শীতলক্ষ্যার স্বপ্নের ফেরী সার্ভিস এখন স্নানঘাটে পরিণত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের শহর ও বন্দরবাসীর সেতুবন্ধনে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্রীজ ও ফেরি সার্ভিসের। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত বছরে শীতলক্ষ্যা নদীতে দু’টি ফেরী সার্ভিস চালু হয়েছিল। তবে বছর না পেরুতেই একটি ফেরী সার্ভিস পরিণত হয়েছে স্নানঘাটে। ৪ মাসেরও বেশী সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ৫নং খেয়াঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি ফেরী সার্ভিসটির পন্টুন ডুবে রয়েছে। যে কারণে ৪ মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে এই ফেরীঘাটের ফেরী সার্ভিস। ভেঙ্গে গেছে পল্টুনে উঠা ও নামার জন্য তৈরী করা রাস্তাও। ফেরী চলাচলে ব্যবহার না হওয়ায় এখন পল্টুনটি ব্যবহার হচ্ছে মানুষের গোসলের স্থান হিসেবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকা শীতলক্ষ্যা নদী দ্বারা দুইভাগে বিভক্ত। নদীর দুই পাড় থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক লোক নৌকা ও ট্রলারে করে নদী পারাপার হয়ে থাকে। প্রায়শই মুমুর্ষ রোগী নিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পথিমধ্যে রোগী মারা যায়। তাছাড়া মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এ সকল পরিস্থিত উত্তরনের শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্রীজ নির্মাণ ও ফেরী সার্ভিস চালুর জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল সাধারণ মানুষ।

২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বন্দরে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় নামের ৩টি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই অনুষ্ঠানে শীতলক্ষ্যা নদীতে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে চতুর্থ শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের জন্য জোরালে দাবী তুলে বন্দরবাসী। জনগনের দাবীকে আমলে নিয়ে সেতু নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত ফেরী সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। পরে ২০১৮ সালের ১৪ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস উদ্বোধন করেন। এর কিছুদিন পরে ওই বছরের ২১ আগস্ট ৫নং খেয়াঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি ফেরী সার্ভিসটি চালু হয়। এদিকে পৃথক দু’টি ফেরী সার্র্ভিস উদ্বোধন করা হলেও উভয় ফেরীঘাটেই মাত্র ১টি করে ফেরী চলাচল করে আসছিল।

এদিকে বছর না ঘুরতেই চলতি বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডুবে যায় ৫নং খেয়াঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি ফেরী সার্ভিসটির ৫নং খেয়াঘাট এলাকার পন্টুন। এতে করে বন্ধ হয়ে যায় এই ঘাটে ফেরী চলাচল। ৪ মাসের অধিক সময় ধরেই বন্ধ রয়েছে ফেরী সার্ভিস। সরেজমিনে ৫নং খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পন্টুনের বেশীরভাগই নদীতে ডুবে রয়েছে। ভেঙ্গে গেছে পল্টুনে উঠা ও নামার জন্য তৈরী করা রাস্তাও। ফেরী চলাচলে ব্যবহার না হওয়ায় এখন পল্টুনটি ব্যবহার হচ্ছে মানুষের গোসলের স্থান হিসেবে। তপ্ত রোদ থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকে এই জায়গায় এসে শীতলক্ষ্যায় ডুব দিচ্ছেন। ৫নং খেয়াঘাটের অদূরে শীতলক্ষ্যার তীরে ফেরী নোঙর করে রাখা হয়েছে।

৫নং খেয়াঘাটের ইজারাদার মনির হোসেন বলেন, এই ফেরী সার্ভিসে গাড়ি খুবই কম পারাপার হতো। পরবর্তীতে ফেরিতে লাভ না হওয়ায় নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরি নষ্ট হলে এখান থেকে ফেরি নিয়ে গেছে। এরপর পন্টুন শীতলক্ষ্যা ডুবে গেলে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় এই ফেরীঘাটে ফেরী পারাপার।

বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ভারী মালামাল নিয়ে নৌকায় পারাপার হওয়া যায়না। ফেরী সার্ভিসটি চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছিল। তবে পন্টুন ডুবে যাওয়ার পর থেকে ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটা ফেরীর কারণে সময়ও যেমন বেশী লাগছে তেমনি পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। স্বপ্নের ফেরী এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্চা গেছে শীতলক্ষ্যা নদীতে।

এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরী সার্ভিস চালু থাকলেও মাঝেমধ্যেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। ভারী বর্ষণ ও বর্ষার পানি বৃদ্ধির ফলে ডুবে যায় ফেরীতে উঠা নামার পথটুকু। আর তাতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সহ্য করে ফেরী পারাপার হতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই এহেন অবস্থা বিরাজ করলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া মাত্র একটি ফেরী চলাচল করার কারণে সময় স্বল্পতার কারণে অনেক সময় এই দুর্ভোগ পেরিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। অথচ একটি ফেরী নদীর তীরে নোঙর করে রাখা থাকে।

সড়ক ও জনপথ সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সারওয়ার জাহান জানান, ৫নং খেয়াঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি ফেরী সার্ভিসটিতে যানবাহন খুবই কম পারাপার হতো। আমাদের পন্টুন বর্তমানে রিপেয়ারিং এর কাজ চলছে। পন্টুনটি আমরা ইমপ্রুভ করে দিচ্ছি। আশা করছি সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ৫নং খেয়াঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি ফেরী সার্ভিসটি চালু করা সম্ভব হবে। একটি ফেরী নোঙর করে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ফেরীকে সবসময় স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখতে হয়। তবে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ফেরীঘাটে নভেম্বরের মধ্যে নতুন ফেরী দেয়া হচ্ছে। এখানেও নতুন ফেরী ও পন্টুন দেয়া হবে। এতে করে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি আশাবাদী।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও