একাত্তরের ৩ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গেরিলা হামলা

সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩১ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

একাত্তরের ৩ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গেরিলা হামলা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গেরিলা যোদ্ধারা ঢাকার বিভিন্ন স্থাপনায় অতর্কিত হামলা করে সামরিক জান্তাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেন। সেসব স্থাপনার মধ্যে ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেডিও অফিস, টেলিভিশন কেন্দ্র, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ব্যাংক-বীমা ভবন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বিপণিকেন্দ্র। তাছাড়া সামরিক কনভয় ও ছাউনি, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, টহল দল, মিলিশিয়াদের ওপর অসংখ্য আক্রমণ করেন গেরিলারা। সেই গেরিলা হামলারই একটি ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার ষ্টেশন বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর অভিযানটি চালিয়েছিল গেরিলারা। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন ধ্বংসের লক্ষ্যে গেরিলা অপারেশন চালান মুক্তিযোদ্ধারা। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন অপারেশন ছিল অন্যতম দুঃসাহসিক অপারেশন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্ব এ গেরিলা অপারেশনে অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন সামসুল হক, তার ভাই নূর মোহাম্মদ, এস এ হামিদ। এরমধ্যে সামসুল হক সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিল টারবাইন ফিটার হিসাবে। তার ভাই নূর মোহাম্মদ সিদ্ধিরগঞ্জের বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরই গাড়ী চালক ছিলেন।

একই প্রতিষ্ঠানের সুইচ এটেন্ডেন ছিলেন এস এ হামিদ। কর্মরত থাকাকালীন সময়েই এ প্রতিষ্ঠানে বসে পরিকল্পনা করে গাড়ী চালক নূর মোহাম্মদ ও তার বড় ভাই টারবাইন ফিটার সামসুল হক। নিজেদের জীবন বাজি রেখে বিভিন্ন কৌশলে পাকিস্তানী সেনাদের কড়া নজরদারীর মধ্যে বোমা তৈরীর সরঞ্জাম প্রবেশ করান এ দুইভাই।

সব চলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন ও আলী হোসেনের পরামর্শে। পরে তৈরী করা হয় শক্তিশালী তিনটি বোমা। এরই মধ্যে সকল বাংলাদেশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে ৩ নভেম্বর ভোরে গেরিলাদের পাতা তিনটি বোমা বয়লারের পশ্চিম-দক্ষিনপাশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ফলে সেখানকার চারটি বয়লার ও জেনারেটর-এর আংশিক আগুনে পুড়ে যায়। এতে ডিজেল চালিত ৩০ মেঘাওয়াট সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিকল হয়ে যায়। ফলে ঢাকার ক্যান্টনম্যান্ট, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এ গেরিলা অপাশেনের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন সুইচ এটেন্ডেন এস এ হামিদকে পর দিন পাকিস্তানী সেনারা আটক করে। এছাড়া ২৯ নভেম্বর ম্যান্টনেজ কর্মচারী আলাউদ্দিন মিয়াকে আটক করে পাকিস্তানী হানারদার বাহিনী। পরে আটককৃতদের নির্মম নির্যাতন করা হয়।  দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সামসুল হককে দেয়া হয় বীর প্রতিক সম্মাননা।

গেরিলা অপারেশনের নেতৃত্ব দেওয়া মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ইসমাইল হোসেন ১৯৭১ সালে কমিশন অফিসার হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ২ মাস ট্রেনিং দিয়ে ছিলেন। পরে মাতৃ ভূমিরটানে ক্যান্টম্যান্ট থেকে পাকিস্তানী এক অফিসারের সাথে সখ্য গড়ে পালিয়ে আসেন। এরপর ২নং সেক্টরে সিদ্ধিরগঞ্জ-বন্দর থানার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও