ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল যোগাযোগ : সরকারী ব্যবস্থাপনায় বিপাকে যাত্রীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:২৬ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল যোগাযোগ : সরকারী ব্যবস্থাপনায় বিপাকে যাত্রীরা

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ জেলায় যাতায়াতের জন্য সড়ক, নৌ এবং ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি রুটের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে সড়ক পথে। এই পথে সময় এবং অর্থ দুটিই বেশি খরচ হয়। এ ক্ষেত্রে সাশ্রয় হয় রেল পথে। পথটি নিরাপদ বটে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলা রেল যোগাযোগ নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয়। তাই রেলযাত্রী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই জন্য এ রুটে রেলযাত্রীদের চাপ সবসময় একটু বেশি থাকে। তার উপর হঠাৎ করে এই রুটে সরকারী ব্যবস্থাপনায় রেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা।

গত ২৫ আগস্ট হুট করে কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জে জানানো হয় যে পরদিন ২৬ তারিখ থেকে রেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতে হবে। তাড়াহুড়া করে সেই ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে বিপাকে ফেলেছে যাত্রীদের।

আগে তাড়াহুড়া করে ট্রেনে উঠে গেলেও ট্রেনের ভেতরে টিকিট কাটার ব্যবস্থা ছিল। সার্বক্ষনিক খোলা ছিল টিকেট কাউন্টার। যাত্রীদের সিট নির্ধারণের ব্যবস্থা ছিল। যা এখন নেই সরকারী ব্যবস্থাপনায়। টিকেট কাটার জন্য যাত্রীদের লম্বা লাইনে দাড়াতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্টার থেকে টিকেট নিতে হয়। এমন ব্যবস্থাপনায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। যারা এই অবস্থা না জেনে ট্রেনে উঠেছে তারাই পড়েছে সমস্যায়। টিকেট কাটতে আবার নামতে হয়েছে। তবে যাত্রীদের এমন ভোগান্তি যাতে না হয় সে জন্য রেল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে। একটু সময় লাগবে বলে জানান তারা।

নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের মাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, ঠিক কি কারণে ঠিকাদারদের থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সরকারী ভাবে নিয়ে নেয়া হয়েছে তা বলতে পারবো না। মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে আবার অন্যান্য কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এ ঘটনার আগে ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চাষাঢ়া সড়কের উপরে ট্রেন বিকল হয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টায় ওই ঘটনার পর ৩ টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল সচল হলে যান চলাচল শুরু হয়।

জানাযায়, ১২টা ২০ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন দুপুর ১টা ৭ মিনিটে চাষাঢ়া স্টেশন ত্যাগ করে কেন্দ্রীয় স্টেশনে যাওয়ার পথে চাষাঢ়ায় সড়কের উপরেই বিকল হয়ে পড়ে। বিকেল ৩ টা ৫৫ মিনিটে বিকল্প ইঞ্জিন আসার পর ট্রেনটি চালু হলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এর পর যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনার ১৫ দিন আগে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ট্রেন চলাচল আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ২৮ জুলাই রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় গেন্ডারিয়া দয়াগঞ্জ ব্রীজের আগে গুমতি ঘরের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কিত হলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ঢাকা কমলাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার যাত্রীবাহী ট্রেন (ট্রেন-২১১) দয়াগঞ্জ ব্রীজের আগে গুমতি ঘরের সামনে একটি বগির ৪টি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ট্রেনেরও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ধারণা করা হয় রেল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

পর পর এই দুইটি বড় ঘটনা ঘটলেও এর আগে এমন কাছাকাছি সময়ে রেল দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। এ দুইটি ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এর পাশাপাশি সড়ক পথের যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে ফেলে। তার পরও মানুষ রেলপথে যাতায়াত করছে। আগের মতই এই যাত্রী হয় বলে জানাযায়।

তারপরও সরকারী ব্যবস্থাপনায় রেল চলায় খুশি যাত্রীরা। তাদের প্রত্যাশা বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় যে ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল এবং দূরত্ব ভেদে ভাড়া না কমিয়ে একই ভাড়া করা হয়েছিল তা এখন পরিবর্তন করা হবে। যেহেতু ব্যয় কমেছে তাই ভাড়া কমাতে কোন সমস্যা নাই সরকারের। তাই দ্রুত ভাড়া কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত চায় যাত্রীরা।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও