লাব থেকে এলিট শ্রেনির ক্লাবে পরিণত হয়। যেখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেশি হতো এখন সেটা নিয়ন্ত্রাণাধীন। ক্লাবের এলিট শ্রেনির সদস্যরা ছাড়া আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না। প্রবেশ করাতো দূরের কথা ক্লাবের সদস্য ছাড়া কেউ গেইটের বাইরেও দাঁড়াতে পারেন না। কেউ গেলেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়,  ‘‘বাইরে থেকে যতটা আভিজাত্য ফুটে না উঠে ভেতরে প্রবেশ করলে চোখ ভড়কে যাওয়ার অবস্থা হবে। প্রতিটি কক্ষ সুসজ্জিত। সেগুন কাঠের নান্দনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রত্যেকটি রুমে। আছে ভিআইপি কক্ষও। প্রবেশ করতে হয় কার্ড পান্স করে। ভিআইটি রুমে আছে একাধিক এয়ার কন্ডিশনার, বিশার আকৃতির টিভি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল আয়োজন। তাস খেলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা আছে টেবিল। আছে বিলিয়ার্ড বোর্ডও।’’

এছাড়া হাসনাহেনা, জবা, গোলাপ সহ বিভিন্ন ফুলের নামে কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের নাম নিয়ে আগুন্তকদের মাঝে বেশ কৌতুহল রয়েছে। তবে এ কক্ষগুলোতে কোন ধরনের অনৈতিক কর্মকা- চলে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযান চালানো ডিবির কর্মকর্তারা জানান, ক্লাবের ভেতরে কয়েকটি ভিআইপি রুম আছে। সেখানে সকলের প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা আছে। বিশেষ কার্ড পান্স করেই ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। রাতে ক্লাবের মূল ফটক তালা মারা থাকে। নিচতলায় কমিউনিটি সেন্টার আছে। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দেওয়ার কথা বলে ডিবি কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করে।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি এখানে হানা দেয়। ওই সময়ে গ্রেফতার করা হয় ৭ জনকে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ক্লাবের সভাপতি ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন তাপু (৫৫), মৃত এম এ কুদ্দুসের ছেলে ইকবাল হোসেন (৫৬), আবুল হাসেমের ছেলে কামাল হোসেন (৪৯), আজমেরীবাগ এলাকার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে শামসুজ্জামান (৪০), চাষাঢ়ার মার্ক টাওয়ার এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৫২), পঞ্চবটির মৃত ওবায়দুল হক ভূইয়ার ছেলে এবিএম শফিকুল ইসলাম (৫০), ঢাকার কেরানীগঞ্জের কাজিরগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আফজাল হোসেন (৪০)।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে শুনানী শেষে ২০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাজা প্রদান করেন। পরে প্রত্যেতে ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও